মেইন ম্যেনু

ছবি তুলতে গেলেই দৌড়ে পালায় ভিক্ষুকরা

beggar01-e1406376094281_4974

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া ভিক্ষুক নিরসনের পাইলট প্রকল্প কাজে আসেনি। এ প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের কয়েকটি জায়গা ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। এছাড়া পুনর্বাসনের টাকা নিয়ে আবার ঢাকায় ফিরছেন ভিক্ষুকরা।

জানা গেছে, দেশের ১০ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে দায়িত্ব দিলেও তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। ২০১০ সালে কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩২১ জনকে এ সুবিধার আওতায় আনতে পেরেছে সরকার।

সমাজকল্যাণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ময়মনসিংহে ৩৭, জামালপুরে দুই দফায় ৪৪, গোপালগঞ্জে ৯২, সুনামগঞ্জে ৫০ এবং নড়াইলে ৯৪ জনসহ মোট ৩২১ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বুধবার জাতীয় সংসদে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একটি প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাইলট প্রকল্প ফলপ্রসূ হয়নি। ময়মনসিংহে ৩৭ উপকারভোগীর মধ্যে ১২ জনকে রিকশা, ১৭ জনকে ভ্যান এবং পুঁজি হিসেবে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বাকিদের ৫০০০ করে টাকা দেয়া হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জন আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করছেন। বাকিদের কেউ কেউ উপকরণ বিক্রি করে ঢাকায় ফিরেছেন। আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তবে ওই প্রতিবেদনে অন্যান্য জেলার অবস্থা স্বাভাবিক দেখালেও সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বলছেন ভিন্ন কথা।

তাদের মতে, প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর সব ভিক্ষুককে নিজ নিজ এলাকায় পুনর্বাসনের কথা বলা হলেও গত ৬ বছরে মাত্র ৩২১ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের বিমানবন্দর, হোটেল র‌্যাডিসন, কূটনৈতিক জোন ও দূতাবাস, হোটেল সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, বেইলি রোড এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হলেও অবাধে চলছে ভিক্ষাবৃত্তি।

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হোটেল সোনারগাঁও ও রূপসী বাংলা এলাকায় বেশ কয়েকজনকে ভিক্ষা করতে দেখা যায়। তবে ছবি তুলতে গেলেই দৌড়ে পালাচ্ছেন তারা।

রূপসী বাংলার সামনে কুদ্দুস নামে একজনের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। কুড়িগ্রাম নদীভাঙন এলাকা থেকে আসা কুদ্দুস বলেন, কোনো সাহায্যের কথা শুনিনি। ক্ষুধার জন্যই ঢাকায় আছি। তবে এখানে ভিক্ষা করার সময় পুলিশ অনেক মারধর করে। ধরেও নিয়া যায়। কিন্তু তারপরও আসি।

এ বিষয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, কাজে গতি আনার জন্য সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত এনজিওদের কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংসদীয় কমিটির এক সদস্য জানান, এ প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে চলে যাওয়ার উদাহরণ আছে। গত শীতে রাজধানীতে বসবাসকারী শীতার্তদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার খরচ এ খাত থেকে নেয়া হয়েছে। আর যাদের টাকা বা সামগ্রী দেয়া হয়েছে তাদের বেশির ভাগই আবার ঢাকায় চলে এসেছে।