মেইন ম্যেনু

দাতাদের ভুলেই জলবায়ুর অর্থ ফেরত গেছে ‌যুক্তরাজ্যে

উয়ন্নয়নশীল দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য পাওয়া অর্থের একটি অংশ ব্যবহার না হওয়ায় ফেরত গেছে যুক্তরাজ্যে। এ অর্থ বিশ্বব্যাংকের একটি তহবিলের মাধ্যমে বাংলাদেশের কাজে ব্যবহার করার কথা ছিল।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া একটি চরম ভুল ছিল দাতাদের। বাংলাদেশ পরিবেশগতভাবে খুব খারাপ অবস্থায় থাকার পরও এই খাতে উন্নয়নের অর্থ ব্যয় না হওয়াই তার প্রমাণ।

ব্রিটিশ সরকার ঘোষিত জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থ বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রিজিলিয়েন্স ফান্ডের (বিসিসিআরএফ) মাধ্যমে দেওয়ার কথা ছিল। বিসিসিআরএফ বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ব্রিটেন সেই পথে না গিয়ে বিশ্বব্যাংকের গঠিত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডের (বিসিসিটিএফ) মাধ্যমে দেয়। এ জন্য শুরুতে বাংলাদেশ সরকার এ অর্থ নিতে নাকচ করেছিল। পরে অবশ্য বিশ্বব্যাংক জলবায়ু তহবিল নিয়ে স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করে বাংলাদেশে।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ শুরু করে বিসিসিটিএফ। এক পর্যায়ে এ প্রতিশ্রুতি বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডে। তবে অনেক বিতর্কের পর বাংলাদেশের পরিবেশ রক্ষার অব্যবহৃত এক কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড ফেরত যায় যুক্তরাজ্যে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে গার্ডিয়ান বলেছে, পরিবেশের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে খুব খারাপ অবস্থায় আছে। আর এ বিষয়টি স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাজ্য। অর্থ ফেতর যাওয়া তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ কারণেই যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগের (ডিএফআইডি) কাছে এক কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড ফেরত গেছে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ভিজিটিং ফেলো জোসেফ হ্যানলন বলেন, ‘এই অর্থ অব্যবহৃত হওয়াই নির্দেশ করছে- দাতারা বাংলাদেশকে বিশ্বাস করতে ব্যর্থ হয়েছে।’ জলবায়ু পরিবর্তনে তাঁরা শেষ পর্যন্ত ‘বক্ররেখায় এগিয়েছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নামের একটি সংগঠনের ঢাকার পরিচালক সলিমুল হক বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ) নামে বাংলাদেশ সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য একটি তহবিল তৈরি করেছিল। তাই এর জন্য অন্য তহবিল তৈরি করা ভুল ছিল।’

ডিএফআইডির রিপোর্ট বলছে, দাতা ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। ব্যাংকের ট্রাস্ট ফান্ড মডেল থেকে বিসিসিটিএফের কাছে ধীর গতিতে যাওয়ার কারণেও একটা উত্তেজনা ছিল বিশ্বব্যাংক ও দাতাদের মধ্যে।

এই তহিবলের অর্থ ব্যবহারের শেষ সময় ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল বলে বিংশ্বব্যাংকের এক বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক নিশ্চিত করেছে, ব্যাংক ও দাতাদের সঙ্গে একটি যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও বিসিসিটিএফ তা বন্ধ করে দিয়েছে।