মেইন ম্যেনু

থামছে না সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা

কিছুতেই থামছে না সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি হত্যা। দু’একদিন যেতে না যেতে দেশের কোনো না কোনো সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নির্মম হত্যার শিকার হচ্ছেন কেউ না কেউ।

সর্বশেষ বুধবার যশোরের বেনাপোল সীমান্তে হত্যার পর এক যুবকের লাশ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে দেয় বিএসএফ। ছয় বছর আগে প্রায় একইভাবে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের নির্মম হত্যার শিকার হয় কিশোরী ফেলানী। কাঁটাতারে ঝুলে থাকা ফেলানীকে দেখে দেশে-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। সে সময় ভারতের পক্ষ থেকে বার বার আশ্বস্ত করা হয় সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নিয়ে আসা হবে। কিন্তু আজও তা বন্ধ হয়নি। এ তালিকায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। বেনাপোল সীমান্তে যে যুবককে হত্যার পর কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয় তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি। অজ্ঞাত লাশটি ভারতীয় পুলিশ নিয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যার পর কাঁটাতারে ঝুলিয়ে দেওয়া যুবকের লাশটি এক পর্যায়ে নিচে পড়ে যায়। এ সময় কাঁটাতারে আটকে থাকা শার্টটি পাশবিক ও নির্মম হত্যার সাক্ষী হিসেবেই যেন বাতাসে দোল খাচ্ছিল। নির্মম হত্যার শিকার যুবকের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যস্থতায় লাশ নিয়ে যায় ভারতীয় পুলিশ।

জানা গেছে, বুধবার সীমান্তের জিরো লাইনে ১৮-এ ৩ এস পিলারের কাছে লাশটি পড়েছিল। অজ্ঞাত এ যুবকের ওপর বিএসএফ নির্মম নির্যাতন করেছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। বুধবার সন্ধ্যায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ বিষয়ে-২৬ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, রাত ৯টার দিকে ভারতীয় পুলিশ পড়ে থাকা লাশটি নিয়ে গেছে। নিহতের নাম-পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সীমান্তে নিরস্ত্র ও বেসামরিক নাগরিক হত্যার ঘটনা বন্ধ করতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন সময় অনুষ্ঠিত সে সব বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের একাধিক শীর্ষ পর্যায় থেকে আশ্বস্ত করা হয়।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়া দিল্লিতে দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি-বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় ৪৩তম সীমান্ত সম্মেলন।

সম্মেলন থেকে ফিরে বিজিবি সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘ভারত থেকে গরু চোরাচালানের কারণে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডগুলো হচ্ছে। সীমান্ত সম্মেলনের বৈঠকে বিএসএফকে গরু চোরাচালান বন্ধের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।’

বিজিবি মহাপরিচালকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। বিএসএফ-এর গুলিতে ৬ ভারতীয় চোরাচালানিও নিহত হয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একমাত্র গরু চোরাচালান বন্ধ করলে সীমান্তে হত্যার ঘটনা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিএসএফ’র হাতে অন্তত ২৮ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

সীমান্তে হত্যা বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে আমরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দু’দেশের জি টু জি পর্যায়েও আলোচনা হচ্ছে।’ অচিরেই সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।