মেইন ম্যেনু

নাসিক নির্বাচনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি

narayanganj20161118184946

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে এখন সবার দৃষ্টি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার দিকে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছে কে? বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী নাকি মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কার হাতে নৌকার দায়িত্ব দেন তা নিয়ে নগরবাসীর মাঝে চলছে গুঞ্জন।

তবে ডা. সেলিনা হায়াত আইভী নিজ গুণে জনপ্রিয় প্রার্থী হলেও আনোয়ার হোসেন হচ্ছেন ওসমান পরিবারের পছন্দের প্রার্থী। এতো কিছুর পরও কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি সেটাই দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান গতবারের নির্বাচনে মেয়র আইভীর সঙ্গে এক লাখের উপরে ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর কূট-কৌশল চালিয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন।

এরপর জনপ্রিয়তার ধস নামাতে আইভীর বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন শামীম ওসমান। এসময় তিনি আইভীকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছিলেন।

তারপরও আইভী শামীম ওসমানের বিপক্ষে উচ্চস্বরে প্রতিবাদী কন্ঠে বিরোধীতা করে সবার দৃষ্টি কেড়ে নেন। কারণ ওসমান পরিবারের বিপক্ষে প্রতিবাদ করার মত নারায়ণগঞ্জে কেউ নেই।

সেই আইভী ওসমান পরিবারের বিপক্ষে কথা বলে আরো জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তারপরও ওসমান পরিবার আইভীর সঙ্গে একজোট উন্নয়ন করার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল। এমনকি আইভীকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু আইভী ওসমান পরিবারের সঙ্গে কোনো বিষয়ে আপোষ করতে না নারাজ।

তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হচ্ছে নাসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন কে? সারা বছর শোরগোল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই পরিবারের বিরোধের কাহিনী। পৌরপিতা চুনকা পরিবার বনাম ওসমান পরিবারের লড়াই এখনো চলমান। সে হিসেবে বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী আওয়ামী লীগের মূল প্রার্থী। তার পাশাপাশি ওসমান পরিবারের পছন্দের প্রার্থী হচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

আইভীকে নগর ভবন থেকে সরাতে এক সময় একজোটে থাকা আনোয়ার হোসেনকে তার প্রধান প্রতিপক্ষ হিসাবে মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন।

ইতোমধ্যে শামীম ওসমান আইভীকে মাইনাস করতে আনোয়ার হোসেনকে মেয়র প্রার্থী হিসাবে কেন্দ্রে দৌঁড়ঝাপ চালাচ্ছে। তবে ডা. সেলিনা হায়াত আইভী শতভাগ বিশ্বাস করেন দলের প্রধান শেখ হাসিনা তাকে নৌকার মাঝি বানাবেন। বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করেছেন আইভী।

অন্যদিকে, আসন্ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত তালিকায় নিজের নাম না থাকাকে ‘স্বাভাবিক’ মনে করছেন বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী।

আইভী বলেন, এটা অস্বাভাবিক কিছু না। এমনটা হতেই পারে। বহু জায়গায় এই রকম হয়েছে। যেহেতু আওয়ামী লীগ একটি বড় দল, এই দলের মধ্যে গ্রুপিং থাকতে পারে। সেটা কোনো ব্যাপার না। তবে দল যার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে সেটাই হবে। নাম পাঠায় নি বলেই সবকিছু না।

অন্যদিকে আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি নিশ্চিত দল আমাকে মনোনয়ন দিবে।

তবে নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য তিন সদস্যের প্যানেল ইতিমধ্যে কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ। যেখানে স্থান হয়নি আইভীর। তবে আইভী ও আনোয়ার হোসেন দুইজনই আশাবাদী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। এখন দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। আওয়ামী লীগের সবার দৃষ্টি এখন কেন্দ্রের দিকে রয়েছে।

পর্যবেক্ষক মহলের মতে, সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান যতই আইভী বিরোধীতা করুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তারা দলের প্রতি অনুগত। নেত্রীর নির্দেশে তারা দলের প্রার্থীর জন্য মাঠে নামতে বদ্ধপরিকর।

ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বা আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন এরই মধ্যে যেই দলীয় মনোনয়ন পাক না কেন। সবাই মনোনয়নের বিষয়ে তাকিয়ে আছে শেখ হাসিনার দিকে।