মেইন ম্যেনু

নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ হতে পারে যে স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর কারণে

bad-breath3

নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের কারণে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয় এবং সামাজিক জীবনেও এর প্রভাব পরে। নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হওয়ার সাধারণ কারণ হচ্ছে ক্যাভিটি, ড্রাই মাউথ, ওরাল হাইজিন না মানা, শ্বসনতন্ত্রের সংক্রমণ ইত্যাদি। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের সমস্যায় ভুগছেন এমন ১০% রোগীরই নাক, কান বা গলার সমস্যা আছে। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধের কারণ এমন ৫ টি ENT ডিজঅর্ডারের কথাই জানবো এই ফিচারে।

১। টনসিল

তীব্র টনসিলের সমস্যা ছোট বা বড় উভয়েরই হতে পারে। টনসিল ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা আক্রান্ত হলেই তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, তীব্র টনসিলের সমস্যার কারণে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হতে পারে। টনসিলের রোগীদের মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি ভালোভাবে মেনে চলা এবং টন্সিলেক্টমি করার প্রয়োজন হতে পারে।

২। পোস্ট-ন্যাজাল ড্রিপ

যখন কারো নাক ও গলার পেছনের অংশে মিউকাস জমা হয় তখন পোস্ট-ন্যাজাল ড্রিপ তৈরি হয়। নাক ও গলার গ্রন্থি থেকে মিউকাস উৎপন্ন হয়। মিউকাস নাকের পর্দা পরিষ্কার হতে সাহায্য করে এবং বাহিরের কোন পদার্থ নাকের ভেতরে প্রবেশে বাঁধা দেয়। নাক দিয়ে পানি ঝরার সমস্যাটি মূলত দেখা দেয় ফ্লু হলে, অ্যালার্জির কারণে বা ঠান্ডায় আক্রান্ত হলে। এর কারণে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের মাধ্যমে এর নিরাময় করা যায়।

৩। সাইনুসাইটিস

সাইনুসাইটিসে আক্রান্ত ৫০-৭০% মানুষেরই নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ হতে পারে। এটি অনেকটা পোস্ট-ন্যাজাল ড্রিপ সমস্যাটির মতোই। সাইনাস ইনফেকশনের রোগীদের সাইনাসে প্রদাহ হয় এবং মিউকাস প্রবাহিত না হয়ে জমে যায়। এর ফলে ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হয় এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ তৈরি করে।

৪। এট্রোফিক রাইনাইটিস

এট্রোফিক রাইনাইটিস নাকের ক্রনিক ব্যাধি। যার ফলে নাকের গহবরে ঘন ও শুষ্ক আবরণ তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ডিকঞ্জেস্টিভ ঔষধ বা কোকেনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বা রেডিওথেরাপি নিলে হয় এট্রোফিক রাইনাইটিস। এট্রোফিক রাইনাইটিসের ফলে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের মাধ্যমে এর নিরাময় সম্ভব।

৫। ঠোঁট ও তালুর চিড়

ঠোঁট ও তালুর চিড় ধরার সমস্যাটি জন্মগত সমস্যা। যেখানে মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শিশুর মুখ বা ঠোঁট সঠিকভাবে গঠিত হয়না। চিড় ধরা ঠোঁটের কারণেও নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ হতে পারে। কারণ ঠোঁটের চিড় বা ফাটলে কোন প্রকার বাঁধাবিঘ্ন ছাড়াই ব্যাকটেরিয়া লুকিয়ে থাকতে পারে।