মেইন ম্যেনু

মান্নার জামিন আপিলে বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

রাষ্ট্রদ্রোহ ও সেনা বিদ্রোহে উস্কানির অভিযোগে হওয়া দুই মামলায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্নার জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে সোমবার (২৮ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এই আদেশ দেন। তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত এ জামিন দেওয়া হয়।

আদেশের পর মান্নার আইনজীবী ইদ্রিসুর রহমান বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তার মুক্তিতে আর কোনো বাধা রইল না।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর রবিবার শুনানি শেষে আদেশের জন্য সোমবার দিন ঠিক করেন আপিল বিভাগ।

গত ৩০ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মান্নাকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। গত ৪ সেপ্টেম্বর এই মামলায় আপিল বিভাগ প্রথম দফায় ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত জামিন স্থগিত করেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে নিয়মিত লিভ টু আপিল করতে বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলে ১৭ নভেম্বর তা শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। সেদিন আদালত জামিনের উপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে ২৭ নভেম্বর শুনানির জন্য রেখেছিলেন।

এদিকে গত ১৪ নভেম্বর সেনা বিদ্রোহে উস্কানি মামলায় হাইকোর্ট মান্নাকে জামিন দেন। এই মামলায়ও হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন করে। এই মামলায়ও হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছিলেন আপিল বিভাগ।

রবিবার এ দুটি মামলায় মান্নার জামিন বিষয়ে একসঙ্গে শুনানি শেষে সোমবার আদালত তার জামিন বহাল রাখেন।

উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা এবং অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে মান্নার টেলিফোন আলাপের দুটি অডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয়। পরে ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মান্নাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর একই বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ৫ মার্চ সেনা বিদ্রোহে উস্কানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গুলশান থানায় মান্নার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়।

এই দুটি মামলায় ২০১৫ সালের ২ ও ৭ মার্চ নিম্ন আদালতে মান্নার জামিন আবেদন নাকচ হয়। এরপর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে হাইকোর্টে জামিনের এই আবেদন করেন তিনি। সেই আবেদনের ওপর ২১ মার্চ শুনানি হয়। সেদিন শুনানি নিয়ে আদালত জামিন প্রশ্নে রুল দেন। সেই রুল শুনানি শেষে ৩০ আগস্ট রাষ্ট্রদ্রোহ ও ১৪ নভেম্বর সেনা বিদ্রোহে উস্কানির মামলায় তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট।