মেইন ম্যেনু

জানুন প্রচন্ড ঝাল এই মরিচ খাওয়ার পরিণতি

মরিচের ঝাল ছাড়া কি বাঙ্গালির একবেলার খাবারও তৃপ্তি করে খাওয়া হয়? কেউ কেউ কাঁচামরিচের টাটকা ঝাঁঝ পছন্দ করেন, কারো আবার শুকনো মরিচ ছাড়া চলে না। হুট করে খুব বেশি ঝাল খেয়ে ফেললে নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়া, মুখ জ্বালাপোড়া, বড়জোর পেট খারাপ হতে পারে, অন্তত আমরা এটুকুই জানি। কিন্তু সারা পৃথিবীতে আরও অনেক রকমের মরিচ রয়েছে, তাদের ঝাঁঝ আরও বেশি ভয়াবহ। সম্প্রতি এমনই এক ভীষণ ঝাঁঝালো “গোস্ট পেপার” খেয়ে এক ভদ্রলোকের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, এরপর দেখা যায় তার গলার ভেতরের দিকে এক ইঞ্চি আকারের ফুটো। চলুন জেনে নিই ভয়ংকর এই ঘটনার আদ্যোপান্ত।

দুর্ভাগ্যই বলতে হবে এই ভদ্রলোকের। মরিচের ঝালে গলা জ্বলে যাবার কথা আমরা হরহামেশাই বলি, কিন্তু সেটা বাড়াবাড়ি। আসলে তো কিছুক্ষণ পরেই আর মরিচের ঝাল আমাদের যন্ত্রণা দেয় না। Journal of Emergency Medicine এ জানা যায়, ৪৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি “গোস্ট পেপার” বা “ভুত জোলোকিয়া” নামের একটি মরিচ খান, মরিচ খাওয়ার একটি প্রতিযোগিতায়। এখান থেকেই তার সমস্যার শুরু।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী এই মরিচ হলো পৃথিবীর সবচাইতে ঝাল পাঁচ মরিচের মাঝে একটি। ঝালের মাপমকাঠিতে এর ওজন হলো ১০ লাখ স্কোভিল একক। সাধারণ টাবাস্কো সসের চাইতে তা হলো মোটামুটি ৪০০ গুণ বেশি ঝাল। কিন্তু অবাক হলেও সত্যি, এত ঝাল এই মরিচ মানুষের কোনো ক্ষতি করতে পারে তার তেমন কোনো উদাহরণ নেই! এই ভদ্রলোকের বেলাতেই এত ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া হতে দেখা গেলো। প্রতিযোগিতায় এই মরিচের পিউরি দিয়ে মাখানো বার্গার খেতে বলা হয়। মরিচটা খাওয়ার পর ঝাল কমানোর জন্য তিনি একটা আস্ত বার্গার এবং ছয় গ্লাস পানি গলাধঃকরণ করে ফেলেন। কিন্তু তাতেও কোন লাভ হয়নি। বুকে ব্যথা এবং বমির উপসর্গ নিয়ে তাকে ভর্তি করানো হয় সান ফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার ইমার্জেন্সি রুমে।

হাসপাতালে তাকে বেশ করে পেইনকিলার দেওয়া হয়, ব্যথা কমানোর অয়েনমেন্ট দেওয়া হয়, সাথে দেওয়া হয় ম্যালোক্স নামের একটি অ্যান্টাসিড। অপারেটিং রুমে তাকে নেওয়ার পর দেখা যায় ইসোফ্যাগাস, অর্থাৎ গলার ভেতরের দিকে এক ইঞ্চি (আড়াই সেন্টিমিটার) বড় একটা ফুটো। ডাক্তাররা ফুটো মেরামত করে ফেলেন বটে, কিন্তু ২৩ দিন পর হাসপাতাল ছেড়ে বের হবার সময়েও তাকে গ্যাস্ট্রিক টিউব নিতে হয়, যা কিনা সরাসরি পুষ্টি সরবরাহ করবে তার পাকস্থলীতে।

অনেকেই অবাক হয়ে ভাবছেন কী এমন সেই মরিচ, যা একেবারে গলা ফুটো করে ফেলেছে! আসলে কিন্তু মরিচটা নিজে এই ফুটো করেনি। মরিচ খাবার পর সেই মানুষটির “বোরহ্যাভ সিনড্রোম” দেখা দেয়। খুব বেশি বমি করলে ও কাশতে থাকলে তার ফলে ইসোফ্যাগাস ছিঁড়ে যায়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এভাবে মানুষ মারাও যায়, এক্ষেত্রে ভদ্রলোক কেবল গ্যাস্ট্রিক টিউব নিয়ে পার হয়েছেন। সুতরাং মরিচটা আসলে গলা ছিঁড়ে যাবার সাথে সরাসরি যুক্ত নয়, সে কেবলই নেপথ্যের খলনায়ক।