মেইন ম্যেনু

চুল নিয়ে কিছু সংস্কার, যা কেবল ভারতীয়রাই মানেন

vbsd

ভারতকে ‘কুসংস্কারের দেশ’ হিসেবে বর্ণনা করে পশ্চিম গোলার্ধ আত্মশ্লাঘা অনুভব করে— এ কথা একেবারেই নতুন নয়। অসংখ্য ভারতীয়ও সংস্কারপ্রবণ স্বদেশকে নিয়ে ঠাট্টা করতে ভালবাসেন। পাল্টা জবাব হিসেবে বেশ কিছু দেশপ্রেমিক পশ্চিমের সংস্কার-কুসংস্কারের এক তালিকা পেশ করে থাকেন। তাতে যে কী লাভ হয়, কে জানে! চাপান-উতোরে কারোর সংস্কার প্রবণতা একবিন্দু কমে না। সমাজবিদরা বলে থাকেন, সংস্কার সভ্যতার অঙ্গ। তা মানুযের সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্বের পরিচায়ক।

ভারতের চলিত সংস্কারগুলির মধ্যে সবথেকে বেশি চলিত বোধ হয় চুল নিয়ে গড়ে ওঠা সংস্কারের দল। দেহ ঘিরে সংস্কার সব দেশে সব কালেই প্রচলিত। তার মধ্যে চুল একটা বড় জায়গা নিয়ে থাকেই। দেখা যাক, ভারতে এর চেহারাটা ঠিক কীরকম।

• সূর্যাস্তের পরে মেয়েদের চুল আঁচড়াতে নেই। মায়েরা মেয়েদের, মেয়েরা আবার তাঁদের মেয়েদের পরম্পরাগতভাবে এ কথা বলে আসছেন। ঠিক কেন এই সাবধানবাণী, তা কিন্তু কেউই জানেন না। বলা হয়, এই সময়ে চুল আঁচড়ালে ভূতে ধরার সম্ভাবনা থাকে।

• আবার ভারতেই এমন সংস্কারও প্রচলিত রয়েছে যে, সন্ধের সময়ে মেয়েদের চুল খুলে রাখতে নেই। তাহলেও নাকি ভূতে ধরে। চুল না আঁচড়ে বেঁধে ফেলা কতটা সম্ভব, তা কেউ জানেন কি?

• কাটা বা উঠে আসা চুল ফেলতে নেই। যদি বা ফেলতে হয়, তা হলে নির্জন জায়গায় ফেলতে হবে। আর ফেলার আগে থুতু দিয়ে নিতে হবে।

• পূর্ণিমার রাতে জানালা খুলে মেয়েদের চুল আঁচড়ানো অনুচিত। তাতে নাকি ঘরে সাক্ষাৎ অলক্ষী প্রবেশ করে।

• ঋতুকালীন সময়ে মেয়েদের মাথা ধোয়া নিষেধ।

• চুল আঁচড়াতে গিয়ে চিরুনি হাত থেকে পড়ে গেলে তা অমঙ্গলসূচক ব্যাপার।

দেখা যাচ্ছে, চুল নিয়ে এই খবরদারি কেবল মেয়েদের লক্ষ্য করেই। এতে ছেলেদের কোনও ভূমিকাই নেই। কী কারণ থাকতে পারে এর পিছনে? সমাজ-নৃতত্ত্বের কারবারিরা বলেন, রাত-নারী-চুল— সব মিলিয়ে একটা গা ছমছমে ব্যাপার এর মধ্যে নিহিত। তার উপরে এদেশে সর্বত্র তুকতাকের ভয় চিরকালই ছেয়ে রয়েছে। চুল হল দেহের সব থেকে নাজুক এলিমেন্ট, যা সহজেই দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। জাদুটোনাকারীরা তাই কারোকে তুক করতে হলে তার চুলই নাকি সংগ্রহ করেন প্রথমে। অতএব সাধু সাবধান!