মেইন ম্যেনু

চার্চ অব ইংল্যান্ডের কেয়ার হোমে যেভাবে চলে ধর্ষন

crac-c

তেরেসা সর্বশক্তি দিয়ে বাধা দিতেন কিন্তু তাতে কোন কাজ হতনা। ছয়জনে তাকে জোর করে মাটিতে চেপে ধরত। এরপর তাকে চেতনানাশক ইনজেকশন দেয়া হত। এভাবে তিন বছরে মোট ১২৪৮ বার ইনজেকশন দিয়ে তাকে অচেতন করা হয়েছে। ধর্ষন করা হয়েছে অসংখ্যবার।

একজন ডাক্তার মানসিক চিকিৎসার ওষুধের পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য এভাবে তেরেসা এবং তার মত আরো বেশ কয়েকজন অল্প বয়সী মেয়েকে ব্যবহার করেছেন। তেরেসা জানান, তার ওপর ওষুধের পরীক্ষা চালানো সময় তিন বছরে তাকে অসংখ্যবার ধর্ষণ করা হয়েছে। তার ওপর মানসিক চিকিৎসার ওষুধ পরীক্ষার ফলে মোট আটবার তার গর্ভপাত হয়েছে। এর মধ্যে একবার গর্ভপাতের সময় মানবশিশুর বদলে একটি মাংসপিন্ড বের হয় জরায়ু থেকে।

এর মধ্যেও তেরেসার তিনটি সন্তান বেঁচে রয়েছে এখনো। কিন্তু তারা সবাই প্রতিবন্দী। অস্বাভাবিক । তিন সন্তানের মধ্যে একজন অন্ধ, একজন তালুকাটা এবং আরেকজনের শাসপ্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগছে। তেরেসার মত অন্য যেসব কিশোরীদের ওপর এভাবে ওষুধের পরীক্ষা চালানো হয়েছে তারা সবাই তেরেসার মত ব্যক্তিগতভাবে যেমন ভয়াবহ মানসিক এবং শারিরীক বিপর্যয়ের ক্ষতির সুম্মুখীন হয়েছেন তেমনি তাদের সন্তানদের ৯০ ভাগ প্রতিবন্দী হিসেবে জন্ম নিয়েছে । তাদের কারোর হয়েছে ব্রেন টিউমার, কারোর মাথায় পানি জমেছে, কেউ অন্ধ, কেউ বা জন্ম নিয়েছে হার্টের সমস্যাসহ নানা জটিলতা নিয়ে।

চার্চ অব ইংল্যান্ড পরিচালিত কেন্টে অবস্থিত কেন্ডাল হাউজ নামে একটি কেয়ার হোমে ঘটে এ ঘটনা যা ইংল্যান্ডের শিশু আশ্রয়কেন্দ্রের ইতিহাসে একটি অন্যতম কলঙ্কিত ঘটনা। তদুপরি এ কেয়ারহোমটি পরিচালিত হত চার্চ অব ইংল্যান্ড দ্বারা।

তিন বছর কেয়ারহোমে থাকার পর বন্দীশালা থেকে মুক্ত হন তেরেসা। তেরেসা তখন বিদ্ধস্থ বিপর্যস্ত। তিন বছর কেটে যায় সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে। এরপর তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেন তার অতীত সন্ধানে । কারা কিভাবে তাকে কেয়ারহোমে পাঠাল তার সন্ধান করতে থাকেন। ২৭ বছর অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে তার হাতে আসে ব্রিটিশ মেডক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ। প্রবন্ধটি আর কারোরই নয় বরং কেয়ারহোমে যে ডাক্তার তার ওপর দীর্ঘদিন চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগ করেছে তারই লেখা।

সেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন কিশোরীদের ওপর মানসিক রোগের ওষুধ পরীক্ষা নিরীক্ষার অভিজ্ঞতা। আর এর মাধ্যমেই তেরেসা জানতে পারেন তিনিসহ সেখানে থাকা অন্য কিশোরী মেয়েদের আসলে ওষুধ পরীক্ষার গিনিপগ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র যার কোন অনুমোদন ছিলনা ।

গত শুক্রবার ৯ জানুয়ারি চার্চ অব ইংল্যান্ড ঘোষনা দিয়েছে মর্মান্তিক এবং কলঙ্কজনক এ ঘটনার তদন্ত করা হবে। এর দুইদিনের মাথায় চার্চ অব ইংল্যান্ড আরেক ঘোষনায় জানিয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ বিবৃতির মাধ্যমে তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া হবে।

ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মোট ২০ জনকে ক্ষতিপূরন দিয়েছে চার্চ অব ইংল্যান্ড।গত রোববার ১১ জানুয়ারি লন্ডনের ডেইলি মেইল অনলাইনে তেরেসার একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। তেরেসা জানান, ১৯৮১ সালে সে ১৪ বছরের এক কিশোরী ছিল। তখন তাকে চার্চ অব ইংল্যান্ড পরিচালিত কেন্ডাল হাউজ নামক কেয়ার হোমে আনা হয়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ঘোষনামতে ‘ডিসটার্বড’ মেয়েদের এখানে এনে রাখা হয়। তেরেসা বলেন, প্রথম যেদিন তাকে এখানে আনা হয় সেদিন তাকেসহ অন্যদের লাইনে দাড় করানো হয় ওষুধ নেয়ার জন্য। আমরা জানতে চাই কিসের ওষুধ। নার্সরা আমাদের তা জানাতে অস্বীকার করে। এরপর আমাকে তিন বছর ধরে চেতনানাশক ওষুধ দেয়া হয় এখানকার ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী । আসলে ওই ডাক্তার আমাদের ওপর ওষুধের পরীক্ষা চালিয়েছেন দীঘদিন ধরে যা পরে উৎঘাটিত হয়।
tsr 2চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগের মত কোন হিংস্র বা বেপরোয়া আচরন আমি কখনো করিনি। কিন্তু দিনের পর দিন আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ভয়ানক এ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। শুধু আমি নই অন্য আরো অনেকের ওপর এ বর্বরতা চলে। শিশুদের ওপর পরিচালিত এ বর্বরতাকে তারা থেরাপী বলে চালায়। ওষুধ প্রয়োগের সময় আপত্তি করলে নার্সরা আরো বেশি ওষুধ দিয়ে একেবারে শান্ত করে দিত আমাদের। সম্মোহিত অবস্থায় কখনো কখনো মনে হত আমি তিনটি ডানা দিয়ে উড়ছি। অসংখ্য কীটপতঙ্গ আমার বিছানার ওপর বেয়ে বেয়ে উঠছে। অবচেতন অবস্থায় কখনো কখনো আমার ওপর চলা তাদের হিংস্রতার প্রতিবাদ করতে চাইতাম । কিন্তু আবার মনে ভেসে উঠত আমাকে শক্তিহীন করে রাখা হয়েছে; আমি চাইলেও তাদের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবনা এখন।

সাক্ষাৎকারে তেরেসা জানান, কেয়ার হোমটি বাইরে থেকে দেখতে খুবই সুন্দর একটি বসবাসের বাড়ি বলে মনে হয়। ১৮ জন মেয়ে বসবাস করতে পারে বাড়িটিতে। আসলে ওটি একটি ভয়ানক নির্যাতন কেন্দ্র এবং বন্দীখানা মাত্র।

তেরেসা বলেন, কেয়ারহোমে কিশোরীদের ওপর যে চেতনানাশক ব্যবহার করা হয়েছে তা সাধারনত পারকিনসন রোগী এবং খুবই বেপরোয়া ধরনের মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে দশগুন বেশি মাত্রার চেতনানাশক তার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। According to her case files, Teresa was given drugs including the anti-psychotics Haloperidol, Droleptan and Depixol. She was also given the tranquillisers valium and diazepam at up to ten times the current recommended dose.

তেরেসা জানান ইনজেকশন পুশ করার সময় তাকে ছয়জন মিলে মাটিতে চেপে ধরত এবং ধস্তাধস্তির কারনে মাঝে মাঝে তার মুখের চামড়া ছিলে যেত । তাদের কথার প্রতিবাদ করলে হিংস্রগতিতে তারা ঝাপিয়ে পড়ত তার ওপর। কেয়ার হোমের কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট পেরিনপানায়াগাম মেরেনতিরান এ ওষুধ প্রেসক্রাইব করত। তার নোটপ্যাডে লেখা থাকত সাইকোথেরাপিস্ট টু দি হোম অফিস। মেরেনতিরানের থেরাপী নিয়ে ১৯৮০ সালে একটি টিভি ডকুমেন্টারি প্রচারিত হবার পর তা নিয়ে বিতর্ক হয় কিন্তু তারপরও চার্চ অব ইংল্যান্ডের কেয়ার হোমে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
তেরেসা ১৯৮৪ সালে ছাড়া পান । মানসিক এবং শারিরীক উভয় দিক দিয়ে তিনি তখন বিধ্বস্ত। লিখতে এবং পড়তেও তিনি ভুলে গিয়েছেন তখন। ১৯৮৬ সালে কেয়ার হোমটি বন্ধ করে দেয় সরকার একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর। মেরেনতিরান ১৯৮৮ সালে মারা যায়। তার কোন বিচার হয়নি।
তেরেসা কেয়ার হোম থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন একসময়। এরপর তিনি তার অতীত নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের অনুসন্ধান শেষে তিনি জানতে পারেন তাদের ওপর মানসিক রোগের ওষুধের পরীক্ষা পরিচালনা এবং তাকে সহ কেয়ার হোমের অন্যান্য মেয়েদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহারের কথা। তেরেসার বয়স এখন ৪৮।

অনুসন্ধানের জন্য তেরেসা লন্ডনের ওয়ান্ডসওয়ার্থ কাউন্সিল থেকে তার কেসফাইল সংগ্রহ করেন। এরাই হল তারা যারা তেরেসাকে ‘ডিসটার্বড’ গার্ল আখ্যায়িত করে কেয়ার হোমে পাঠানোর সুপারিশ করেছিল। এরপর তিনি চার্চ থেকে তার রেকর্ড ফাইল সংগ্রহ করেন। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ঘেটে তেরেসা জানতে পারেন কেয়ার হোমে তাকে কিভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে। এরপরই তেরেসা জানতে পারেন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্যটি আর তাহল বিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত সাইকোথেরাপিস্ট ডা. মেরেনতিরানের একটি প্রবন্ধ। এ প্রবন্ধে তিনি বর্ণনা করেছেন অচরনগত ডিসটার্বড মেয়েদের ওপর চালানো চেতনানাশক ওষুধের পরীক্ষার কথা। এভাবে তেরেসা শেষপর্যন্ত নিশ্চিত হলেন যে, তিনি এবং তার মত সেখানে আনা অন্য কিশোরীরা ছিল ওই ডাক্তারের ওষুধ পরীক্ষার গিনিপিগমাত্র।
২০০৭ সালে তেরেসা একটি বই লিখলেন ‘ট্রাস্ট নো ওয়ান’। এ বই প্রকাশের পর কেয়ার হোমে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহৃত অন্য মেয়েরা মুখ খুলতে শুরু করে। বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য চার্চ অব ইংল্যান্ড পরিচালিত কেয়ার হোম সম্পর্কে। তারাও জানান কেযার হোম থেকে ছাড়া পাবার পর তাদের যেসব সন্তান জন্ম নিয়েছে তাদের ৯০ ভাগই প্রতিবন্ধী। অনেকে জন্মের পর নানা জটিলতার কারনে মারা গেছে। তাছাড়া তাদের নিজেদের শারিরীক ও মানসিক বিপর্যকর বিষয়তো রয়েছেই।

তেরেসার বড় ছেলে রবার্ট শ্বাসকষ্ট এবং ছোট ছেলে অন্ধ হয়ে জন্মায়। আর সবচেয়ে ছোট মেয়ে চারলট জন্মায় তালুকাটা অবস্থায়। সেও ছোটবেলায় ঠিকমত শাস নিতে পারতনা। তার চোয়াল ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট। প্রতিমুহূর্ত মনে হত সে বুঝি মারা যাবে। এভাবে সে এখন ২২ বছরে পৌছেছে। তেরেসা জানান অন্ধ হয়ে জন্মান পল যখন বুকের দুধ খেত তখন সে তার দিকে তাকাতনা। এটা তাকে ভীষনভাবে কষ্ট দিত। এভাবে কেয়ার হোমে থাকা অন্য সকল ভুক্তভোগীর ছেলে মেয়েরাও জন্মের সময় কোন না কোন ত্রুটি নিয়ে জন্মায়।
তেরেসার নিরন্তর লড়াইয়ের ফলে কেয়ার হোমের বিষয়টি আদালতে গড়ায়। আদালতের মধ্যস্থতায় ২০১০ সালে তেরেসাকে ৫০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরন দেয় চার্চ অব ইংল্যান্ড কর্তৃপক্ষ। অন্য আরো ২০ জনকে ক্ষতিপূরন দেয় চার্চ। যদিও এ ক্ষতিপূরন অর্জনের পেছনে তেরেসার নিজের ২৭টি বছর এবং ৭০ হাজার পাউন্ড খরচ হয়ে গেছে।

কিন্তু এখানেই থেমে যায়নি তেরেসার লড়াই। তার দাবি চার্চ কর্তৃপক্ষ ঘটনা স্বীকার করলেও এখন পর্যন্ত তাদের কাছে ক্ষমা চায়নি। চার্চকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এর সমস্ত দায়দায়িত্ব মেনে নিয়ে। সেই সাথে তাদের, তাদের সন্তানদের এবং তাদের নাতি নাতনী পর্যন্ত সবার দায়দায়িত্ব চার্চকে নিতে হবে। কারণ সম্ভাবনা রয়েছে তাদের নাতি নাতনীদেরও বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেয়ার। চার্চ আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের জীবন ধ্বংস করেছে।

গত শুক্রবার ৯ জানুয়ারি চার্চ এ ঘটনা তদন্তের ঘোষনা দিয়েছে। কিন্তু তেরেসার অভিযোগ তিনি ২৭ বছর ধরে এজন্য নিরন্তর চেষ্টা চালালেও তাকেই তদন্ত থেকে বাইরে রাখতে চাচ্ছে চার্চ।

বিষয়টির সুরাহার জন্য ওয়েস্ট মিনিস্টার চার্চ হাউজে তেরেসার সাথে এ বিষয়ে কিছুদিন আগে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে পল বাটলার এবং ডরহামের বিশপ বলেছেন এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি চার্চের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হবে সবকিছু সুরাহার পর। একইসাথে ২৭ বছর ধরে তেরেসা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যে সত্য উৎঘাটন করেছে সে পরিশ্রমেরও স্বীকৃতি দেয়া হবে।
কিন্তু তেরেসা এখনো ক্ষুব্ধ। কারণ চার্চ তাকে তদন্ত থেকে বাইরে রাখতে চেয়েছে এবং তাকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছেনা। বিশপ জেমসের সাথে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে এবং সে তাকে বলেছে চার্চের বীমা কোম্পানী তাদের পরামর্শ দিয়েছে ঘটনার দায় যেন চার্চ স্বীকার না করে।

তেরেসার মতে এটা খ্রিস্টানদের কাজ নয়। বিশেষ করে যখন তারা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার মূল্যের বীমা কোম্পানীর শেয়ারের মালিক। আমি যে প্রশ্নের উত্তর চাই তাহল শিশুদের অপব্যবহারের জন্য বীমা কোম্পানীর ভূমিকা কতদূর? বিশপ জেমেসের ঘোষনার পর তেরেসা আবার ভীষনভাবে ভেঙ্গে পড়েন। তবে শনিবার ১০ জানুয়ারি রাতে বিশপ জেমসের মুখপাত্র ঘোষনা দিয়েছেন বিষয়টিতে বিশপ জেমস খুবই আন্তরিক রয়েছেন এবং বিষয়টি পূর্ণভাবেই দেখা হবে।

তেরেসা জানান, তিনি চান চার্চ এ ঘটনার দায় স্বীকার করুক এবং জনসম্মুখে ক্ষমা প্রার্থনা করুক। আমি সেন্টারবুরির বিশপের সাথে দেখা করতে চাই এবং তাকে এ কথা বলতে চাই। আমি চাই বিশপ জাস্টিন আমার সামনে দাড়িয়ে বলুক আমি চার্চ অব ইংল্যান্ড এর পক্ষ থেকে তুমি, তোমার মত ক্ষতির শীকার অন্য যেসব মেয়ে রয়েছে তারা, তোমাদের সন্তান এবং সম্ভবত তোমাদের নাতি নাতনীদের কাছেও ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
তেরেসা বলেন এটা না হওয়া পর্যন্ত আমি আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাব।