মেইন ম্যেনু

গর্ভপাত সম্পর্কে কী জানায় হিন্দুধর্ম?

aa

গর্ভপাত নিয়ে পৃথিবীর প্রায় সব প্রধান ধর্মমতই নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্ম, ইসলাম ইত্যাদির গর্ভপাত-বিরোধী জেহাদের কথা সর্বজনবিদিত। কিন্তু, হিন্দুধর্মে কী চোখে দেখা হয়েছে গর্ভপাতকে, তা সচরাচর আলোচনাবৃত্তে আসে না। আসে না এই কারণেই যে, হিন্দু সনাতন ধর্মের কোনও একটি মাত্র কেন্দ্রীয় সংগঠন নেই, যা তার নৈতিক বিধিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কিন্তু তাই বলে গর্ভপাতের মতো এক জটিল সামাজিক সমস্যাকে সে তার চিন্তাবৃত্তে স্থান দেবে না, এমন হতে পারে না।

সুলুকসন্ধান করতে বসলে দেখা যায়, গর্ভপাত এক অতি প্রাচীন সমস্যা। হেনরি লুইস মর্গানের মতো ১৯শতকীয় গবেষকদের অনুসরণ করে বলা যেতেই পারে, ব্যক্তিগত সম্পত্তির উন্মেষ থেকেই জন্ম নেয় অধিকার সংক্রান্ত বোধ। সন্তানের ‘বৈধতা’ নিয়ে ভাবিত হয়ে পড়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। সেখান থেকেই গর্ভপাত বা ভ্রূণহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। ভারতীয় মহাকাব্যে অবশ্য অজস্র উদাহরণ রয়েছে তথাকথিত অবৈধ সন্তানকে জন্ম দেওয়ার ও পরে তাকে বর্জন করার। কিন্তু এমনটা অনুমান করাই যায়, কোনও কোনও ক্ষেত্রে জাত সন্তানকে বর্জন করা যেখানে চলিত ছিল, সেখানে গর্ভপাত একটা নৈমিত্তিক ব্যাপার হতেই পারে।

• হিন্দু সনাতন ধর্মে এমন বিশ্বাস রয়েছে যে, অবিনশ্বর আত্মা ৮৪ লক্ষ যোনি ভ্রমণের পরে জন্মান্তরচক্র থেকে অব্যাহতি পায়। সে কারণে ‘জন্ম’ একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গর্ভপাত সেই জন্মচক্রে ছেদ ঘটায়। আত্মা তার স্বাভাবিক গতি থেকে বিচ্যুত হয়।

• হিন্দু স্মৃতিশাস্ত্রে ভ্রূণহত্যাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেবল প্রসূতির প্রাণসংশয় ঘটলে গর্ভপাতের বিধান দেয় আয়ুর্বেদ। স্মৃতিশাস্ত্র তাকে স্বীকার করে।

• ঋগ্বেদ, কৌশিতক উপনিষদ, অথর্ববেদ একযোগে ভ্রূণহত্যাকে ‘মহাপাপ’ বলে বর্ণনা করে। এবং পরলোকে এর জন্য চরম শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে বলে জানায়।

• ঐতিহ্যকে মান্যতা দিয়ে মহাত্মা গাঁধী থেকে শুরু করে ইসকন-প্রতিষ্ঠাতা শ্রীপ্রভুপাদ পর্যন্ত গর্ভপাতের বিরুদ্ধে আধুনিক কালেও সরব থেকেছেন।