মেইন ম্যেনু

ট্রাম্পের দাদা এবং তার একটি আকুতিভরা চিঠি!

trump-grandpa-home

জার্মানীর একটি ট্যাবলয়েড একটি চিঠি প্রকাশ করেছে যেখানে জার্মানীতে থেকে যাওয়ার জন্য করুণ আকুতি প্রকাশ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাদা ফ্রিড্রেখ ট্রাম্প। দক্ষিণ জার্মানীতে থাকাকালে তরুণ বয়সে বাধ্যতামূলক মিলিটারি সার্ভিস এড়ানোর দায়ে তাকে জার্মানী থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তখন জার্মানীতে থেকে যাওয়ার জন্য করুণ আকুতি ভরা একটি চিঠি লিখেছিলেন ফ্রিড্রেখ ট্রাম্প। জার্মানীতে থেকে যাওয়ার জন্য করা ওই আবেদন ব্যর্থ হলে আটলান্টিক পাড়ি দেন সিনিয়র ট্রাম্প।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর একটি বুলেটিন থেকে জানা যায়, চিঠিটি ১৯০৫ সালে লেখা এবং এটা পাঠানো হয়েছিল ব্যাভারিয়ার প্রিন্স লুইতপোল্ড এর কাছে। ব্যাভারিয়ার যুবরাজকে ‘আকর্ষণীয়, মহান, প্রাজ্ঞ এবং ন্যায়পরায়ন’ বলে প্রশংসা করে তাকে জার্মানী থেকে বিতাড়ন না করার অনুরোধ করেন। ফ্রিড্রেখ ট্রাম্পের এই বিনয়ী চিঠিটিতে মন গলেনি যুবরাজের। এটাকে ‘খুবই তেলমারা বা খোশামুদে অনুরোধ’ হিসেবে দেখেন ব্যাভারিয়ান যুবরাজ।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাদা ফ্রিড্রেখ ট্রাম্প জার্মানীর কালস্তাদ শহরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৬৯ সালের ১৪ মার্চ। ১৮৭৭ সালে তার বাবা মারা যান। তখন পুরো পরিবারটি বিভিন্ন দেনার দায়ে ডুবছিল। পুরো পরিবারকে তখন নিজেদের আঙ্গুর ক্ষেতে কাজ করতে হচ্ছিল। শারীরিকভাবে দুর্বল ফ্রিড্রেখ ট্রাম্প সে কাজ করতে পারতেন না। কালস্তাদের একজন নাপিতের অধীনে কাজ করেন প্রায় আড়াই বছর। সপ্তাহে সাতদিনই কাজ করতে হতো তাকে। শহরে ছিল মাত্র এক হাজার মানুষ, তাই নাপিত হিসেবে বাজার ছিল খুব ছোট।

জার্মান তরুণদের তখন সামরিক সেবা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। বয়স হওয়ার পর বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা এড়ানোর জন্য মার্কিন মুল্লুকে পা ফেলার স্বপ্ন দেখেন সিনিয়র ফ্রিড্রেখ ট্রাম্প। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ১৬ বছর বয়সে পৌঁছেন আটলান্টিকের ওপারের স্বপ্নের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে।

আমেরিকায় পৌঁছামাত্রই একজন জার্মান ভাষাভাষী নাপিতের সঙ্গে কথা হয়। তার অধীনে একটানা ছয় বছর কাজ করেন ট্রাম্প। ১৮৯১ এ সিয়াটলে চলে আসেন এবং কয়েক শ ডলার সঞ্চয় নিয়ে রেস্টুরেন্ট চালু করেন। সিয়াটলের ওই এলাকাটা স্যালুন, ক্যাসিনো ও পতিতালয়ের জন্য পরিচিত ছিল। ফ্রিড্রেখ ট্রাম্পের ‘দ্য ডেয়রি’ রেস্টুরেন্টটি খাবার দাবার, পানীয় ও ‘রুম ফর লেডিস’(লেডিদের জন্য কক্ষ) সরবরাহ করত। পতিতাবৃত্তির রমরমা ব্যবসা চলত সেখানে।

১৯০১ সালে যখন কালস্তাদে ফিরেন তখন তিনি অনেক ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু জার্মান প্রশাসন মনে করেন মিলিটারি সার্ভিস এড়ানোর জন্যই ট্রাম্প পালিয়েছিলেন। এ নিয়ে আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেন তার জার্মান নাগরিকত্ব ধরে রাখার জন্য। সে লক্ষেই ব্যাভারিয়ার যুবরাজের কাছে সেই আকুতিভরা চিঠিটি লিখেন। কিন্তু তাতে মন গলেনি জার্মান কর্তৃপক্ষ ও যুবরাজের। তাকে দ্রুত দেশ ছাড়ার আদেশ দিয়ে লেখা সরকারি নথিতে (ডিক্রি) বলা হয়, ‘কালস্তাদে বসবাসরত আমেরিকান নাগরিক ও পেনশনভোগী ফ্রিড্রেখ ট্রাম্পকে শিগগিরেই ব্যাভারিয়া রাজ্য ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। অন্যথা তাকে নির্বাসিত করা হবে।’

ডয়েচে ভেলের তথ্যানুসারে সে নির্দেশনাটি ১৯০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

ফ্রিড্রেখ ট্রাম্প এই ডিক্রির বিরুদ্ধে লড়াই করতে যান কিন্তু ব্যর্থ হয়ে আমেরিকার পথ ধরেন। গর্ভবতী স্ত্রী এলিজাবেথ ক্রাইস্টকে নিয়ে নিউইয়র্কে পৌঁছেন ১৯০৫ সালের ৩০ জুন। ওই বছর ১১ অক্টোবর জন্ম নেন ফ্রিড্রেখ ট্রাম্পের ছেলে ফ্রেড। নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বাবা এই ফ্রেড!

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ান, উইকিপিডিয়া