মেইন ম্যেনু

তাদের মাঝে গড়ে উঠেছে অসাধারণ বন্ধুত্ব, কিন্তু কিভাবে?

1908051477426705922-1

এমিলি ফার্মার ও ম্যাক ভুরহিসের উভয়ের মাঝে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। ভুরহিসের বয়স ১০০ বছর। আর এমিলির বয়স সবে ২৫। এমিলির সময় কাটে সঙ্গীত ও পিয়ানো বাজিয়ে। অন্যদিকে ভুরহিস হার্মোনিকা বাজান। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।

ভুরহিস তার দিন কাটান হার্মোনিকা বাজিয়ে। অন্যদিকে এমিলিকে একজন পিয়ানো জাদুকর বলা যায়। উভয়ের মাঝে পার্থক্য সত্ত্বেও তারা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছেন একটি বার্তা দেওয়ার জন্য- কিভাবে জীবনকে আনন্দময় করা যায়।

একদিন সকালে ভুরহিস যখন হেরিটেজ প্লেসের বয়স্কদের বাসস্থানে ছিলেন তখন তার পাশ দিয়েই জগিং করছিলেন এমিলি। একদিন সকালে তিনি হেরিটেজ প্লেসের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ভাবছিলেন, এখানের অধিবাসীরা কী পিয়ানো শোনেন? এ সময়েই তার প্রশ্নের জবাবে একজন কর্মী ইতিবাচক উত্তর দেন। আর এরপর এমিলি অপেক্ষা করার কোনো কারণ দেখেননি। জগিংয়ের পোশাকেই তিনি পিয়ানো বাজাতে বসে যান।

এমিলি যখন পিয়ানো বাজাচ্ছিলেন, সে সময়েই সেখানে বসে ছিলেন বর্ষিয়ান ভুরহিস। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ‘তাহলে কখন শো শুরু হবে?’

এমিলি তার প্রশ্নের উত্তরে হেসে ফেলেন। আর তাদের মাঝে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এমিলি বলেন, ‘আমাদের বন্ধুত্ব তখনই গড়ে ওঠে।’
এমিলি সঙ্গে ভুরহিসের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেছে প্রায় ১৮ মাস। এরপর থেকে প্রায়ই এমিলি হেরিটেজ প্লেসে যান। সেখানে তারা একত্রে বাদ্যযন্ত্র বাজান ও গলা ছেড়ে গান গান। এমিলি যখন গান গান তখন প্রায়ই হারমোনিকা বাজান ভুরহেস।

ভুরহিস বলেন, ‘আমি কখনোই এত প্রাণোচ্ছল তরুণী দেখিনি। সে কিভাবে পিয়ানো বাজায় তা শুধু আমার কাছেই আশ্চর্যজনক নয়, অন্যরাও ভিড় করে দেখে ‘

ভুরহেসের তিনজন সন্তান রয়েছে। এছাড়া তার নয়জন নাতি-নাতনি রয়েছে। এছাড়া তাদের সন্তান রয়েছে ২৩ জন। আর এ অবস্থায় ভুরহেসের মন্তব্য হলো, ‘আমি খুবই সন্তুষ্ট। এমিলি আমাকে জীবন সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছে। আমি অন্যদের দুঃখ থেকে ভুলে থাকতে অনুপ্রাণিত করি। আপনি যখন ১০০ বছর বয়সী হবেন তখন সুখী হওয়া ছাড়া অন্য কী করতে পারবেন?’

এমিলিও সুখী। সে তার এনার্জি ও ভালো মুডের জন্য ভুরহেসকে অনেকাংশে কৃতিত্ব দেন। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন। আপনি যখন ইতস্তত করবেন, মানসিক চাপের মাঝে থাকবেন কিংবা দুঃখে থাকবেন তখন এটি আপনাকে ভালো অনুভূতি দেবে। আমি জানি সেরা বন্ধুত্ব তখনই হয় যখন তা কাজে লাগে।’