মেইন ম্যেনু

জীবনে কাউকে ‘মালাউন’ বলিনি : ছায়েদুল হক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক। ওই ঘটনার পর তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ‘মালাউন’ বলেছেন বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন তিনি জীবনে কাউকে মালাউন বলেননি। এছাড়া সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো নিরাপত্তাহীনতা নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যে তিন নেতাকে এই ঘটনায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এরা বরং হিন্দুদের ওপর হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন।’

মুসলমানদের পবিত্র কাবাঘরের প্রতি অবমাননাসূচক এক ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে রসরাজ দাস নামে স্থানীয় এক হিন্দু যুবক – এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত রোববার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার ওই ঘটনা ঘটে।

রসরাজ দাসকে গত শুক্রবারই গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ছায়েদুল হক আরো বলেন, নাসিরনগরের ঘটনা নিয়ে তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কোনো কথা হয়নি।

এ ঘটনার পর তিনি স্থানীয় হিন্দুদের ‘মালাউন’ বলে উল্লেখ করে ‘তারা বাড়াবাড়ি করছে’ এমন মন্তব্য করেছেন কিনা – এ প্রশ্নের জবাবে ছায়েদুল হক বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, অসত্য এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি জীবনে কোনোদিন এ কথা বলিনি।’

তিনি বলেন ‘‘আমি, ১৯৬৮ সালে নাসিরনগরে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করি। পাঁচ বার এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনোদিন হিন্দুদের ‘মালাউনের বাচ্চা’ বলি নাই।”

গত কয়েকদিন ধরেই হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হচ্ছিল। এর পর শুক্রবার তিন জন আওয়ামী লীগ নেতাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

কীভাবে এমন ঘটনা ঘটলো, এসম্পর্কে ছায়েদুল হক বলেন, এটা ছিল অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ বা জননেত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটা গভীর ষড়যন্ত্র।

কিন্তু যারা এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ তারা তো আওয়ামী লীগের লোক, এমন প্রশ্নের জবাবে ছায়েদুল হক বলেন, ‘না, এটা মিথ্যা, বানোয়াট এবং অসত্য। আমি এর নিন্দা জানাই।’

‘আমার দলের মধ্যে কোনো কোন্দল নেই। এই তিন জন নেতা বরং প্রতিহত করেছে।’

তাহলে তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো কেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এর নিন্দা জানাই আমি। তারা আমাদের জিজ্ঞেস করেনি। তারা নাসিরনগরে আসেও নি। পরিস্থিতিও দেখেনি।’

স্থানীয় এমপি হিসেবে তিনি কি এর দায় নেবেন? জবাবে ছায়েদুল হক বলেন, ‘এ ঘটনার শুরু থেকে আমি সবকিছু জানি। স্থানীয় প্রশাসন, থানার ওসি, ইউএনও – তারা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। তাদের মধ্যে কোনো গাফিলতি ছিল না।’

ঘটনার জন্য তার পদত্যাগ দাবি করেছেন অনেকেই। তিনি কি পদত্যাগ করবেন? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘নো নো পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। বরং আমি আমি যদি পদক্ষেপ না নিতাম, ঘটনা আরো বিস্তার লাভ করতে পারত।’

তিনি বলেন, ‘আমি রিকশা নিয়ে প্রতিটি ঘরে গিয়েছি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছি আমরা।’ সূত্র : বিবিসি বাংলা।