মেইন ম্যেনু

‘কোন ধর্ষক বেশি সুখ দিয়েছিল?’ ধর্ষিতাকে পুলিশের প্রশ্ন!

দু’বছর আগে তিরুঅনন্তপুরমে গণধর্ষণের শিকার হওয়া এক গৃহবধূর কথা ফেসবুকে প্রকাশ করে কেরলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন ডাবিং শিল্পী ভাগ্যলক্ষ্মী। দু’বছর চুপ করে থাকার পরে ভাগ্যলক্ষ্মীর শরণাপণ্ণ হয়েছিলেন ওই নির্যাতিতা। পুলিশে অভিযোগ জানাতে গিয়ে সাহায্য পাওয়া দূরে থাক, উল্টে অস্বস্তিকর প্রশ্ন করে নির্যাতিতার মানসিক যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল কেরলের পুলিশ। ঘটনার দু’বছর পরে ভাগ্যলক্ষ্মী নির্যাতিতাকে বুঝিয়ে অত্যাচারের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। এবারে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল কেরল পুলিশের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় নাম জড়াল পি এন জয়ন্থন নামে কেরলের এক সিপিএম কাউন্সিলরেরও। অভিযোগ, যে চারজন এই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এই সিপিএম কাউন্সিলর। এরা সবাই ওঅ মহিলার প্রতিবেশী।

ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই গোটা কেরলে হইচই পড়ে গিয়েছিল। এমনকী, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরও বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। এই ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে বৃহস্পতিবার ওই নির্যাতিতাকে নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন ভাগ্যলক্ষ্মী। সেখানে নির্যাতিতার স্বামীও উপস্থিত ছিলেন। এই সাংবাদিক বৈঠকেই চার অভিযুক্তের নামই প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। পি এন জয়ন্থন নামে ওই সিপিএম কাউন্সিলর ছাড়াও বিনীশ, শিবু এবং জনিশ নামে চারজন অভিযুক্তের নাম বলা হয়েছে। এই চার প্রতিবেশীই দু’বছর আগে ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেছিল। নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ২০১৪ সালে হঠাৎই একদিন এই চারজন তাঁর বাড়িতে গিয়ে জানায়, তাঁর স্বামী দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। এই বলে তাঁকে এক জায়গায় নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে এই চার অভিযুক্ত। কিন্তু ঘটনার পরে প্রভাবশালী কাউন্সিলর-সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশকে অভিযোগ জানিয়েও কাজের কাজ হয়নি। যেহেতু ওই গৃহবধূর পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং নির্যাতিতার স্বামীও প্রতিবাদের সাহস দেখাতে পারেননি, সেই সুযোগে মহিলার উপরে মানসিক নির্যাতন শুরু করে পুলিশ। ৩২ বছর বয়সি নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, পেরামঙ্গলম থানায় চারদিন ধরে বসিয়ে রেখে তাঁদের সঙ্গে কুকুরের মতো আচরণ করা হয়। অভিযোগ, ঘটনার বিবরণ জানার জন্য একের পরে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতে শুরু করে থানার সার্কেল ইন্সপেক্টর। অভিযোগ, ‘কোন ধর্ষক তাঁকে বেশি তৃপ্তি দিয়েছিল?’, এমন অমানবিক প্রশ্নও তাঁকে করেছিল পুলিশ। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে একের পরে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা হত। এমনকী, বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার জন্যেও ওই সার্কেল ইন্সপেক্টর তাঁর উপরে চাপ দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা। এই মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিয়েছিলেন নির্যাতিতা এবং তাঁর স্বামী। তিন সপ্তাহ আগে ডাবিং শিল্পী ভাগ্যলক্ষ্মীর সঙ্গে যোগাযোগের পরেই বিচারের আশা দেখতে পান তিনি। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের ডিজি-র সঙ্গে দেখা করে সিপিএম কাউন্সিলর-সহ চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা গৃহবধূ।

ওয়ারাকাঞ্চেরি পুরসভার অভিযুক্ত সিপিএম কাউন্সিলর এবং অভিযুক্ত সার্কেল ইন্সপেক্টর দু’জনেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। জয়ন্থন নামে ওই সিপিএম কাউন্সিলরের দাবি, ধার দেওয়া টাকা ফেরত চেয়েছিলেন বলেই ওই মহিলা তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের দফতর থেকে অবশ্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তরা দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।