মেইন ম্যেনু

কড়া নজরদারির ভেতরেই চলছে পর্নোগ্রাফি ব্যবসা

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া তৎপরতার মধ্যেও রাজধানীসহ সারাদেশে পর্ণোগ্রাফির ব্যবসা বাড়ছে। শিশু, কিশোরী, তরুণী, স্কুল-কলেজ, মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও গৃহবধূদের নানাভাবে ফুঁসলিয়ে নিয়ে ধর্ষণসহ পাশবিক নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা করছে দুষ্কৃতকারীরা।

এধরনের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের পরও নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। দেশের মানবাধিকার নেত্রীরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর জন্য এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এসব পর্নোগ্রাফির ভয় দেখিয়ে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ওই প্রতারকরা।

পর্নোগ্রাফি প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ও বিপুল পরিমাণ পর্নোছবি উদ্ধার করলেও তাদের অপতৎপরতা থামছে না। আর নির্যাতিত শিশু, কিশোরী ও গৃহবধূর পরিবার মানসম্মানের ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বাধ্য হয়ে লাখ লাখ টাকা ও স্বর্নালংকার দিয়ে দিচ্ছেন।

পর্নোগ্রাফি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করা হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তারা ঘটনার মূল নায়কদের শনাক্ত বা আইনের আওতায় আনতে পারছে না। ফলে একের পর এক এসব পর্নোগ্রাফি সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। আর এসব ঘটনায় নির্যাতিতরা বিচার না পেয়ে লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

জানা গেছে, গত ১৯ এপ্রিল কুষ্টিয়া মডেল থানায় তথ্য প্রযুক্তি ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে নির্যাতিত এক মেডিকেল ছাত্রী মামলা দায়ের করেন। মামলাটি কুষ্টিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রবিউল ইসলাম তদন্ত শেষে গত ২৯ অক্টোবর অভিযুক্ত মমিনুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এ মামলার আসামি আমিনুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। এছাড়া ২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ভিকারুননিসা নূন এন্ড কলেজের স্কুলের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে তার কথিত প্রেমিক স্কুল থেকে নিয়ে যায়। এরপর তার মা ১১ ফেব্রয়ারি রমনা থানায় মামলা করেন। পরে ছাত্রীর প্রেমিক রাজিব তাকে ধর্ষণের ভিডিও করে তার পর্নোছবি বানায়। এঘটনার পর জাবেদ শহিদুল ওরফে ইকবাল (৪০) ও ফরহাদ ওরফে মিথুন নামে দুই যুবক ওই ছাত্রীর বাসার কাছে পেনড্রাইভের মাধ্যমে পর্নোছবি পাঠিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। পরে পুলিশ তাদের ২ জনকে গ্রেফতার করে। এর আগে ওই ছাত্রীর পর্নোছবি প্রদর্শনের ভয় দেখিয়ে ১৩/১৪ ভরি স্বর্নালংকার হাতিয়ে নেয়। ওই ছাত্রীর বাবা একটি সুনামধন্য ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি মানসম্মানের ভয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা পয়সা দিয়েছেন।

এদিকে ২০১৪ সালের ১০ ও ১১ জুন খিলগাঁও, মুগদা এবং গোড়ান এলাকায় সিআইডি পুলিশের অর্গানাইজড ক্রাইম এর একটি টিম অভিযান চালিয়ে টিপু কিবরিয়া ও তার তিন সহযোগী নুরুল আমিন, নুরুল ইসলাম ও সাহারুলসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। এসময় স্থানীয় একটি স্টুডিওতে আপত্তিকর অবস্থায় ১৩ বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পর্নোগ্রাফি তৈরির নায়ক টিপুর বাসা ও স্টুডিও বিপুল পরিমাণ পর্নো সিডি, আপত্তিকর স্থির ছবি বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

সূত্র জানায়, চলচ্চিত্রের নায়িকা পরিচয়ে দিয়ে এক শ্রেণীর ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে কথিত নায়িকার আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র। এসব চক্র ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছে পর্নোগ্রাফির ছবি দেখিয়ে সামাজিকভাবে নাজেহাল করার ভয় দেখিয়ে ফায়দা হাসিল করছে। এরকম বেশ কয়েকটি ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রতারণার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করেছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, পর্নোগ্রাফি নিষিদ্ধ ও অপরাধ। এসব ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাক না কেন। তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সমাজের নানা পেশার লোকজনকে একশ্রেণীর প্রতারক লোকজন জিম্মি করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।