মেইন ম্যেনু

টিনের পাঁচতলাতে যাদের বসবাস (ভিডিও)

543মধ্যরাতে যখন মালবাহী ট্রাক রাস্তা দিয়ে যায়, তখন পাঁচতলা টিনের বাড়ি দুলতে থাকে। জোরে বাতাস বইলে মনে হয়, ভেঙেই পড়বে। তারপরও তিনি ওই বাড়ি ছাড়তে পারেননি। বাড়ি বেশি দুলতে থাকলে নেমে রাস্তায় চলে যান।

এই বর্ণনা রাবেয়া বেগমের (ছদ্মনাম)। রাজধানীর চকবাজারের কামালবাগে অবস্থিত টিনের পাঁচতলা বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন রাবেয়া। ওই এলাকায় রাবেয়ার মতো কয়েক শ লোকের বাস এ ধরনের ৪০ থেকে ৫০টি টিনের বাড়িতে।

রাবেয়া বলেন, সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকেন। জানেন যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারপরও থাকেন। কারণ আয়রোজগার কম। ছোট্ট একটি কক্ষের ভাড়া দেন চার হাজার টাকা। রাবেয়া জানালেন, বাড়িটি ইট-পাথরের তৈরি নয়। টিনের তৈরি, টিনের চাল, টিনের ছাদ। দেয়ালও টিনের। তাঁর মতো আরও অন্তত দেড় শ লোক ঝুঁকি নিয়ে বছরের পর বছর ওই বাড়িতে থাকছেন। কারণ, ভাড়া তুলনামূলক কম।

টিনের এই বাড়িগুলো যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হাসানের।তিনি বলেন, কামালবাগ এলাকায় টিনের অনেক বাড়ি আছে। ঝুঁকি নিয়ে বহু মানুষ সেখানে থাকছে। চার-পাঁচতলা টিনের এসব বাড়ি পুরোপুরি অবৈধ।

সরেজমিনে চকবাজারের কামালবাগ এলাকা থেকে মুসলিমবাগ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে টিনের তৈরি এ ধরনের বাড়ি দেখা যায়। তিনতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত এসব বাড়ি করা হয়েছে। লোহার রড খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বাঁশও ব্যবহার করা হয়েছে খুঁটি হিসেবে। টিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছাদ।

টিনের চারতলা বাড়িতে বাস করেন আবদুর রহিম (ছদ্মনাম)। তিনি বললেন, টিন দিয়ে ছাদ বানানো হয়েছে। টিনের ওপর ঢালাই দেওয়া হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, ঢালাইয়ের নিচে টিন। লোহার সিঁড়ি ব্যবহার করে পাঁচতলায় ওঠা–নামা করতে হয়। ওই বাড়িতে বসবাসকারী নাবিলা আক্তার (ছদ্মনাম) বললেন, ছোট্ট একটা রুম। ভাড়া দেন চার হাজার টাকা। তাঁর মতো আরও ৩৫টি পরিবার ওই ভবনে বসবাস করছে।

এক হিসেবে দেখা যায়, টিনের তৈরি এসব বাড়ি থেকে প্রতি মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করছেন এসব বাড়ির মালিক। টিনের তৈরি একটি বাড়ির মালিক আবদুর রহমান বললেন, অনেক আগে থেকে এসব টিনের ঘরে লোকজন বসবাস করছে। কোনো দুর্ঘটনা হয়নি।

তবে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীমুর রশীদ তালুকদার বলেন, কামালবাগ ও মুসলিমবাগে টিনের তৈরি অনেক বাড়ি আছে, তা তিনি জানেন। বাড়ি ধসে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।