মেইন ম্যেনু

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কোথায়?

155913_180

রাজধানীর ৪৮/১-এ, পুরানা পল্টনের এই ঠিকানাতেই ছিল ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর অভিভাবক সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর কার্যালয় বন্ধ হওয়ার দিনই পুলিশ তালা লাগিয়ে দেয় শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। এরপর থেকে কাগজে-কলমে, প্রেস রিলিজসহ ওয়েবসাইট-উইকপিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রচারণায় পল্টনের ঠিকানাটি ব্যবহার করলেও বাস্তবে কেন্দ্রীয় কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে বর্তমানে ব্যবহৃত ঠিকানাটিও প্রকাশ করছে না ছাত্রশিবির।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ছাত্রশিবিরের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত ৪৮/১-এ-এর ভবনটিতে সংগঠনটির কোনও কার্যক্রম নেই। ভবনটির প্রথম তলায় শিবিরের বিভিন্ন প্রকাশনার বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে একটি এসি কোম্পানির গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দ্বিতীয় তলা কোম্পানির কার্যালয়, তৃতীয় তলায় একটি লেদার কোম্পানির অফিস। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় ছাত্রশিবিরের একটি সাংগঠনিক জাদুঘর ছিল। বিভিন্ন সময় সংগঠনের নিহত নেতাকর্মীদের ব্যবহৃত পোশাক, বইপত্রসহ বিভিন্ন স্মারক এই জাদুঘরে সংরক্ষিত ছিল। চতুর্থ তলায় ভবনটির মালিক নিজেই বাস করছেন।

এই ভবনের কেয়ারটেকার মোকসেদুল বলেন, ‘প্রায় ৪ মাস আগে জাদুঘরের মালামাল নিয়ে গেছে। একটি ভ্যানে করে মালামাল নিয়ে গেছে শিবির।’ তিনি জানান, ‘সংগ্রহশালার মালামাল নেওয়ার প্রায় দুই বছর আগে বাকি ফ্লোরগুলোও ছাত্রশিবির ছেড়ে দেয়।’

সংগঠনের নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ৪৮/১-এ ঠিকানাটিই ব্যবহার করে শিবির। পাশাপাশি সংগঠনের ওয়েব সাইট, ফেসবুক পেজ, লাইব্রেরি সাইট, উইকিপিডিয়ায়ও এই ঠিকানা ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ভবনের আরেকজন কেয়ারটেকার জানান, এই ভবনের চারটি ফ্লোর তাদের ভাড়ায় থাকলেও এক বছর ধরে মাত্র একটি ফ্লোর ভাড়া ছিল। বাকি তিনটির ভাড়া ছেড়ে দেয় আরও আগে।

কিছুদিন আগে ওই ভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিদ্দিক এ প্রতিবেদককে বলেছিলেন, ‘ওই ভবনে কেবল ছাত্রশিবির নয়, অনেক আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে।’

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক শিবিরের এক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘৮০ দশকের শুরুর দিকে কাটাবনে ছিল ছাত্রশিবিরের কার্যালয়। এরপরই পল্টনে জায়গা করে ছাত্রশিবিরে।’ তার দাবি, ‘এখন সুনির্দিষ্টভাবে কোনও কার্যালয় নেই। তবে বিভিন্ন নেতার বাসাবাড়ি, অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক জরুরি কাজ সম্পন্ন করেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। সাংগঠনিক বিভিন্ন দিবসে আলোচনা অনুষ্ঠান, সভা, বৈঠক, সেক্রেটারিয়েটের বৈঠক— সবই বিশ্বাসযোগ্য নেতাদের বাসায় সম্পন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে বনশ্রী, ভাষানটেক, নয়া পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের আশেপাশে, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এলাকায় ভাড়া বাসায়ও বিভিন্ন সময় সাংগঠনিক বৈঠক সারেন শিবিরের দায়িত্বশীলেরা।’

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ছাত্রশিবিরের একাধিক নেতাকে ফোন করা হলে তাদের মোবাইফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সংগঠনের অফিসিয়াল ফেসবুকে মেসেজ পাঠানো হলেও কোনও উত্তর মেলেনি।

সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার কেন্দ্রীয় কার্যালয় ব্যবহার করতে না পারায় সরকারের সমালোচনা করেন। মঙ্গলবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকার ছাত্রশিবিরকে অফিসে বসতে দিচ্ছে না, হয়ত সংগঠনের নেতারা কৌশলে তাদের নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সংগঠন পরিচালনা করতে গেলে অফিস প্রয়োজন, তারাও ভিন্ন অফিস ব্যবহার করছেন। কৌশলগত কারণে তারা বর্তমান অস্থায়ী অফিসের লোকেশন বা এড্রেস হাইড রেখেছেন। তবে এটা অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক বিষয় যে, সরকার একটি বৈধ ছাত্র সংগঠনের অফিস খোলা রাখতে দিচ্ছে না।’