মেইন ম্যেনু

গানই কাল হলো গায়িকা সালমার

salma-devorce20161126194406

ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন সংগীতশিল্পী সালমা। সালমার কণ্ঠে গাওয়া ‘বানিয়া বন্ধু’ কিংবা ‘এক নয়ন তো দেখে নারে’ গানগুলো এখনো মানুষের মুখে ফিরে।

২০০৯ সালের শীতকালের । নিতান্তই কিশোরী ছিলেন সালমা। গিয়েছিলেন গান করতে দিনাজপুরের স্বপ্নপুরীতে। তার গান শুনে মুগ্ধ হন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার তৎকালীন চেয়ারম্যান শিবলী সাদিক। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য। প্রায় দুই বছর চলে প্রেম। এরপর ২০১১ সালে পারিবারিকভাবেই সালমাকে বিয়ে করেন শিবলী।

জগৎখ্যাত গায়িকা হবার বাসনা নিয়ে গরিব ঘরের যে মেয়েটি শহরে পা রেখেছিলো ক্লোজআপ ওয়ানের আহ্বানে সেই সালমার স্থান হলো রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি পরিবারে। শিল্পী সালমা হারিয়ে গেলেন সংসার আর রক্ষণশীলতার বেড়াজালে। এই পাঁচ বছরে তিনি গানের জন্য না যতো আলোচনায় এসেছেন তারচেয়ে বেশি এসেছেন সংসার, স্বামী আর সন্তান জন্ম দিয়ে। অনেক শ্রোতাই ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন মনে। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মতো গুণী মানুষের স্নেহধন্য এই সম্ভাবনাময়ী গায়িকার হঠাৎ নীরবতায় আহত হয়েছিলেন অনেক সংগীতবোদ্ধাই। তবু সুখে থাকুক সালমা। ছোট্ট জীবনে একটু সুখের জন্যই তো যতো আকুতি-মিনতি। ধারণা করে অনেকেই বলছিলেন, সালমাকে গান করতে দিতে চান না তার স্বামী। তাই সংসারেই মনোনিবেশ করেছেন তিনি।

কিন্তু চলতি বছরের মাঝামাঝি হঠাৎ করেই গান নিয়ে আলোচনায় আসেন সালমা। এর আগে বেশ কয়েকবার করবো করবো বলে করা না হলেও এবার সত্যি সালমা গান করলেন ‘হায়রে পরানের বন্ধু’ শিরোনামে। তখন থেকেই বাতাসে ভাসছিলো স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে সালমার। অবশেষে সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো। আজ শনিবার (২৬ নভেম্বর) সালমা নিজেই জানালেন, পারিবারিকভাবেই বিচ্ছেদ হয়েছে তার।

ডিভোর্সের কারণ হিসেবে সালমা জানান, যে গানের কারণে শিবলী সাদিক তাকে পছন্দ করেছিলেন সেই গানের জন্যই ডিভোর্স হয়ে গেল। তিনি চান না তার স্ত্রী গান করে বেড়াক। কিন্তু আপাদমস্তক শিল্পী সালমা গান থেকে দূরে থাকতে রাজি নন। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। সংসারে নেমে আসে অশান্তি।

সালমা কাঁদতে কাঁদতে এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন, ‘গান করা নিয়ে শিবলীর ঘোর আপত্তি। সে কিছুতেই আমার গান করাকে মেনে নিতে পারে না। তার কথা হলো ঘরে বসে থাকো। সংসার দেখো। আমি অনেক বুঝিয়েছি। সংসার, সন্তান দেখাশোনা করেও গান করা যায়। কিন্তু সে কিছুতেই মানবে না। আমাকে গান ছাড়তেই হবে।’

তিনি আরো যোগ করে বলেন, ‘তবুও আমি নারী বলেই হয়তো সংসারের সঙ্গেই আপস করতে চেয়েছিলাম। একটি সন্তানও হয়েছে আমাদের। কিন্তু ও নানা কারণেই আমাকে কটু কথা বলতো। মারধরও করতো। আর আমার পরিবার গরিব বলে, বাবা-মা নিয়ে বাজে মন্তব্য করতো। ও এমনই অহঙ্কারী জামাই, এই পাঁচ বছরে একদিনও আমার বাবাকে সালাম পর্যন্ত দেয়নি। এমন একজন মানুষের সঙ্গে কীভাবে সংসার করা যায় আমার জানা নেই। বাধ্য হয়েই ডিভোর্স নিতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি আমার আগে সে আরো একটি বিয়ে করেছিল। সেখানেও তার একটি সন্তান আছে। আমি শান্তি চাই। আমি মেয়েকে নিয়ে ভালো থাকতে চাই। আমি কোনো বিবাদ চাই না। অনেক চেষ্টাই করেছি সংসার টিকিয়ে রাখতে। শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়তেই হলো।’

সবার কাছে দোয়া চেয়ে সালমা বলেন, ‘মানুষ ভুল করে। মানুষই তা শুধরে নেয়। নিজের সুখের আশায়, বাবা-মায়ের দিকে তাকিয়ে আমি বিয়ে করেছিলাম। গান, গানের গুরু, ভক্তদের কথা ভাবিনি। সেই শাস্তিটাই তো পেয়ে গেলাম। যাই হোক, কাউকে দোষ দেই না আমি। কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও নেই। আমি নতুন করে সবকিছু শুরু করতে চাই। আবারো গানে নিয়মিত হতে চাই। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

সালমা নিশ্চিত করে জানান, সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বামী শিবলী সাদিকের সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছে তার। সালমা-শিবলী দম্পতির একমাত্র সন্তানের নাম স্নেহা। দাম্পত্য কলহের কারণে সে গেল চার মাস ধরে বাবা শিবলীর কাছেই ছিল। তবে ডিভোর্সের আইন অনুযায়ী এখন থেকে মেয়ের ওপর বাবা ও মা দুজনই সব রকম যোগাযোগের অধিকার পাবেন।



« (পূর্বের সংবাদ)