মেইন ম্যেনু

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য সুবর্ণজয়ন্তী

2016-11-05-02-34-11

সাফাত জামিল শুভ, চবি প্রতিনিধি : আসছে আগামী ১৮ই নভেম্বর দেশের উচ্চশিক্ষার বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পার করবে ইতিহাস,ঐতিহ্য, সাফল্য আর গৌরবের ৫০ বছর।সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করতে যাচ্ছে দুদিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার। প্রবীন-নবীনদের মিলন মেলার অভূতপূর্ব দৃশ্যের জন্য ক্যাম্পাস অপেক্ষা করছে উৎসবের আমেজ নিয়ে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

১৯৬৬ সালের ১৮ই নভেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী উপজেলায় ১৭৫৬ একর ভূমির উপর পাহাড়বেষ্টিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। আয়তনের দিক থেকে এটি দেশের সর্ববৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। উল্লেখ্য এটিই বিশ্বের একমাত্র বিদ্যাপীঠ যেখানে শিক্ষার্থী পরিবহণের জন্য রয়েছে নিজস্ব শাটল ট্রেন।

এটি শুধুমাত্র অন্যতম উচ্চশিক্ষাকেন্দ্রই নয়, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিও বটে। এখানে আছে- রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুর আদলে সেতু,কলা অনুষদ লেক,বোটানিক্যাল গার্ডেন, প্রাকৃতিক ঝরনা,নজড়কাড়া চালন্দা গিরিপথ, বুদ্ধিজীবি চত্বর, গোল পুকুর, সুবিশাল খেলার মাঠ, দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার এবং ছোট-বড় অনেক পাহাড় ও পাহাড় কেটে বানানো রাস্তা। উল্লেখ্য এ বিশ্ববিদ্যালয়েই নির্মিত হবে দেশের প্রথম আইসিটি পার্ক। আর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী হবে দেশের প্রথম বৃহত্তম ই-লাইব্রেরী।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৭টি অনুষদের অধীনে ৪৩টি বিভাগ এবং ৭টি ইনস্টিটিউট আছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার, শিক্ষক আছেন প্রায় ১০০০ জন। ছাত্রদের জন্য রয়েছে ৬টি আবাসিক ছাত্রাবাস ও মেয়েদের জন্য আছে ৪টি ছাত্রীনিবাস।এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নামে একটি ছাত্রাবাস চালুর অপেক্ষায় আছে।

গত ৫০ বছরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য মেধাবী সৃষ্টি করেছে যারা দেশ ও দেশের বাইরে স্ব স্ব ক্ষেত্রে কৃতিত্বের সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হচ্ছেন- দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনূস যিনি ছিলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক, স্বনামধন্য আইনজ্ঞ এবং প্রধান বিচারপতি এস.কে সিনহা ছিলেন আইন বিভাগের ছাত্র,ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গর্ভনর ফজলে কবির এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই সন্তান।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ২ দিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানসূচী

১৮ ই নভেম্বর বিকাল তিনটায় চারুকলা ইনষ্টিটিউট, বাদশা মিয়া রোড থেকে র‍্যালী শুরু হয়ে শেষ হবে সিআরবি শিরিশ তলায়। পরবর্তীতে জিইসি কনভেনশন সেন্টারে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মানে সংগীত ও মেজবানের আয়োজন থাকবে। ১৯শে নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী মনোরম অনুষ্ঠান হবে। এদিন উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তৃতা দেবেন এমিরেটস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

এদিন নির্বিঘ্ন যাতায়াতের জন্য তিনটি ট্রেন সকাল সাতটা থেকে দশটা পর্যন্ত আধ-ঘন্টা পরপর শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করবে। একইভাবে বিকেল চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরে যাওয়া-আসা করবে। এছাড়াও পঁচিশটি বিআরটিসি ডাবলডেকার বাস সকাল আটটা থেকে শহর-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করবে। যদিও শহর থেকে যাত্রা শুরুর স্থান এখনো নির্ধারণ হয়নি।

বিভাগ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক বুথের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি বুথ থেকে ২০০ জনের জন্য ব্যাগ, স্যুভিনিয়র, সকালের নাস্তা প্রদান করা হবে।

প্রাক্তন ছাত্রদের জন্য মাঠের পাশেই প্যান্ডেলে বসে গরম খাবারের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতি ব্যাচে ২০০০ জনের খাবার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা গেছে।

অপর একটি সূত্র জানিয়েছে- বর্তমান ছাত্রদের (রেজিঃকৃত) জন্য একই মানের খাওয়া টোকেন মূল্যে হলে হলে ব্যবস্থা করা হবে। আগেই ডিপার্টমেন্ট ওয়ারী কুপন ছাত্রদের কাছে পৌঁছানো হবে।

দুপুর বারটা থেকেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। সন্ধ্যায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পারফর্ম করবে ওয়ারফেজ, লালন এবং আর্টসেল ব্যান্ড। এছাড়াও পার্থ বড়ুয়া, এস.আই টুটুল, তপন চৌধুরী এবং দিনাত জাহান মুন্নী গান পরিবেশন করবেন বলে জানা যায়।