মেইন ম্যেনু

কোটি টাকার বাসভবনে থাকেন না উপাচার্য

efg

এক কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় করে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্যের জন্য বিশাল দোতলা বাসভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরী ওই বাসায় থাকেন না। তিনি থাকেন পাবনা শহরের কাছে দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসভবনে।

এতে সরকারের বছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে প্রায় এক একর জমির ওপর নির্মিত কারুকার্যখচিত বাসভবনটি জনশূন্য হয়ে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ থাকায় ওই বাসভবনটি এখন নানা ধরনের পাখি ও জীবজন্তুর অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

সরকার ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করে। এর প্রায় আট বছর পর ২০০৮ সালের ৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। পাবনা শহরের উপকণ্ঠের রাজাপুর এলাকায় প্রায় ৩০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এর মধ্যে প্রায় এক একর জমির ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের জন্য নতুন দোতলা বাসভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু উপাচার্য সেখানে থাকেন না। তিনি তাঁর থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে তিন কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে পাবনা শহরের দক্ষিণ রাঘবপুর এলাকায় ‘গ্রিন হাউজ’ নামে তিনতলা একটি বাসভবন ভাড়া নেন। মাসে বাসার ভাড়া এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ভাড়াসহ মাসে মোট দেড় লাখ টাকা খরচ হয়। বাসার নিচতলায় গ্যারেজ ও নিরাপত্তারক্ষীরা থাকেন। দ্বিতীয় তলায় পাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সংস্থাপন অফিস, কাউন্সিল অফিস ও উপাচার্যের অফিস। এসব অফিস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও আছে। আর উপাচার্য থাকেন ভবনের তৃতীয় তলায়।

পাবিপ্রবির কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষগুলো ফাঁকা রেখে উপাচার্য ব্যক্তিগত সুবিধার্থে সেই ভাড়া বাসায় সব দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন। এ জন্য দাপ্তরিক ফাইল ক্যাম্পাস থেকে দক্ষিণ রাঘবপুরের বাসায় আনা-নেওয়া করতে হয়। এতে দাপ্তরিক কাজের গতিশীলতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত যানবাহনের জ্বালানিসহ যাতায়াত খরচ অপব্যয় হচ্ছে। বাড়ি ভাড়া, যানবাহন খরচ, নিরাপত্তা বিলসহ অন্যান্য খরচ মিলে প্রতিবছর সরকারের প্রায় ২৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

পাবিপ্রবির অর্থ ও হিসাব দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপন প্রকল্প অনুযায়ী প্রথম প্রজেক্টের কার্যক্রম গত বছর শেষ হওয়ার পরও ক্যাম্পাসের বাইরে বাসা ভাড়ার মাধ্যমে অর্থ অপচয়ের ব্যাপারে এরই মধ্যে নিরীক্ষা আপত্তি দাখিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ঢাকার নির্ধারিত নিরীক্ষা দল।

এসব বিষয়ে পাবিপ্রবির অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হোসেন বলেন, ‘ভাড়া বাসা ত্যাগ করে ক্যাম্পাসের নির্ধারিত ভবনে আসার ব্যাপারে বহুদিন ধরে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়ে আসছি। এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আল-নকীব চৌধুরীর কাছে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত লিখিত স্মারকলিপিও পেশ করা হয়েছে। তারপরও কোনো অগ্রগতি হয়নি। উপাচার্য নিরাপত্তাসহ নানা সমস্যার অজুহাতে বারবার পাশ কাটিয়ে গেছেন। ক্যাম্পাসের ছাত্রীহলে ২৩৭ জন ছাত্রী বসবাস করছেন। তাঁরা যদি নিরাপদভাবে থাকতে পারেন, তাহলে নিরাপত্তার দুশ্চিন্তা কীভাবে আসে।’

এ ব্যাপারে জানতে উপাচার্য আল-নকীব চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন ধরেননি।

উপাচার্য-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নিরাপত্তার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নতুন বাসভবনে থাকতে চান না। তা ছাড়া তাঁর স্ত্রী-সন্তানরা ঢাকায় থাকেন। প্রায় প্রতি সপ্তাহে উপাচার্য ঢাকায় যান।