মেইন ম্যেনু

ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে : হিলারি নার্ভাস নাইন্টিতে!

hirraly

প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শুরু হয়ে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এরই মধ্যে ফ্লোরিডাসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে অগ্রিম ভোটাভুটি শুরু হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর ভোটের শেষ দিন। ক্যাটালিস্ট নামক জরিপ সংস্থার তথ্য দিয়ে সিএনএন জানাচ্ছে, এরই মধ্যে ৭৩ লাখ বা ৭.৩ মিলিয়ন ভোটার ভোট দিয়ে ফেলেছেন। মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ১.৯৫ মিলিয়ন ভোটার ডেমোক্রেট নিবন্ধিত এবং ১.৫৮ মিলিয়ন রিপাবলিকান দলের নিবন্ধিত ভোটার। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ডেমোক্রেট নিবন্ধিতদের ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেশি।

একদিন আগের বিশ্লেষণ থেকে জানা গিয়েছিল ব্যাটেলগ্রাউন্ড বা যেসব রাজ্যের ফলাফলে নির্বাচনে জয় পরাজয় নির্ধারিত হয়, তার ৭টির মধ্যে ৩টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভালো করছেন। ‘ওহাইয়ো, আইওয়া আর ফ্লোরিডা তার মধ্যে অন্যতম। অন্যদিকে হিলারি ভালো করছেন নিউ হ্যাম্পশায়ার, এ্যারিজোনা, নেভাডা আর কালোরাডোতে। তবে সবার নজর এখন ফ্লোরিডার দিকে। কেননা, এখানে চমক সৃষ্টি করতে পারলেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘুরিয়ে দিতে পারেন তার নির্বাচনী বৈতরণী। যা ক্রমাগত নিন্মমুখীই ছিল গত তিন সপ্তাহ ধরে।

ক্যাটালিস্টের তথ্যমতে, প্রদত্ত অগ্রিম ভোটের ৪.৩ মিলিয়ন পড়েছে ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে, যার সিংহভাগ পড়ছে ফ্লোরিডায়। এই ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য প্রথম সুখবর আসল ‘ব্লুমবার্গ পলিটিক্স’ এর জরিপ ফলাফলে। সর্বশেষ সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং নির্ভুল জরিপ তথ্যদিয়ে খ্যাতি অর্জন করা ‘ব্লুমবার্গ পলিটিক্স’ এর জরিপ বলছে, ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্প পাবেন ৪৫ শতাংশ ভোট, আর হিলারি পাচ্ছেন ৪৩ শতাংশ ভোট!

রিপাবলিকান দলের কনভেনশনের পর জরিপ ফলাফলে একবার হিলারি থেকে জাতীয়ভাবে এগিয়ে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। ডেমোক্রেট দলের কনভেনশনের পর হিলারি সেই এগিয়ে থাকাতে রোলার কোস্টার চালিয়েছিলেন, দেশব্যাপী আর ফ্লোরিডা তো বটেই। সর্বশেষ গত তিন সপ্তাহের নির্বাচনী জরিপে কোনোটাতে ৫ শতাংশ, কোনোটাতে ১২ শতাংশ ভোটে দেশব্যাপী এগিয়ে রাখা হয়েছে হিলারিকে। তবে এসব জরিপ ফলাফলকে ভুয়া বলে ট্রাম্প একদিন আগে ফ্লোরিডার জনসভায় বলেছিলেন, ’এসব জরিপ তথ্য যে ভুল সেটা প্রমাণিত হবে ভোটের ফলাফল আসা শুরু হলেই। এরমধ্যে আপনারা জানেন আইওয়োয়া, ওহাইয়ো আর নর্থ ক্যারোলাইনাতে আমি এগিয়ে আছি। এসব জরিপগুলো ইচ্ছা করে ট্রাম্প ভোটারদের মনোবল ভেঙে দেবার জন্য প্রচার করা হচ্ছে ক্লিনটনের প্রচার মেশিন থেকে।’

এই নতুন জরিপ তথ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের জন্য গত দুই সপ্তাহে প্রথম কোনো সুখবর। এই সুখবরকে কাজে লাগিয়ে অন্য রাজ্যগুলোতে ট্রাম্প এগিয়ে যায় কিনা সে আলোচনাই হচ্ছে নির্বাচনী বিশ্লেষণগুলোতে। এই ফ্লোরিডা ফলাফলে যদি এগিয়ে যায় ট্রাম্প তাহলে তার প্রভাব পড়বে অন্য ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যগুলোতে। যেখানে এর আগে থেকেই এগিয়ে আছেন হিলারি ক্লিনটন। ট্রাম্প তার শেষ ১৩ দিনে ১০০ মিলিয়ন ডলার টাকা নির্বাচনী বিজ্ঞাপন আর জনসভায় ব্যয় করবেন বলে জানিয়েছেন এবিসি নিউজকে। অর্থাৎ তিনি এখন চষে বেড়াবেন প্রতিটি কাউন্টি।

এদিকে, ফ্লোরিডার জরিপ ফলাফলকে ইতিবাচক হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে অন্য ৮ রাজ্যের ভোট বাড়াতে মাঠে নেমেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জরিপে যেসব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভোট ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন, সেসব সম্প্রদায়ভিত্তিক ভোট এলাকায় গিয়ে একটিবারের জন্য হলেও তাকে ভোট দেবার আহবান জানাচ্ছেন ট্রাম্প। সেই ধারাবাহিকতায় অন্যতম ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্য আফ্রিকান-আমেরিকান ভোটারের সংখ্যাগরিষ্ঠ নর্থ ক্যারোলাইনাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, তিনি নির্বাচিত হলে আফ্রিকান আমেরিকানদের চাকুরি নিশ্চিত করবেন।

তবে এসব আলোচনার মধ্যে বেশ কয়েকটি ভালো খবর এসেছে হিলারির জন্য। সাবেক সেক্রেটারি অফ স্টেট, রিপাবলিকান শীর্ষ রাজনীতিবিদ এবং জর্জ বুশের ঘনিষ্ট সহযোগী কলিন পাওয়েল ভোট দিচ্ছেন হিলারি ক্লিনটনকে।এই নিয়ে শীর্ষ অন্তত ৭০ জন রিপাবলিকান রাজনীতিক প্রকাশে হিলারিকে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দিলেন। নির্বাচনী জয়ের শেষ দুই সপ্তাহ যখন চলছে তখন হিলারির সমর্থনে প্রকাশ্যে এগিয়ে এলেন কলিন পাওয়েল। এর আগে হিলারি ক্লিনটনের ব্যক্তিগত সার্ভার আর ইমেইল কেলেঙ্কারী নিয়ে আলোচনার সময় তার নির্বাচনী দফতর, ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভারের বিষয়টি কলিন পাওয়েল থেকে এসেছিল-এমন মন্তব্য করলে সে সময় বেকে বসেন পাওয়েল। এর আগে দুইবার ডেমোক্রেট প্রার্থী বারাক ওবামাকে ভোট দিয়েছিলেন কলিন পাওয়েল। এবার হিলারিকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রকাশ প্রসঙ্গে পাওয়েল বলছেন, তার মেধা আছে, কমান্ডার ইন চিফ হওয়ার যোগ্যতা আছে। অন্যদিকে তার নিজ দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমালোচনা করেছেন পাওয়েল। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প প্রতিটি দিন ভিন্ন ভিন্নভাবে আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। এই রাজনীতি তিনি সমর্থন করতে পারেন না।’

এদিকে, হিলারি ১৪ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছেন বলে সর্বশেষ এপি’র এক জরিপে প্রকাশ করেছে। এপি’র জরিপে এযাবৎকালের সবচে বেশি ভোটের ব্যবধান ফুটে উঠেছে। কেন এই এগিয়ে থাকা সেটা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এপির প্রদিনিধি জানচ্ছিলেন, অভিবাসী, আফ্রিকান-আমেরিকান আর নারী ভোটারদের মধ্যে হিলারির এগিয়ে থাকার কারণে এমন তথ্য এসেছে।

কিন্তু এগিয়ে থাকা জরিপ ফলাফল আর খবরে এখন আর উদ্বেলিত হচ্ছেন না হিলারির কর্মী সমর্থকরা। তারা, অগ্রিম প্রদত্ত ভোটের হিসাবে যে কয়েকটি রাজ্যে ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছে তা নিয়ে চিন্তিত। চিন্তিত একারণে যে এত নেতিবাচক প্রচার, আর জরিপ ফলাফলে ক্রমাগত পিছিয়ে থাকার সংবাদের মধ্যেই জয়ের স্বপ্ন দেখে যে ট্রাম্প, তার দিকেই না চলে যায় আবার জনজোয়ার। কেননা, এটা সবাই জানেন এবং বোঝেন যে নির্বাচনী পাল্লাটি নির্ভর করছে শেষ মুহূর্তের বাতাসের গতিবেগের উপর। সেই বাতাস যদি ফ্লোরিডাসহ ৩/৪টি রাজ্যে ট্রাম্পের পালে শক্তি যোগায় তাহলে উল্টে যেতে পারে গনেশ। তাই হিলারি বলছেন, ‘আমি প্রতিটি ভোট গুণছি, দয়া করে ভোট দিতে যান।’

৬৯ তম জন্মদিনে ফ্লোরিডার এক জনসভায় কর্মী সমর্থকরা যখন, হ্যাপি বার্থডে টু ইউ বলে জোয়ার তুলছিলেন, তখন বুকে হাত রেখে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে হিলারি বলেছেন, ‘আপনাদের নিশ্চয়ই বুঝতে বাকি নেই, কেন ফ্লোরিডার জয় আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে চান, যান আজই ভোট দিন।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, এত নেতিবাচক প্রচার প্রচারণা আর ক্রমাগত জরিপে পিছিয়ে থাকার সঙ্গে মূল দলের সমর্থনহীন ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তীরে এসে পালে বাতাস পান তাহলে তা নির্বাচনী জোয়ারে অবশ্যই প্রভাব ফেলবে।এই কটা দিন তাই হিলারির জন্য, ক্রিকেটের নার্ভাস নাইন্টি’র সঙ্গে তুলনীয়। এখানে তিনি মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেন, আবার ঘটতে পারে হতাশার অঘটনও।