মেইন ম্যেনু

গ্যাস সংকটে ভোগান্তিতে পুরান ঢাকাবাসী

govt-plans-95-percent-gas-price-hike

রাজধানীর পুরান ঢাকায় প্রচণ্ড গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে ঠিক মতো রান্না করতে পারছেন না পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার ফোন করা হলেও গ্যাস সংকট নিরসন হচ্ছে না।

শুক্রবার পুরান ঢাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানান, গত মাস (অক্টোবর) থেকে আরমানিটোলা, নীমতলী, নয়াবাজার, গোপীবাগ, টিকাটুলী, আর কে মিশন রোড, স্বামীবাগ, ভোলানাথগিরি মন্দির, সূত্রাপুরের এস কে দাস রোড, বানিয়ানগর, ঠাকুর দাস লেন, পাতলা খান, শ্রীশ দাস লেন, শাঁখারীবাজার, পানিটোলা, যদু বসাক লেন, গোয়ালনগর, তাঁতীবাজারের লেনসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বলতে গেলে বন্ধ রয়েছে। অনেকে কেরাসিনের স্টোভ ও মাটির চুলায় রান্না করছেন। আবার অনেকে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।

গোয়ালনগরের বাসিন্দা মানিক লাল ঘোষ বলেন, ‘প্রায় এক মাস ধরে এই এলাকায় গ্যাস নেই। সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। রান্না করে খাওয়া যাচ্ছে না। হোটেল থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। একাধিকবার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অফিসে অভিযোগ করেছি। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

আরমানিটোলার বাসিন্দা সৈয়দা আছিয়া রুহি বলেন, দিনে গ্যাস থাকে না। গভীর রাতে গ্যাস আসে। হোটেল থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে একাধিকবার তিতাসে অভিযোগ করেছি। কিন্তু কাজ হয়নি।
তিনি বলেন,‘এখন আমাদের হোটেলের খাবার খেয়ে গ্যাসট্রিকসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ছেলে-মেয়ে এসব খাবার খেতে চাচ্ছে না। তাই সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, বাসা-বাড়িতে গ্যাস দিন।’

পুরান ঢাকার নীমতলী এলাকার বাসিন্দা মারুফ হাসান বলেন, প্রতিদিন ভোর ৬টার পর থেকে গ্যাস থাকে না। রাত ১১ টার পর গ্যাস আসে। গ্যাস দিনে না থাকায় বাসায় রান্না হয় না।

তিনি বলেন, অনেকে মাটির চুলায় রান্না করেন। তিতাস গ্যাস অফিসে বার বার ধর্ণা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, পুরান ঢাকার গ্যাসের লাইন অনেক পুরোনো। পাইপ লাইনে এক ধরনের প্রলেপ পড়ায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাসের প্রেসার বাড়ানোর জন্য কাজ চলছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) আলী আশরাফ বলেন , গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবোরাহ কম থাকায় গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। পুরান ঢাকাসহ যে সব এলাকায় গ্যাসের চাপ কম, সে সব এলাকায় গ্যাস সরবোরাহ বাড়ানোর জন্য কাজ চলছে।