মেইন ম্যেনু

নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িঘরে আবারো হামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির ও ৬০-৭০টি হিন্দু বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রমতে, উপজেলা সদরের নমশুদ্রপাড়ার পশ্চিম দিকের ফুলকিশোর সরকারের গোয়ালঘর, পাশের খোকন বিশ্বাসের রান্নাঘর, বণিকপাড়ার অমর দেবের রান্নাঘর ও বসদতঘরের কিছু অংশ, শিলপাড়ার কেশব চক্রবর্তীর রান্নাঘর ও বসতঘর, পশ্চিমপাড়ার জগন্নাথ মন্দিরের পাশের সাগর দাসের পুরাতন বাড়ির রান্নাঘর ও একটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাতেই স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নেভানো হয়।

এদিকে, শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী কোয়ান্টাম আহমেদের মতে, ৮ থেকে ১০টি বসতঘর ও গোয়ালঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে সেগুলো ‘পরিত্যক্ত’ বলে তিনি জানান।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় কারা জড়িত এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করা হচ্ছে আগের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

গত ২৮ অক্টোবর নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামের এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয় যা মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই যুবককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে ৩০ অক্টোবর সকাল থেকে নাসিরনগর উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এবং খেলার মাঠে একাধিক ইসলামি দলের নেতারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশ চলাকালে ৩০০-৪০০ লোক সংঘবদ্ধ হয়ে এ ঘটনার জন্য হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর চড়াও হয়। এসময় পুরো উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার এবং তাদের মন্দিরের ওপর হামলা চালায় তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ওইদিন রাতে কাজল দত্ত এবং নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এসব মামলায় অজ্ঞাত ২ হাজার ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি পোস্ট করার অভিযোগে শনিবার গ্রেফতার হওয়া রসরাজ দাসের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।