মেইন ম্যেনু

কেমন হবে ননদ-ভাবীর সম্পর্ক

nonod-vabi20161110114637

সম্পর্কের জালে মানুষ জন্ম থেকেই আবৃত। একটা সময় পরপর শুধু এই সম্পর্কে পরিবর্তন আসে। এক সম্পর্কের পিছুটান ফেলে আরেকটি সম্পর্কের হাত ধরতে হয়। সেইসঙ্গে যোগ হয় আরো কিছু নতুন মুখ। সঙ্গে নতুন পরিবেশ, নতুন সম্পর্ক। আর নতুন সব সম্পর্কের মধ্যে অন্যতম সম্পর্ক হচ্ছে ননদ আর ভাবির সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যেমন মধুর হতে পারে তেমনি কখনো কখনো হতে পারে তিক্তও! একটি মেয়ে যখন বিয়ের পরে অন্য একটি পরিবারে আসে তখন তার সঙ্গী থাকে তার স্বামী। আর তার পরেই যদি কেউ থাকে, তা হচ্ছে ননদ। যার সঙ্গে সহজেই এই নতুন পরিবেশ সম্পর্কে, আশপাশের মানুষ সম্পর্কে আর তার নিজেকে নিয়ে সে কথা বলতে পারে।

অনেকেরই একটি ধারণা থাকে যে ননদ এবং ভাবীর সম্পর্ক মানে তাতে তিক্ততা থাকবেই। তবে এটি সব সময় হয়ে থাকে না। অনেক সময় দেখা যায় ননদ এবং ভাবীর বয়সের মধ্যকার বয়সের তেমন পার্থক্য থাকে না। সেক্ষেত্রে কিছু সময় পরে তারা একে অন্যের বন্ধু হয়ে যায়। আর যদি বাড়িতে ছোট আরো কোনো ভাই অথবা বোন না থাকে তবে ভাবীর সঙ্গে ননদের সম্পর্ক খুব জলদি গড়ে ওঠে।

কিছু সময় দেখা যায়, বাড়ির ছোট বোনটি সবার আদরের। সেক্ষেত্রে বাড়িতে যখন নতুন কোনো সদস্য যেমন ভাবী আসে তখন তার মনে সেই আদরের জায়গা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। সে চায় যেন সবাই তাকেই ভালোবাসে। তাই সে চায় বাড়ির সবার নজর তার দিকেই রাখতে। আর সেই মুহূর্তে ভাবীর বলা ভালো উপদেশগুলোও তার কাছে খারাপ লাগতে শুরু করে। ফলে তাদের সম্পর্কে শুরু হয় নানা ঝামেলা।

আবার কিছু ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্যের কারণে একে অন্যকে বুঝে উঠতে পারে না। কাকে কী বলতে হবে তা না বুঝে ওঠার জন্য কথায় কথা বেড়ে তা ঝগড়ায় রূপ নেয়। আর তাতে কখনো কখনো ইন্ধন জোগায় আশপাশের মানুষ।

কিছু ক্ষেত্রে আবার ননদ আর ভাবীর সম্পর্ক হয়ে থাকে মধুরতায় পরিপূর্ণ। যারা চাকরি করেন, তারা একে অন্যের কষ্ট কিছুটা হলেও বেশি বুঝতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাদের মাঝে বোঝাপড়া আর একে অন্যকে সাহায্য করার প্রবণতা বেশি হয়ে থাকে। তাদের মাঝে দেখা যায়, একসঙ্গে কেনাকাটা করা, বাড়ি সামলানো আর বাড়ির ছোটদের সামলানোর ক্ষমতা চলে আসে।

অনেক সময় এটি বোঝাই কঠিন হয়ে যায় যে, তারা কি আলাদা পরিবার থেকে এসেছে, না একই! সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভাবীকেও কিছুটা চটপটে হতে হয়। ননদকে বুঝতে হয়। তাকে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করতে হবে। ননদ-ভাবীর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে একে অন্যের রাগ ভাঙানোর অপেক্ষায় না থেকে বড়দের এগিয়ে এসে রাগ মিটমাট করিয়ে দেওয়া উচিত।