মেইন ম্যেনু

ড্রাই আই রোগের লক্ষণ চিনবেন যেভাবে

chokh-problem20161031114644

চোখের ভাষায় মানুষের মনের ভাষা প্রকাশ হয়ে থাকে। এই চোখ দিয়েই আমরা আমাদের সুন্দর পৃথীবিটাকে দেখে থাকি। নানা স্বপ্ন দেখি। তবে এই চোখ মাঝে মধ্যে হয়ে যায় পানি শূন্য। আমাদের চোখের প্রায় ৭৫% অংশই পানি। আর এই পানি শুকালে চোখে সৃষ্টি হতে পারে নানা সমস্যা। চোখের পানি শুকিয়ে যাওয়া অন্যান্য কিছু রোগেরও লক্ষণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ড্রাই আই বলে।

শুষ্কতা
আশেপাশে প্রচুর ধুলাবালি চোখের শুষ্কতার জন্য দায়ী। চোখে কিছু কাঁটার মতো লাগা, কিছু বিঁধে থাকা, চোখ দিয়ে পানি পড়া চোখের শুষ্কতার পূর্ব লক্ষণ। তাছাড়া কালো ধোঁয়া, গরম ঠান্ডা মিশ্রিত বাতাস চোখের শুষ্কতার কারণ। চোখের অভ্যান্তরে থাকা পানির অংশ কমতে থাকলেও চোখ শুষ্ক হয়ে যায়। যার কারণে মাথাব্যথা থেকে জ্বর এবং নাকবন্ধ রোগও হয়ে থাকে। তাই চোখের শুষ্কতায় ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

মুখ শুকিয়ে যাওয়া
কারণে অকারণে মুখ শুকিয়ে যায়? কথা একটানা বললে আপনার খারাপলাগা শুরু করে? তাহলে ধরে নিন আপনি চোখের পানি শূন্যতা রোগে আক্রান্ত। চোখের সাথে নাক এবং কণ্ঠনালীর একত্রিত পথ আছে। এটি পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। যখন আপনার মুখে পর্যাপ্ত লালাগ্রন্থি থাকবেনা তখনি কেবল আপনার পিপাসা অনুভব করবেন এবং আপনার মুখ জড়িয়ে আসবে।

ভিটামিন-এ এর অভাব
ভিটামিন-এ এর ঘাটতি চোখ পানি শূন্য হওয়ার অন্যতম কারণ। এই ভিটামিন এ-এর ঘাটতির কারণে দেখা দিতে পারে বদহজম, ডায়েরিয়াসহ নানা রোগ। যা আপনার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব রোগে আক্রান্ত রোগী দুর্বল হয়ে থাকে। সাধারণ কাজগুলো এদের কাছে কষ্টদায়ক লাগে। আপনার চোখে পানিশূন্যতার সৃষ্টি হলে আপনি প্রথমে দুর্বল এবং পরে নানা রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করবেন।

দৃষ্টিশক্তি লোপ
দৃষ্টি শক্তি লোপ পাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে চোখের পানিশূন্যতা বা ড্রাই আই। আপনি যখন চোখের পানি শূন্যতা রোগে ভুগেন এবং তা যদি দীর্ঘ সময় ধরে হয়ে থাকে তবে আপনি অন্ধও হয়ে যেতে পারেন।

চিকিৎসা
চোখের শুষ্কতা দূর করার পদ্ধতি হিসেবে প্রথমেই কারণগুলো খুঁজে বের করে চিকিৎসা করা উচিত। ভিটামিন ‘এ’-এর ব্যবহার এবং কারণ অনুসারে ওষুধ ব্যবহার করলে আরোগ্য লাভ হয়। অপারেশনের মাধ্যমে চোখের শুষ্কতা দূর করা যায়। সব ক্ষেত্রেই কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহার উত্তম। মিথাইল সেলুলোজ, সফট কন্টাক্ট লেন্স, প্যারোটিভ ডাক্ট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেও চোখ শুকানোর প্রতিকার করা যায়।