মেইন ম্যেনু

নেটে তাঁর নগ্ন ছবি প্রকাশের হুমকি শুনে অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ নিলেন এই তরুণী

viral

দেশে এবং বিদেশে নারী নিগ্রহের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক সমাজবিদই মনে করেন, এমতাবস্থায় মেয়েদেরই প্রতিবাদে সোচ্চার হতে হবে, আরও দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিতে হবে। সেই কাঙ্ক্ষিত সাহস ও মানসিক দৃঢ়তার অনন্য নজির স্থাপন করলেন তরুণা অশ্বানি নামের এক তরুণী।

দিন কয়েক আগে তরুণা তাঁর মেল অ্যাকাউন্টে একটি ইমেল পান। কোনও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির নামে আসা সেই মেলে তরুণাকে উদ্দেশ করে লেখা ছিল— ‘‘তোমার সমস্ত বন্ধু এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ রয়েছে। এমনকী তোমার আত্মীয়-স্বজন এবং সহকর্মীদের সঙ্গেও আমি চাইলে যোগাযোগ করতে পারি।… আমি একজন সাইবার হ্যাকার। তুমি তোমার বয়ফ্রেন্ডকে তোমার যে ব্যক্তিগত ছবি এবং ভি়ডিওগুলো পাঠিয়েছিলে, সেগুলো সমস্ত আমি হ্যাক করে নিয়েছি।…

তু‌মি যদি তোমার কিছু নগ্ন ছবি আমাকে মেল না করো, তাহলে তোমার সেই সমস্ত ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও আমি তোমার বন্ধু ও আত্মীয়-পরিজনকে পাঠিয়ে দেব।… অনেকে হয়তো সেইসব ভিডিও আর ছবি দেখে বিব্রত বোধ করবেন, কিন্তু অনেকে খুশিও হবেন।… আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তুমি আমার দাবি না মানলে তোমার ওইসব ভিডিও আর ছবি আমি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেব।’’

কিন্তু মেল-প্রেরক এটা বোঝেনি যে, এই ধরনের হুমকির মুখে ভেঙে প়ড়ার মেয়ে তরুণা নন। তিনি অন্য ধাতুতে গড়া। তিনি এই চাপের মুখে ভেঙে পড়ার বদলে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ফেসবুক মারফৎ গোটা ব্যাপারটা নিজেই প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘‘হ্যাঁ, আমি আমার বয়ফ্রেন্ডকে কিছু ছবি আর ভিডিও পাঠিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু সেই সমস্ত ছবি আর ভিডিও আমার পক্ষে যতই অস্বস্তিকর হোক না কেন, আমি এই লোকটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব বলে স্থির করেছি।’’ নিজের ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে সেই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির পাঠানো ইমেলে‌র একাধিক স্ক্রিন শটও জুড়ে দেন তিনি। পাশাপাশি নিজের ফেসবুক বন্ধুদের কাছে রাখেন আবেদন— ‘যত বেশি সম্ভব শেয়ার করুন আমার এই পোস্ট, যাতে ওই লোকটা পৃথিবীর যে প্রান্তেই লুকিয়ে থাকুক, তাকে যেন চিহ্নিত করা যায়।’’

image-1

তরুণার সেই ফেসবুক পোস্ট
তরুণার সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুরা তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। তরুণার ওই পোস্ট ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়েছে ফেসবুকে। বিষয়টা ফেসবুকে এতটাই আলোড়ন তুলেছে যে প্রশাসনও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে। মেল প্রেরক নিজেকে মুম্বই নিবাসী বলে জানিয়েছিল। সেই কারণে মুম্বই পুলিশ নিজে যেচে তরুণার কাছে আবেদন রেখেছে যে, তিনি যেন একটি অফিসিয়াল অভিযোগ দায়ের করেন পুলিশে।

বর্তমানে মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা তরুণা নারীর আত্মসম্মানের প্রশ্নে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন। যে বা যারা তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছিল সে/তারা তরুণাকে পাঠানো মেলে লিখেছিল, ‘‘আমি তোমার থেকে কয়েকশো মাইল দূরে রয়েছি। কাজেই তুমি আমার টিকিটিও ছুঁতে পারবে না।’’ কিন্তু তরুণার সাহসী পদক্ষেপের জেরে পুলিশের হাতে তাদের ধরা পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা। সত্যিই কুর্নিশের যোগ্য কাজ করেছেন তরুণা।