মেইন ম্যেনু

নোটবদলে মরিয়া মানুষ! কীভাবে উঠবে হাতের কালি, প্রশ্ন গুগলকে

15

ভারতীয় হোক, অ-ভারতীয় হোক, ভরসা একমাত্র গুগল। কাছের মানুষের কথার চেয়েও গুগল সার্চ রেজাল্টকেই বিশ্বাস করে অনলাইন জেনারেশন। তাই ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর নোটবদলের ঘোষণার পরে কী করে রাতারাতি কালো টাকা সাদা করতে হয়, সেই সার্চই ছিল গুগল ইন্ডিয়ায় সবচেয়ে বেশি ট্রেন্ডিং। যত সময় গিয়েছে, একটু একটু করে কমতে থেকেছে সেই ট্রেন্ড। কিন্তু গত ১৪ নভেম্বর, টাকা তুলতে গেলে হাতে কালি লাগানো হবে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের পরেই আবারও গুগলের শরণাপন্ন হয়েছেন ভারতীয়রা।

এবার সার্চের বিষয় ‘ইনডেলিবল ইঙ্ক রিমুভাল’। গত চারদিনে, এদেশে এটাই সর্বোচ্চ সার্চ টপিক। আজ, ১৯ নভেম্বর দেশের একাধিক রাজ্যে উপ-নির্বাচন চলছে। আসাম, অরুণাচল প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরার একাধিক কেন্দ্রে আজ সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ভোটদান পর্ব। এছাড়া পুডুচেরির একটি বিধানসভার কেন্দ্রেও আজ উপনির্বাচন হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের সিদ্ধান্তের পরে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে, যে সমস্ত অঞ্চলে উপনির্বাচন রয়েছে সেখানে যেন ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পরে হাতে কালি না লাগানো হয়।

মজার বিষয় হল, এই সমস্ত ঘোষণা, ঘোষণা স্তরেই মূলত থেকে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ব্যাঙ্কেই কালি এসে পৌঁছয়নি এখনও পর্যন্ত। তাই সব জায়গাতেই যে হাতি কালি লাগানো হচ্ছে তা নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও কালি কী করে মুছে ফেলা যায়, আগেভাগেই সে বিষয়ে খোঁজ করে নিতে চাইছেন ভারতীয়রা। গুগল ট্রেন্ডসের রিপোর্ট বলছে, গত তিন-চারদিনে এই বিষয়ক সার্চ সবচেয়ে বেশি হয়েছে দিল্লিতে। তার পরেই রয়েছে কর্ণাটক ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। চতুর্থ স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র ও পঞ্চম স্থানে উত্তরপ্রদেশ। এই ট্রেন্ড থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় লাগানো হাতের কালি নিয়ে একটুও ভাবিত নন ভারতীয় জনগণ কারণ উপরে উল্লিখিত পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই উপ-নির্বাচন রয়েছে, তাও দু’টি লোকসভা এবং একটি বিধানসভা কেন্দ্রে।

অর্থাৎ এর থেকে স্পষ্ট যে দেশের মানুষ মূলত নোটবদলের পরে ব্যাঙ্কের লাগানো হাতের কালি মুছতেই মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং গুগল খুঁড়ে বের করতে চাইছেন কোনও একটি উপায়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনই লাগাক, বা ব্যাঙ্ক, হাতের কালি তুলে ফেলা কিন্তু আইনবিরুদ্ধ। সে সব নৈতিকতা নিয়ে এখন কমই ভাবছেন দেশের মানুষ। তাঁদের সামনে শুধুই টাকাবদল এবং টাকা তোলার আতঙ্ক। কিন্তু তার পরেও একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, শুধুমাত্র ভারতের কয়েকটি রাজ্যেই গুগলে এই সার্চ ট্রেন্ড কেন? তবে কি অন্য রাজ্যের মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না, নাকি সেখানে কালি লাগানো হচ্ছে না? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এখনও পাওয়া যায়নি।