মেইন ম্যেনু

ঘরে বসে করা উর্বরতার পরীক্ষা সত্যিই কি কার্যকর?

মাসিক ঋতুচক্রের গতিপথ অনুসরণকারী অ্যাপস এবং ঘরে ব্যবহৃত কিট যা একজন নারী ডিম্বাণু উৎপাদন করছে কিনা বা কোনো পুরুষ শুক্রাণু ঘাটতিতে ভুগছেন কিনা তা বলে দেয় এ দুটির মধ্যে যুগলদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি বিকল্প তৈরি হয়েছে যার ফলে তাদের আশান্বিত হওয়ার কারণও বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ৮টি যুগলের মধ্যে একটি যুগল গর্ভধারণ নিয়ে রীতিমতো সংগ্রামে লিপ্ত হয়। আর ২০২০ সালের মধ্যে উর্বরতা পরীক্ষার ডিভাইসের বাজার ২১৬.৮ মিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে। মার্কেটস অ্যান্ড মার্কেটস এর এক প্রতিবেদন থেকে এমনটাই জানা গেছে।

ডিম্বস্ফুটন নিয়ে পূর্বানুমানকারী কিট যে নারীদের নিয়মিতভাবে মাসিক ঋতুচক্র হয় তাদের যৌন মিলনের উপযুক্ত সময় নির্ণয়ে সহায়তা করে। তবে বিশেষজ্ঞরা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এই কিট ব্যবহারে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ডিম্বস্ফুটন পূর্বানুমানকারী কিট সে নারীর ক্ষেত্রেই কার্যকর যে নারী ইতিমধ্যেই স্বাভাবিকভাবে ডিম্বস্ফুটন করছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
কিটগুলো অনেক সময় একটি ভুয়া ইতিবাচক রিডিং দিতে পারে। উদাহরণত, যেসব নারীর পিসিওএস আছে তাদের গ্রোথ হরমোন এর মাত্রা সবসময়ই বাড়তে পারে।

এটি ব্যাবহারের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো, নারীরা এটি ব্যবহারের দিক-নির্দেশনা সঠিকভাবে নাও পড়তে বা অনুসরণ করতে পারেন। আর যেহেতু এরা সংবেদনশীল টেস্ট সেহেতু যদি নারীরা কিটগুলো তাদের মাসিক ঋতুচক্রের ভুল সময়ে বা ভুল অংশে ব্যবহার করে এগুলো ভূলও হতে পারে।

ফার্টিলিটি অ্যাপস নারীদেরকে তাদের ডাক্তারকে নিজেদের মাসিক ঋতুচক্রের ইতিহাস এবং তথ্য সরবরাহেও সহায়তা করতে পারে যখন তারা চিকিৎসা করাতে যাবেন। তবে এদেরও ত্রুটি আছে।

এছাড়া গুটিকা উত্তেজক হরমোন পরিমাপ করার জন্যও একটি ঘরোয়া পরীক্ষা পদ্ধতি রয়েছে। এই হরমোন ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করে ডিম্বাণু উৎপাদন করে।

এ পদ্ধতি যারা ব্যবহার করে তাদের এক চতুর্থাংশকেই অনুর্বর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। তবে এরা গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য নারীদের চেয়ে খুব বেশি সমস্যাগ্রস্ত হননি।

সন্তান না হওয়ার জন্য নারীদেরকেই বেশি দায়ী করা হলেও ৪০% যুগলের সন্তান না হওয়ার পেছনে পুরষরাই দায়ী। এই সমস্যা মোকাবেলায় অল্প কিছু কম্পানি রয়েছে যারা ঘরে বসে শুক্রাণু পরীক্ষা করার পদ্ধতি সরবরাহ করে।

এই পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করে বীর্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনুর্বরতায় আক্রান্ত পুরুষদের অন্ডকোষ, কোলোন ও মলাশয়, মেলানোমা এবং প্রস্টেট ক্যান্সারজনিত কোনো সমস্যা থাকলে তাও শনাক্ত করা সম্ভব হয়। ফলে যারা সহজে ডাক্তার দেখাতে চান না তাদের জন্য এই পরীক্ষা পদ্ধতি চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহ যোগাবে।

সুত্র: ফক্স নিউজ