মেইন ম্যেনু

দাঁত সাদা করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়লেন জেমস বন্ড

ভেবেছিলেন এতে দাঁত সাদা হয়, নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয়। আর সেই ভাবনা থেকেই পানমশলার মতো খতরনাক জিনিসের ফাঁদে পা দিলেন বন্ড, জেমস বন্ড। তার পর…

তার পরে যা ঘটিল, জানে মহাকাল। হলিউড তারকা-বন্ড অভিনেতা পিয়ের্স ব্রসনানকে ভারতের এক বিখ্যাত পানমশলার অ্যাড-এ দেখার পর থেকে যে চরমতম খিল্লি শুরু হয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কে, তাতে স্বখাত সলিলে ডুবতে হয় সেই পানমশলা প্রস্তুতকারক সংস্থাকে। এই বিজ্ঞাপনের ভিডিও টিভিতে প্রদর্শিত হলে সমস্যা আরও বাড়ে। ব্রসনানের বিচিত্র সব মেমে আবির্ভূত হতে থাকে ফেসবুকে-টুইটারে।

খেলা শেষ পর্যন্ত সেন্সর বোর্ড পর্যন্ত গড়ায়। পানমশলা যে স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক, তার আইনি বাচন জানা সত্ত্বেও কেন এমন বিজ্ঞাপন খোলা বাজারে রমরম করে বের করা হল, তাই নিয়ে সিবিএফসি-র প্রধান পহ‌্লাজ নিহালনি পর্যন্ত সাবধানবাণী শোনান। পিছু হঠতে হয় পানমশলা-ওয়ালাদের।

খবর পৌঁছয় ব্রসনানের কানেও। তিনি ‘পিপল ম্যাগাজিন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টত ক্ষমা চাইলেন সম্প্রতি। জানালেন, তিনি জানতেন না, পানমশলা নামক বস্তুটি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। তাঁর ধারণা হয়েছিল, যে প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপন তিনি করতে যাচ্ছেন, সেটি মাউথ ফ্রেশনার বা টুথ হোয়াইটনার-জাতীয় একটা কিছু। কিন্তু এতে যে দাঁত লালবর্ণ ধারণ করা থেকে ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে, সে বিষয়ে কোনও ধারণা ‘ডাই অ্যানাদার ডে’-র নায়কের ছিল না।

ব্রসনান আরও জানিয়েছেন, তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী, কন্যা এবং অসংখ্য বন্ধুকে হারিয়েছেন ক্যানসারের কারণেই। বর্তমানে তিনি পরিবেশ সচেতনতা ও গণস্বাস্থ্য নিয়েই কাজ করেন। এমন ক্ষেত্রে তাঁকে এই ধরনের ক্ষতিকারক বস্তুর বিজ্ঞাপনে দেখা গেলে সমস্যা বিপুল। ব্রসনানের মতে, পানমশলা কোম্পানি তাঁকে খুলে জানায়ইনি, তিনি যে প্রোডাক্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাস্যাডর হতে চলেছেন, সেটি খায় না মাথায় মাখে। এই বুঝভুম্ভুলেই এহেন বিপত্তি।
আপাতত বন্ড লজ্জিত, ক্ষমাপ্রার্থী। বিজ্ঞাপন গুটিয়ে লাট।