মেইন ম্যেনু

তারকা বিষয়টাই সবসময় ফারিয়াকে ঘিরে থাকে

1_8

ছন্দ হারানো প্রকৃতির মাঝেই গত কয়েকদিন আগেই যাত্রা হলো হেমন্ত ঋতুর। আশ্বিনের শেষ প্রান্তে এসে গা শিন্ শিন্ করা ঋতুর পালাবদল। শরতের শিউলীও বিলীন হয় একই সময়ে। শীতের আমেজ আলতো করে গায়ে মাখার প্রতীক্ষায় প্রকৃতি। সবুজ-শ্যামল প্রকৃতিতে রং বদলের আবহ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। গত বুধবার সন্ধ্যার পরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কোক স্টুডিওতে যেতে যেতে প্রকৃতির এমনই এক নতুন আভা পাওয়া গেল।

ঘড়ির কাটায় সাতটা ছুঁই ছুঁই। কোক স্টুডিওর সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই একজন পথে বাধা দিয়ে জানতে চাইলেন, কোথায় যেতে চান? পরিচয় দেওয়ার বাধা কেটে গেল। সামনে চোখ মেলে তাকাতেই দেখা গেল পার্ক করা বেশ কয়েকটি ঝা চকচকে গাড়ি। নতুন একটি বিজ্ঞাপনের জন্য সেট নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। সেসব নির্মাণের বিভিন্ন জিনিসপত্রে ঠাসা পুরো কোক স্টুডিও।

সামনে এগুতেই ওই স্টুডিওর নিরাপত্তা প্রহরী বললেন, এখানে নুসরাত ফারিয়া গত দুইদিন ধরে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিং করছেন।’ কথা না বাড়িয়ে স্টুডিওর দিকে এগুতেই চোখ ছানাবড়া! হেয়ালি মনে বিছানার ওপর বসে রয়েছেন ফারিয়া। পাশেই দেয়ালে তার প্রিয় কয়েকটি ছবি। এগুলো নান্দনিক কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো। তার পাশে ছোট্ট একটা বইয়ের সেলফ (তাক)। সেই সঙ্গে বেশ পরিপাটি করে গোছানো তার শোবার ঘর।

এমনি হঠাৎ করেই কী যেন মনে হলো- নিজেকে একটু আয়নায় দেখে নিলেন ফারিয়া। সাজুগুজুও করে নিলেন। নিজের খেয়াল খুশি মতোই জীবনযাপন অনেকটা! আপন ইচ্ছেই যেন সব। যখন যা ইচ্ছে তার করতে না পারলে কী যেন এক দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যান। এ যেন অন্য এক নুসরাত ফারিয়া! তারকা বিষয়টাই সবসময় ফারিয়াকে ঘিরে থাকে। বিজ্ঞাপনটিতে এমনই দৃশ্যে দেখা মিলবে ফারিয়ার।

খানিকটা সময় যেতেই কথা প্রসঙ্গে পরিচয় হলো বিজ্ঞাপনটির পরিচালক রুমন আহমেদের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘নুসরাত ফারিয়া কয়েকদিন আগে স্মার্টফোন হুয়াওয়ের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তারই ধরাবাহিকতায় এ বিজ্ঞাপনচিত্রটি নির্মিত হচ্ছে।’

কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি কয়েক পা বাড়িয়ে মনিটরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। এর কারণ হিসেবে জানালেন, ‘রাতের মধ্যেই শুটিং শেষ করতে হবে। না হলে ভয়াবহ বিপদে পড়তে হবে।’

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বিজ্ঞাপনের শুটিং। এরই ফাঁকে কথা হলো নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘স্টপ মোশন পদ্ধতিতে এ বিজ্ঞাপনটির দৃশ্যধারণ হচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম বিষয়ের একটি বলে আমার মনে হয়। প্রতি সেকেন্ডের জন্য ১৬টি করে স্থিরচিত্র লাগবে। এ বিজ্ঞাপনটি ৪০ সেকেন্ডের। তাহলে এবার বুঝেন কী অবস্থার মধ্যে আছি! প্রতি সেকেন্ডের সাথে সেটের প্রত্যেকটি বিষয়বস্তুর পরিবর্তন হচ্ছে। শারীরিকভাবে বিষয়টি অনেক কষ্টের।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে বিজ্ঞাপনের এ রকম একটি বিষয়বস্তুর উপরই কাজ করেছিলাম। তখন টানা পাঁচদিন শুটিং করেছিলাম। এরপর এক মাস বেড রেস্টে থাকতে হয়েছিল। ওটা আরও বেশি কষ্টের। তবে এটা তো আমার কাজ। কিন্তু কঠিন কিছু না করলে নিজের শিল্পী সত্ত্বার জায়গাটা পরখ করারও সুযোগ থাকে না। ’

পরিচালক তার পরবর্তী দৃশ্যধারণের জন্য ফারিয়াকে প্রস্তুত হতে বললেন। তিনিও তার মত করে প্রস্তুত হয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন। এদিকে শিল্প নির্দেশক বারবার ফারিয়াকে বিষয়বস্তু বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ফারিয়া বুঝে নেওয়ার পর বললেন, ওকে। পাশেই থেকে পরিচালকের সহকারি বললেন, ‘শট নেওয়া হচ্ছে সবাইকে চুপ থাকতে হবে।’

পুরো ফ্লোর জুড়ে নীরবতা। দৃশ্যধারণের প্রস্তুতি শেষ। পরিচালক বললেন, “চলো ফারিয়া যাই আমরা।ক্যামরা চলছে। ‘কাট কাট…’ বলে পরিচালক বললেন, ‘গুড শট’!”

সম্প্রতি ফারিয়া অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন হুয়াওয়ের শুভেচ্ছাদূত নির্বাচিত হয়েছেন। এর অংশ হিসেবে নুসরাত ফারিয়া আগামী ছয় মাস হুয়াওয়ের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন পি নাইনের ডিজিটাল প্রচারের কাজ করবেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিজ্ঞাপনচিত্রটিতে অংশ নিচ্ছেন। নুসরাত ফারিয়া প্রায় দুই বছর পর বিজ্ঞাপনে মডেল হলেন। সর্বশেষ একটি মেহেদীর বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন। নুসরাত ফারিয়া অভিনীত মুক্তি পাওয়া শেষ ছবিটি ‘বাদশা: দ্য ডন’।

এদিকে ফারিয়া অভিনীত ও জাকির হোসেন রাজুর পরিচালনায় ‘প্রেমী ও প্রেমী’ সিনেমার শুটিংয়ের একটি দিন এখনও বাকি। শুটিং হবে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টে। ডাবিং শেষ। তিনি জানালেন, ‘নতুন আরেকটি ছবিতে অভিনয় করছি। তবে নাম ও পরিচালকের নাম এখনই বলা যাবে না। ডিসেম্বর থেকে শামীম আহমেদ রনির পরিচালনায় ‘ধেৎতেরেকি’ ছবির শুটিং শুরু করব। এই ছবিতে আমার বিপরিতে আছেন আরিফিন শুভ।’