মেইন ম্যেনু

গুলিস্তানের ফুটপাত ফের হকারদের দখলে

11117fb3a841befe4c6dde63ff6c64aa-581342b9b9794

সিটি করপোরেশনের বড় ধরনের অভিযানের পর আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে গুলিস্তানের ফুটপাত ও সড়ক। শুক্রবার সকাল থেকে হকাররা যথারীতি নিজ নিজ স্থানে মালামাল সাজিয়ে বসে যান। তাদের কারণে যান চলাচলে বিঘ্নের সৃষ্টি হলেও সেদিকে কারও খেয়াল নেই। অন্যদিকে পুলিশও কিছু বলছে না।

শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের প্রবেশ মুখ থেকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কোয়ার হয়ে গোলাপশাহ মাজার পর্যন্ত সড়কের দু’ধারে অসংখ্য হকার বসেছেন। অনেকে নতুন করে ছাউনী বানাচ্ছেন।

গুলিস্তান কমপ্লেক্স থেকে গোলাপশাহ মাজার পর্যন্ত সড়কের অর্ধেক চলে গেছে হকারদের দখলে। সড়কের এ অংশ বন্ধ করে কাপড়, জুতা, ফলসহ নানা পণ্যের বাজার বানানো হয়েছে। পাতাল সড়ক বলে পরিচিত গুলিস্তান আন্ডারপাসের প্রবেশপথ বেলা একটায় বন্ধ দেখা গেছে। এ কারণে সেখান দিয়ে কোনও পথচারী চলাচল করতে পারেননি।

আলাপকালে ভোলার নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘বহু বছর ধরে গুলিস্তানের ফুটপাত-সড়কে ফল বিক্রি করি। এ জন্য প্রতিদিন চাঁদা দিতে হয়। এখানে না বসলে বসবো কোথায়?’ কাকে চাঁদা দেন জানতে চাইলে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের অভিযানের সময় তার কিছু মাল ক্ষতি হয়েছে। বাকিগুলো নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পেরেছিলেন।’ তিনি জানান, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কিছু হকার যথাস্থানে ফিরে এসেছিল।’

ছিন্নমূল হকার্স সমিতির নেতা কামাল সিদ্দিকী বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পাতাল মার্কেটের লোকজন নগরভবনে ঝামেলা করে। এরপর সিটি করপোরেশনের লোকজন এসে রাস্তার হকারদের উচ্ছেদ করে দেয়। ভুল বোঝাবুঝির কারণে উচ্ছেদের ঘটনা ঘটে।’ তিনি জানান, ‘গুলিস্তান, ফুলবাড়িয়া, বায়তুল মোকাররম ও পল্টন এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হকার রয়েছে। উচ্ছেদ করলে এদের অনেক অসুবিধা হবে। এমনিতেই বৃহস্পতিবারের অভিযানে প্রতিটি হকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।’

গুলিস্তানের ফুটপাত ও সড়ক দখল হলেও পুলিশকে কিছু বলতে বা তৎপরতা চালাতে দেখা যায়নি। বরং পুলিশ নিরাপদ স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর মোস্তফা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ সদস্য বলেন, এই প্রশ্ন পুলিশকে না করে রাজনৈতিক নেতাদের করুন।

সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুলিস্তানে আবারও বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। এর আগে শনিবার দুপুরে মেয়র ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি মতবিনিময় করবেন। সভায় বৃহস্পতিবারের অভিযান এবং হকারমুক্ত ফুটপাত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ বিষয়ে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে গুলিস্তান পাতাল সড়কে (আন্ডারপাস) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পাতাল সড়কে মালামাল রাখার দায়ে কয়েকজন দোকান মালিককে জরিমানা করে এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগে আনোয়ার হোসেন নামে দোকান মালিক সমিতির এক নেতাকে আটক করে নগরভবন নিয়ে যায়। দোকান মালিকরা এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু স্কোয়ার অবরোধ করে রাখেন। কিছুক্ষণ পর তারা নগরভবনে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। তখন সিটি করপোরেশনের ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা দোকান মালিক ও কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় ফাঁকা গুলির আওয়াজ শোনা যায়।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে তিনটায় দ্বিতীয় দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় গোলাপশাহ মাজার থেকে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখ পর্যন্ত সড়কে। এ অভিযানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মীরা অংশ নেন। অভিযানে সড়কের দু’পাশে ফুটপাতে নির্মিত হকারদের সব ছাউনী বুলডোজার দিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন হকারকে মারধর করা হয়। অভিযান শেষে মেয়র ঘোষণা দেন, কাউকে সড়ক দখল করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।