মেইন ম্যেনু

ট্রেনের মধ্যেই যাত্রীর প্রসব বেদনা! হাসপাতালে পৌঁছে দিতে কোথাও না থেমেই ছুটল ট্রেন

ট্রেনের মধ্যে সন্তানের জন্ম দেওয়ার ঘটনা অতীতে অনেকবারই ঘটেছে। কিন্তু শুক্রবার ট্রেনের মধ্যে এক প্রসূতির সন্তান জন্ম দেওয়া নিয়ে মহারাষ্ট্রের নাগপুরের কাছে যে ঘটনা ঘটল, তা নজিরবিহীন বললে ভুল হয় না। মহারাষ্ট্রের লাসুর থেকে ঔরঙ্গাবাদগামী একটি ট্রেনের জেনারেল কামরায় এই ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনের কামরার মধ্যেই এক মহিলার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়েছিল। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কোনও স্টেশন অথবা ক্রসিংয়ে ট্রেনটিকে না আটকে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করল রেল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ট্রেনের মধ্যেই সন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। কিন্তু রেলের তৎপরতায় দ্রুততার সঙ্গে মহিলা এবং তাঁর সদ্যোজাতকে হাসপাতালে পৌঁছনো সম্ভব হয়। আর প্রসূতি যখন সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন, তখন সব পুরুষ যাত্রীদের অন্য কামরায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

শুক্রবার অজন্তা এক্সপ্রেস মনমাড় থেকে সেকেন্দ্রাবাদ যাচ্ছিল! ওই ট্রেনেই এক সন্তানসম্ভবা মহিলা নিজের পরিবারের সঙ্গে মনমাড় থেকে পূর্ণা যাচ্চিলেন। কিন্তু ট্রেনটি যখন রাত দশটা দশ নাগাদ লাসুর স্টেশনে পৌঁছতেই ট্রেনের জেনারেল কামরায় থাকা ওই মহিলার প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্টেশন মাস্টারকে জানানো হলে তিনি অ্যাম্বুলেন্স আনার জন্য ফোন করেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স আসেনি। তার উপরে ওই অন্য একটি ট্রেনের সঙ্গে ট্রেনটির ক্রসিং ছিল। ফলে ওই ট্রেনটি ওই স্টেশনে ট্রেনটির বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর কথা ছিল। তার উপরে উল্টো দিক থেকে আসা ট্রেনটি প্রায় আধ ঘণ্টা দেরিতে চলছিল। ফলে, ওই ট্রেনটি না যাওয়া পর্যন্ত অজন্তা এক্সপ্রেসকে লাসুর স্টেশনে দাঁড়িয়েই থাকতে হত।

বাধ্য হয়ে বিষয়টি উপর মহলে জানান লাসুর স্টেশন মাস্টার। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, উল্টো দিক থেকে আসা নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসকে আটকে এই ট্রেনটিকে আগে বের করে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, ঔরঙ্গাবাদা পর্যন্ত ট্রেনটি যাতে আর কোথাও না দাঁড়ায়, সেই ব্যবস্থাও করা হয়। এদিকে সন্তানসম্ভবা ওই মহিলার প্রসবযন্ত্রণা ক্রমশ বাড়ছিল। তা দেখে ওই কামরায় থাকা মহিলা যাত্রীরা শাড়ি দিয়ে ওই প্রসূতির চারপাশে আড়াল তৈরি করেন। শুধু তাই নয়, কামরায় থাকা পুরুষ যাত্রীদের পাশের বগিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে ট্রেন তখন দুরন্ত গতিতে ঔরঙ্গাবাদ স্টেশনের দিকে ছুটছে। শেষ পর্যন্ত ঔরঙ্গবাদ পৌঁছনোর মিনিট পনেরো আগেই রাত ১০.৪০ নাগাদ কামরার মধ্যে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা।

ট্রেনের মধ্যে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে ওই মহিলা যথেষ্টই কাহিল হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু রেলের তরফে আগে থেকে ব্যবস্থা থাকায় ট্রেনটি ঔরঙ্গাবাদে পৌঁছতেই মা এবং সদ্যোজাতকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এমনিতে লাসুর থেকে ঔরঙ্গাবাদের দূরত্ব ৩৯ কিলোমিটার। কিন্তু মাঝে দু’টি ট্রেনের ক্রসিং থাকায় সবমিলিয়ে এক ঘণ্টার উপর সময় লেগে যায়। রেলের তৎপরতায় সেই মূল্যবান সময় অনেকটাই বাঁচানো সম্ভব হয়।