মেইন ম্যেনু

নোয়াখালীতে টানা বৃষ্টি ও বাতাসে রোপাআমন নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত

unnamed-1

এম.এ আয়াত উল্যা, স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিন্ম চাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ভারি বাতাসে নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলায় ৪৭ হাজার ৮৪৫ হেক্টর রোপাআমন নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পানিতে ডুবে থাকা আমন ধান আশানুরোপ উৎপাদন না হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে কৃষকদের। জেলার সদর, সুবর্ণচর ও কবিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রায় সব ধানক্ষেতের রোপাআমন বাতাসের কবলে পড়ে নিমজ্জিত হয়েছে। দেখা গেছে প্রায় ধান গাছেই থোড় এসেছে।

কিছুতে ফুল ও দুধ অবস্থায় রয়েছে। কৃষকরা বলছে শুক্রবার দুপুর থেকে আকাশে মেঘ দেখা যায়। বিকেল থেকে শুরু হয় হামলা থেকে দমকা হাওয়া। মধ্যরাতের দিকে বাতাসের সাথে বৃষ্টি শুরু হলেই ধান গাছগুলো নুয়ে পড়ে। শনিবার থেকে রোববার রাত পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে যায়। এতে বাতাসে নুয়েপড়া রোপাআমন পানিতে নিমজ্জিত হয়। নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯টি উপজেলায় এক লাখ ৫৬ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে রোপাআমন আবাদ করা হয়।

এর মধ্যে নোয়াখালী সদরে ১৭৯১০, বেগমগঞ্জে ২৩০, সেনবাগে ৪১৪৫, চাটখিলে ২০, কোম্পানীগঞ্জে ২২২৮০, হাতিয়ায় ৬৪৭০০, সোনাইমুড়িতে ১৮, সুবর্ণচরে ৩৭৭০০ ও কবিরহাট উপজেলায় ৯২০০ হেক্টর জমিতে রোপাআমন আবাদ করা হয়। কিন্তু শুক্রবার থেকে নিন্মচাপের প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও বাতাসে জেলার ৬টি উপজেলায় ৪৭ হাজার ৮৪৫ হেক্টর রোপাআমন নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৪৪৭৭, সেনবাগে ৪১৬, কোম্পানীগঞ্জে ৬৬৮৪, হাতিয়ায় ২২৯৪৮, সুবর্ণচরে ১১০০০ ও কবিরহাট উপজেলায় ২৩২০ হেক্টর জমির রোপাআমন বাতাসে নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সুবর্ণচর উপজেলার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সাগরিকা’র কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শিবভ্রত ভৌমিক জানান, শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিনি উপজেলার চরজব্বার, চরজুবলি, চরবাটা ও চর ওয়াপদা ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। দেখা গেছে উঁচু এলাকার জমিগুলোর রোপাআমন এখনও কিছুটা দাঁড়িয়ে আছে।

পরিদর্শনকৃত এলাকার প্রায় ৫৫-৬০ শতাংশ রোপা আমন বাতাসে নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতা যদি আরো ২-৩দিনও থাকে তাহলে পানিতে পড়ে থাকা ধানগুলোর প্রায়সবগুলোই পচে যাবে। চরজুবলী ইউনিয়নের কৃষক মো. সেলিম জানান, এ বছর তিনি বর্গা নিয়ে প্রায় ৫ কানি জমিতে রোপাআমন আবাদ করেছেন। বর্তমানে ধানে পাঁক ধরেছে। বাংলা আশ্বিন মাসে আবাদ করা এ ধান চলতি (কার্তিক) মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘরে তোলার স্বপ্ন ছিল। হাওলাত ও ধানের উপর (সুদে) টাকা নিয়ে আবাদ করেছেন। দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন তিনি প্রায় সর্বশান্ত।

এ কৃষক আরো জানান, দুর্যোগের কবলে না পড়লে এবছর সাড়ে ৪০০মণ আমন ধান ঘরে তুলতেন তিনি। কিন্তু গত দুই দিনের অতিবৃষ্টি ও বাতাসে ধান নুয়ে পড়ে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। যদি দ্রুত পানি সরে তাহলে হয়তো প্রতি কানিতে ৩৪ থেকে ৪০ মণ করে ধান তুলতে পারবেন। আবার যা ঘরে তুলবেন এর মধ্যেও অনেক ধান মরা পড়বে। আবাদে ৮০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে।

এ অবস্থায় কিভাবে হাওলাত ও ধানের উপর নেয়া টাকা শোধ করবেন তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন তিনি। শুধু সেলিম নয়, কথা হয় চরবাটার রবি, চরজুবলির খায়রুল আলম, সেলিম সর্দার ও চরওয়াপদার রবিউল আলম, আবুল খায়ের এবং ছিদ্দিকের সাথে। তাঁদের প্রত্যেকেরই একই অবস্থা। অনেক ধান পাঁক ধরেছে, অনেকের থোড় আসছে মাত্র। তবে ধান নিমজ্জিত হয়ে এ কথা মানতে রাজি নয় নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রণব ভট্টাচার্য্য।

তিনি বলেন, বাতাসে ধানগুলো হেলে পড়েছে। এটাকে আক্রান্ত বলা যায়। পুরো জেলার মধ্যে হাতিয়া ও সুবর্ণচরে একটু বেশি হয়েছে। সব মিলিয়ে জেলায় ৩১ শতাংশ রোপা আমন, বিশেষ করে স্থানীয় জাত আক্রান্ত হয়েছে। তবে পানি সরে গেলে হয়তো অতটা সমস্যা থাকবে না।

তিনি বলেন, তারপরও প্রতি মুহুর্তে কৃষি বিভাগ মাঠে ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছে। উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত লিখিত রিপোর্ট করা হচ্ছে। একই সাথে আমনের ক্ষয়-ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে নেয়া যায় এবং রবি মৌসুমে কিভাবে আরো ভালো শস্য উৎপাদন করা যায় সে বিষয়ে মাঠে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন তার কর্মকর্তারা।