মেইন ম্যেনু

জাহাঙ্গীরনগরে র‌্যাগিং ও একজন প্রীতির গল্প

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম জান্নাতুন নাঈম প্রীতি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ তম আবর্তনের নাটক ও নাট্য তত্ত¡ বিভাগের ছাত্রী। প্রীতি একজন লেখিকা, সেচ্ছ্বাসেবী ও ফেসবুক সেলিব্রেটি। তার আলোচনায় আসার কারণ সম্প্রতি তিনি তার আবাসিক হল প্রীতিলতা হলের ৪০ তম ব্যাচের কয়েকজন ছাত্রীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ এনেছেন। তিনি হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ আনার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা চেয়ে লোকাল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন।

তবে ওইমেন চ্যাপ্টার নামক একটি ব্লগে নিবন্ধ লিখে তিনি অসাধারণ কাজ করেছেন। তিনি তার লেখায় র‌্যাগিংয়ের কারণে ডিপ্রেশনসহ নানা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বলে দাবী করেছেন। [তার লেখাটি ৩১-১০-২০১৬ (সোমবার) দৈনিক ইত্তেফাকের মহিলা অঙ্গন পাতায় প্রকাশিত হয়]। ব্লগের লেখাটি সাইবার স্পেসে যথেষ্ট এক্সপোজার পাওয়ার পর থেকেই ক্যাম্পাসে দুইটি শ্রেণী তৈরী হয়েছে। প্রীতির পক্ষে এবং বিপক্ষে। জাহাঙ্গীরনগরের সাইবার যোদ্ধারা উঠে পরে লেগে যান তাদের মাতৃসুলভ ক্যাম্পাসের সম্ভ্রম রক্ষার গুরু দায়িত্বে। কারণ তারা মনে করেন প্রীতির একটা ব্লগিংয়ের কারণে ক্যাম্পাসের ৪৫ বছরের সুনাম মাটিতে মিশে যাচ্ছে। এই শ্রেণী মানববন্ধন করছেন,প্রীতিকে অবাঞ্চিত করার দাবী জানাচ্ছেন। প্রীতির অভিযোগকে মিথ্যা বানোয়াট ও প্রচারে আসার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। হতেই পারে যে এই মেয়ে যা বলছে তার সব কিছুই বানোয়াট এবং নিজেকে সেলিব্রেটি বানানোর পায়তারা, হতেই পারে। তবে হলে হলে জুনিয়রদের এভাবে হেনস্তা করা কি অবাস্তব ? ম্যানার শিখানোর নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন কি করা হয় না?। আজ সারা ক্যাম্পাস মেতে আছে এই ক্যাম্পাসে যে র‌্যাগ নাই সেটা প্রমান করার জন্য। একটা মিথ্যাকে আগলে রেখে স্বস্তি পাবেন না। এই ক্যাম্পাসে র‌্যাগিং আছে ,খুব ভালো ভাবেই আছে। যদি ক্যাম্পাসকে সত্যিই ভালোবাসেন তবে চলেন র‌্যাগিংয়ের নামে বাড়াবাড়িকে উপড়ে ফেলি|

প্রীতি মানসিক ভাবে সুস্থ না অসুুস্থ সে প্রশ্ন না করে প্রশ্ন করি , প্রীতিদের কেন গণরুমে থাকতে হচ্ছে? আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় কেন তার সিটের ব্যবস্থা করতে পারে নি। দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী হয়েও কেন আমাদেরকে (ইশ্বরপুত্র ব্যতীত) গণ রুমে দেড় বছরের মত মানবেতর জীবন যাপন করা লাগেেছ।

যারা প্রীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছেন তারা ক্যাম্পাসের সম্ভ্রম রক্ষার বৈপ্লবিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাদেরকে লাল সালাম। কিন্তুু পহেলা বৈশাখে যখন আমার সহ-পাঠী নিপীড়িত হয়েছিল তখন কোথায় ছিলেন আপনারা। নিপীড়কদের বিরুদ্ধে দাড়াঁতে তো আপনাদেরকে পায় নি।

একজন তরুণীকে উদ্ধার করতে গিয়ে আমার সহকর্মী যখন ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের কথিত নেতার হাতে মারধরের শিকার হন তখন অপনার ভার্চূয়াল পান্ডিত্য কোথায় ছিলো। যেদিন আমার সহ-যোদ্ধাকে মাননীয় প্রক্টর পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলো সেদিন আপনি কোথায় ছিলেন ?

প্রীতির মতো অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এত মানুষের পার্টিসিপেশন দেখে আমি অবাক হয়। কারণ এর চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাদের অংশগ্রহণ দেখি না। মিরপুর রোড়ে বাসের দাবীতে অন্তত ফেসবুকে তাদের ২-৪ লাইন লিখতে দেখি নাই। বিভাগ উন্ন্য়ন ফি নিয়ে তাদের আওয়াজ শুনতে পায় না। এমনকি যারা বিভাগ উন্নয়ন ফির টাকা ধারে যোগাড় করেছিলেন তারা ও না। ফরমের মুল্য বৃদ্ধি, লাইব্রেরী সম্প্রসারণ,দলীয় ও জনপ্রীতির মাধ্যমে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ,খাবারের মুল্য বৃদ্ধি এসব নিয়ে গুটি কয়েক মানুষকে কথা বলতে দেখি। অথচ ভুক্তভোগী সবাই।

৩৭০০০ ফলোয়ার জাহাঙ্গীরনগরের কতজন আছে জানি না কিন্তুু ৩৭ রকমের সমস্যায় জড়তিত আমার প্রাণের ক্যাম্পাস। তাই ফলোয়ার কে বাদ দিয়ে চলেন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলি, দাবী তুলি। তবেই আমার –আপনার দ্বিতীয় প্রজন্মের আতুড়ঘর প্রাণের জাহাঙ্গীরনগর মাথা উচুঁ করে রইবে আপন মহিমায়।

শুভেচ্ছা সবাইকে

শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়