মেইন ম্যেনু

নজিরবিহীন নিরাপত্তায় রাজধানী

Ctg Police Pic

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে সাজ সাজ রবের মাঝে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলকে।

এরই মধ্যে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় সম্মেলন স্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন পুলিশের মহা-পরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক।

এসময় তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনস্থল ও চারপাশে ক্লোজড সার্কিট টিভি (সিসিটিভি) ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারিত্ব থাকবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে পুরো ঢাকা মহানগরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অলরেডি সম্মেলন স্থল ও সম্মেলন স্থলের আশপাশে তথা মহানগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কাউন্সিলকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শাহবাগ, মৎস্য ভবন, দোয়েলচত্বর হয়ে নীলক্ষেত পর্যন্ত সম্মেলনের চারপাশে ক্লোজড সার্কিট টিভি (সিসিটিভি) ক্যামেরার আওতায় থাকবে।

তিনি জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ ভিভিআইপিদের মূল প্যান্ডেল এবং মঞ্চের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে এসএসএফ। তারা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন।

কাউন্সিলের নিরাপত্তা নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও নিরাপত্তায় কাজ করছে।

তিনি বলেন, কারো গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এবারের কাউন্সিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনটি কন্ট্রোল রুম থেকে ওয়াচ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭টি গেটে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করার পর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রেও ভেহিকেল মিরর সার্চ করা হবে।

তিনি জানিয়েছেন, কাউন্সিলে নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই।

এদিকে, র‍্যাবের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শুক্রবার সম্মেলন মাঠ ঘুরে মাঠে ও মাঠের বাইরে পুলিশের পাশাপাশি দেখা গেছে র‍্যাবের সরব উপস্থিতি।

নিজস্ব উদ্যোগে স্থাপন করা হচ্ছে ক্লোজড সার্কিট টিভি (সিসিটিভি) ক্যামেরা।

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল খন্দকার গোলাম সরওয়ার বলেন, র‍্যাবের পক্ষ থেকে সম্মেলন নির্বিঘ্ন করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমাদের ফোর্স সম্মেলন স্থল ও আশপাশে নিরাপত্তায় কাজ শুরু করেছে।

র‍্যাবের গোয়েন্দা টিমও কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সকল সদস্যকে চেনা যাবে না। পোশাকি সদস্যদের বাইরেও অনেকে সিভিল পোশাকে দায়িত্ব পালন করছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক ও শৃংখলা উপ-কমিটির সদস্য সচিব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছে, সে কারণে তাদের ধন্যবাদ। আর আমাদের নিজস্ব সেচ্ছাসেবক বাহিনীও থাকবে সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষায়। আশা করি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হবে না। শতভাগ শৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে ডিএমপি থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সম্মেলন চলাকালে ট্রাফিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো:-

২০তম জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষে নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ২২-২৩ অক্টোবর দুই দিন সকাল ৮টা থেকে বিজয়সরণী হয়ে ভিআইপি রোডের গাড়িগুলো রূপসী বাংলা-শাহবাগ-টিএসসি হয়ে ডানে মোড় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করবে।

অন্যদিকে উত্তরা হয়ে মহাখালী উড়ালসেতুতে চলাচলকারী গাড়িগুলো এই উড়ালসেতুর নিচ দিয়ে মহাখালী টার্মিনাল-মগবাজার-কাকরাইল চার্চ-রাজমণি ক্রসিং-নাইটিঙ্গেল-ইউবিএল-জিরোপয়েন্ট-আবদুল গণি রোড-হাইকোর্ট ক্রসিং-দোয়েল চত্বর দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না পৌঁছানো পর্যন্ত ভিআইপি রোডে অন্য কোনো গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করার পর ভিআইপি রোড (হেয়ার রোড-রূপসী বাংলা-সোনারগাঁও-বিজয়সরণী) স্বাভাবিক থাকবে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনস্থল ত্যাগ করার সম্ভাব্য দুই ঘণ্টা আগে মৎস্য ভবন, কাকরাইল চার্চ থেকে বিজয়সরণী পর্যন্ত সড়কে ডাইভারশন চলবে। এ সময় কদম ফোয়ারা দিয়ে গাড়িগুলো ইউবিএল-নাইটিঙ্গেল-কাকরাইল চার্চ-মগবাজার দিয়ে মহাখালী যেতে পারবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, মাওয়া থেকে আসা গাড়িগুলো সদরঘাট-বাবুবাজার-গুলিস্তান-জিরো পয়েন্ট-আবদুল গণি রোড-পুরোনো হাইকোর্ট ক্রসিং-দোয়েল চত্বর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে গন্তব্যস্থলে যাবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগ, সিলেট বিভাগ অথবা যাত্রাবাড়ী ও কাঁচপুর থেকে আসা গাড়িগুলো মেয়র হানিফ উড়ালসেতু-চানখাঁরপুল-দোয়েল চত্বর-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে গন্তব্যস্থলে যাবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর গাবতলী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি থেকে আসা গাড়িগুলো মিরপুর রোড দিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-রাসেল স্কয়ার-সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং-নিউমার্কেট ক্রসিং-নীলক্ষেত ক্রসিং-আজিমপুর ক্রসিং-পলাশী ক্রসিং দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে।

‘এছাড়া মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ-ফার্মগেট অভিমুখে কোনো গাড়ি আসবে না এবং রাসেল স্কয়ার-পান্থপথ অভিমুখে কোনো গাড়ি যাবে না। সব গাড়ি নিউমার্কেট-সায়েন্স ল্যাবরেটরি-নিউমার্কেট-আজিমপুর-পলাশী-জগন্নাথ হল ক্রসিং হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পার্কিংয়ে প্রবেশ করবে অথবা নিউমার্কেট-নীলক্ষেত-ফুলার রোড দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে বলে জানানো হয় ডিএমপি’র বিজ্ঞপ্তিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, কাঁটাবন থেকে ডানে মোড় নিয়ে নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করবে গাড়ি। কাঁটাবন থেকে কোনো গাড়ি শাহবাগের দিকে আসবে না। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসিতে কোনো গাড়ি প্রবেশ করবে না। শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন এবং মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ অভিমুখে কোনো গাড়ি প্রবেশ করবে না।

‘এছাড়া কাকরাইল চার্চ থেকে কাকরাইল মসজিদ অভিমুখে কোনো গাড়ি আসবে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে রাস্তা উভয় দিকে বন্ধ থাকবে অর্থাৎ কদম ফোয়ারা থেকে মৎস্য ভবন- দুই দিকে কোনো গাড়ি আসা-যাওয়া করবে না। এছাড়া কার্পেট গলি, পরিবাগ গ্যাপ, শিল্পকলা একাডেমির গ্যাপ, মিন্টো রোড ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব মোড় বন্ধ থাকবে এবং এসব স্থান থেকে ভিআইপি রোডে কোনো গাড়ি প্রবেশ করবে না। হাইকোর্ট থেকে দোয়েল চত্বরে গাড়িগুলো প্রবেশ করতে পারবে। তবে দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে কোনো গাড়ি যাবে না বলে জানানো হয়েছে ডিএমপি’র বিজ্ঞপ্তিতে।

২২ ও ২৩ অক্টোবর উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন দল আওয়ামী লীগের ২০ তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।