মেইন ম্যেনু

তিস্তার বার্তা নিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব

পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক আজ মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে দিল্লি যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরের প্রস্তুতির লক্ষ্যে তিনি এ সফর করছেন। তবে তার এই সফরে প্রাধান্য পাবে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি বিষয়ে আলোচনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, সচিব বুধবার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ বৈঠকেই শেখ হাসিনার সফরের এজেন্ডা নির্ধারিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩ ডিসেম্বর দুই দিনের সফরে দিল্লি যাচ্ছেন। এ সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাস দমন অধিক গুরুত্ব লাভ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে এক ডজনের বেশি চুক্তি সই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত বছরের জুনে বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। শেখ হাসিনার সফর তারই ফিরতি সফর।

পররাষ্ট্র সচিব দেশে ফিরে আসার পর ভারতের কোনো একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথা অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সুষমা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ হওয়ায় তিনি আসতে না পারলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর বাংলাদেশে আসতে পারেন। পররাষ্ট্র সচিবের সফরকালে এ বিষয়টিও চূড়ান্ত হতে পারে।

পররাষ্ট্র সচিবের সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সফরের এজেন্ডা নির্ধারণের পরেই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার তিস্তার পানিবন্টন চুক্তিসহ সফরের প্রায় সকল এজেন্ডা আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে সচিব বাংলাদেশ সরকারের বার্তা নিয়েই যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই সফরে তিস্তার পানিবন্টন চুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার একটি পর্যায় ঠিক করে আসবেন তিনি।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফরকালে গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়ে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারে ‘স্ট্যান্ডার্ড অব অপারেটিং প্রসিডিউরস’ (এসওপি) এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলে চুক্তি হতে পারে। অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সফরে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, পররাষ্ট্র সচিবের সফরকালে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হতে পারে। এ বিষয়েও সচিব সরকারের ভূমিকা ও ঘটনার বাস্তবচিত্র তুলে ধরবেন।