মেইন ম্যেনু

জামদানি এখন শুধুই বাংলাদেশের

বাংলাদেশের প্রথম নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে সনদ পেলো জামদানি। ফলে এর স্বত্ত্ব কেবলই বাংলাদেশের। ভারত এই পণ্যের স্বত্ত্ব দাবি করলেও এই সনদের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো।

হাতে তৈরি কারুকার্জ খচিত জামদানি বাঙালি নারীর স্বপ্নের শাড়ি। দেশের ভেতর ঈর্শ্বণীয় জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে শাড়িটি। বাঙালিদের পাশাপাশি ভারতীয় এবং রূপে মুগ্ধ হয়ে এখন পশ্চিমা নারীরাও জামদানির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাতেই তৈরি হয় জামদানি। তবে সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর জামদানি। এর নির্মাণশৈলী ও গঠন প্রণালী অন্য শাড়ির তুলনায় ভিন্ন। হাতে তৈরি পুরো শাড়ির কাজ শেষ করতে কোনো কোনোটির লেগে যায় এক সপ্তাহেরও বেশি। সুঁতা তৈরি থেকে শুরু করে শাড়ি বানানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপই শেষ করতে হয় সতর্কতার সঙ্গে।

বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও জামদানি তৈরি হয়। এ কারণে ভারতও এই শাড়িটির স্বত্ত্ব দাবি করে এর জিআই সনদের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু সুইজারল্যান্ডের একটি সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এই সনদ দেয়ায় ভারত আর এটি পাচ্ছে না।

দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে এই সনদ তুলে দেওয়া হয়। এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ইউনেস্কোর ঘোষিত সাতটি ঐতিহ্যবাহী পণ্যের মধ্যে একটি জামদানি। ইউনেস্কোর তালিকাভুক্তির পর সরকার একে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়।

মন্ত্রী বলেন, আজ জামদানি আমাদের পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। নিপুণ কারুকার্য এবং বাহারি নকশার ফলে আমাদের জামদানি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সমাদৃত।

আমু বলেন, ‘বাংলাদেশের কারুশিল্পীদের হাতের তৈরি মসলিন এক সময় বিশ্ববিখ্যাত ছিল। আভিজাত্য, ঐতিহ্য ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে মসলিনের তুলনা নেই। এই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছিল। এখন জামদানির সংস্করণে আমরা মসলিনের ঐতিহ্যকে এখনও ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

আমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি হয়েছে। এই সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী জিনিসগুলোকেও ধরে রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ভারত বহু আগেই বেশ কিছু পণ্যকে ভৌগলিক পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করে। আমরা ২০১৫ সালে ‘ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য বিধিমালা’ করে বিসিকের মাধ্যমে আবেদন করি। জামদানিকে প্রতিষ্ঠিত করতে বিসিকের মাধ্যমেই উদ্যোগ নেয়া হয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে শিল্প সচিব বলেন, জামদানি নিয়ে ভারতে সঙ্গে আমাদের কোন দ্বন্দ্ব হবে না। ভারত ভৌগোলিক পণ্য হিসেবে নিবন্ধন নিয়েছে ‘ভারতীয় জামদানি’ আর আমাদের ভৌগলিক পণ্যের নাম জামদানি। তাছাড়া ইনেস্কোতে আমাদের জামদানির জন্য অনেক আগেই নিবন্ধন করা আছে।

সচিব বলেন, ‘জামদানি নিবন্ধিত হওয়ার ফলে এর সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছে তাদের প্রভুত উন্নতি হবে।’