মেইন ম্যেনু

না. গঞ্জে নির্বাচনি প্রচারণায় নামবেন খালেদা জিয়া

b1fd08533574cebc32f42cc05fd91ca4-583714766c7b7

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের পক্ষে ভোট চাইতে প্রচারণায় নামবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা না থাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় খালেদা জিয়ার উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বিএনপি নারায়ণগঞ্জের সিটি নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হলেও দলীয় প্রধানের প্রচারণায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল-সমর্থিত মেয়র-প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছিলেন খালেদা জিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নারায়ণগঞ্জেও যেতে পারেন। তবে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘পরিস্থিতি ভালো থাকলে অবশ্যই যাবেন। তবে এখনও এ ব্যাপারে আলোচনা হয়নি আমার সঙ্গে। আমি তার নারায়ণগঞ্জ যাওয়ার পক্ষে।’

নির্বাচনি প্রচারণায় খালেদা জিয়া যাবেন, এমন আশাবাদ নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানেরও। বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি বলেন, ‘সারাদেশের মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেতে উন্মুখ। সবার চোখ নারায়ণগঞ্জে। ভোটাররা উদগ্রীব ভোট দিতে। মাঠের পরিস্থিতি ইতিবাচক। এক্ষেত্রে যদি দলের চেয়ারপারসন প্রচারণায় অংশ নেন, তাহলে ভোটের জোয়ার ধানের শীষের পক্ষেই থাকবে।’

তবে গত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারণা চালাতে গিয়ে ২০ ও ২১ এপ্রিল রাজধানী ঢাকার কাওরানবাজার, বাংলামোটর ও ফকিরাপুল এলাকায় খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের অনুগতরা। নারায়ণগঞ্জেও এ ধরনের হামলা হতে পারে—এমন শঙ্কা রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের।

হামলা হলে সরকারি দলের ক্ষতি হবেই মনে করেন দলীয় প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘আমি এখনও বিশ্বাস করি, এ ধরনের ভুল আওয়ামী লীগ করবে না। যদি করে, তাহলে এটা নিতান্তই সরকারের নেতিবাচক দিক হবে।’

বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনকে দু’টি অর্থে সরকারের শেষ পরীক্ষা বলে ধরা হচ্ছে। এক্ষেত্রে মিনিমাম ফেয়ার নির্বাচন হলে বিএনপি জিতবে, এতে কোনও সন্দেহ নেই। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও একটি সভায় বলেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জ নির্বাচন সরকারের শেষ টেস্ট কেস।’

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল মিলিয়ে দু’টি মনিটরিং সেল গঠন করার তথ্য জানিয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ‘একটি নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আরেকটি নারায়ণগঞ্জ নগরীতে স্থাপন করা হবে। এর বাইরে গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকেও মনিটরিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র কয়েকজন নেতা বৈঠক করেছেন।’

সূত্রের দাবি, জয়ের প্রতি শতভাগ একাগ্র বিএনপির হাইকমান্ড। এ কারণেই খালেদা জিয়াসহ দলের সিনিয়র নেতারা নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘দল প্রার্থী দিয়েছে বিজয়ী হওয়ার জন্যই। ভোটে কারচুপি না হলে বিএনপি জয়ী হবে, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ মানুষের মধ্যে নেই। সরকার কারচুপি করলে এর রেশ টানতে হবে।’