মেইন ম্যেনু

জিততে পারেন হিলারি !

hillary

উইসকনসিন, মিশিগান ও পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ভোটে হ্যাকিং হয়েছে বলে ধারণা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল শীর্ষ কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তাই পরাজিত প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে এ তিন রাজ্যের ভোট পুনঃগণনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এসব অঙ্গরাজ্যে ইলেকটোরাল ভোট ছিল যথাক্রমে ১০, ১৬ ও ২০। প্রতিটিতে জিতেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানীরা বিশেষ করে ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোর ভোট পুনর্গণনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভোট পুনঃগণনা হলে হিলারি ক্লিনটন জিততে পারেন। শুক্রবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত এই তিন রাজ্যে ভোট পুনঃগণনারে জন্য আবেদন করার চূড়ান্ত সময়সীমা রয়েছে।

বুধবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হিলারির প্রচার শিবিরের একদল শীর্ষ কম্পিউটার বিজ্ঞানী নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করার আহ্বান জানান।

প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের দাবি, বিপুল সংখ্যক অ্যাকটিভিস্ট এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানী ভোট পুনঃগণণার দাবি তুলেছেন। তাদের দাবি, বিদেশি হ্যাকাররা ওই তিন অঙ্গরাজ্যের ফলাফল প্রভাবিত করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তারা কংগ্রেশনাল কমিটি এবং ফেডারেল কর্তৃপক্ষের উপস্থাপনের জন্য এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করছেন। আগামী সপ্তাহে কারচুপির প্রমাণসমেত ওই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। ভোট পর্যালোচনায় গঠিত মার্কিন সরকারের স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ইউএস ইলেকশন অ্যাসিট্যান্ট কমিশনও এই প্রতিবেদন তৈরিতে অংশ নিচ্ছে।

কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে হিলারির প্রচার শিবিরের চেয়ারম্যান জন পোদেসতা, শিবিরের জেনারেল কাউন্সেল মার্ক ইলিয়াসকে বিষয়টি জানিয়েছেন। বিজ্ঞানী দলের একজন হলেন জে অ্যালেক্স হালদারম্যান। তিনি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান সেন্টার ফর কম্পিউটার সিকিউরিটি অ্যান্ড সোসাইটির পরিচালক।

তিনি সিএনএনকে বলেন, এই তিন ব্যাটেলগ্রাউন্ট রাজ্যে কাগজে ভোটের চেয়ে ইলেকট্রনিক ভোট ৭ শতাংশ কম পেয়েছেন হিলারি, যা সন্দেহজনক।

বিজ্ঞানীদের দলটি পোদেসতা ও ইলিয়াসকে বলেন, যখন তারা হ্যাকিংয়ের প্রমাণ পাচ্ছিলেন না, তখন তারা বিষয়টি স্বাধীনভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন মনে করেন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘হ্যাকিং’প্রসঙ্গে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। এমনকি ওবামা প্রশাসনও অভিযোগ করেছিল, রাশিয়া ভোটারদের রেজিস্ট্রেশন তথ্যভাণ্ডারে ফাটল সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।

তবে নির্বাচন কর্মকর্তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, নির্বাচনী ফলকে প্রভাবিত করা রাশিয়ার পক্ষে অসম্ভব।

এদিকে, ইউএস ইলেকশন অ্যাসিট্যান্ট কমিশনের উপদেষ্টা বারবারা সিমন্স ভোট পুনঃগণনায় আগ্রহী বলে গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন। ভোট-পরবর্তী ব্যালট পেপারগুলো আবারও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে দেখা দরকার বলে মনে করছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটাধিকারবিষয়ক আইনজীবী জন বনিফাজ, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর কম্পিউটার সিকিউরিটি অ্যান্ড সোসাইটি-এর পরিচালক জে এলেক্স হ্যাল্ডারম্যানসহ অ্যাক্টিভিস্টদের ওই দলটি বিশ্বাস করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে ফলাফল হ্যাক হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র: সিএনএন, গার্ডিয়ান