মেইন ম্যেনু

পবনপুত্রকে পোষ মানিয়ে সবাইকে চমকে দিলেন ‘বাহুবলী বউদি’

বন দফতরের সমস্ত রণকৌশল ভেস্তে গিয়েছে৷ হার মেনেছে গ্রামের পুরুষরাও৷ পবনদেবের অত্যাচারই যখন প্রায় নিত্যদিনের ভবিতব্য বলে ধরে নিয়েছিলেন এলাকার সাত থেকে সত্তর, তখন সেই বেয়াড়া পবনপুত্রকে ধরে ফেললেন দীপালি বউদি (চক্রবর্তী)। আর তারপর থেকেই কার্যত ‘বাহুবলী’ বউদির মর্যাদা পাচ্ছেন ধূপগুড়ির চার নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজিপাড়ার দীপালিদেবী৷ বাঁদরামির হাত থেকে মুক্তি পেয়ে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন গোটা এলাকার মানুষজন।

গত প্রায় এক মাস ধরে একটি বাঁদরের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন ধূপগুড়ি শহরের বাসিন্দারা৷ কখনও কারও ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়া, কখনও বা দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে তেড়ে যাওয়া, কখনও আবার ঘটি-বাটি উল্টে, জিনিসপত্র তছনছ করে কার্যত নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছিল সাধারণ মানুষকে৷ ভয়ে গুটিশুটি মেরে রাস্তায় চলাফেরা করছিলেন তাঁরা৷ গত এক মাসে সাত জন আহত হয়েছেন এই বাঁদরের আক্রমণে৷ নাকানিচোবানি খেয়েছে বন দফতরও৷ কলার কাঁদি, জাল, খাঁচা, ঘুমপাড়ানি গুলি– কোনও ব্রহ্মাস্ত্রই কাজে আসেনি।

এরকম পরিস্থিতিতেই বাঁদরামির যবনিকা পড়ল সোমবার দুপুরে৷ কীভাবে? দীপালি বউদি রান্না করছিলেন৷ আচমকাই পবনদেবের পদার্পণ৷ থালা-বাটি ফেলে প্রায় লঙ্কাকাণ্ড৷ দীপালি বউদি ধমক দিতেই গুটিশুটি মেরে চলে আসে তাঁর পায়ের কাছে৷ দীপালি বউদিও আদর করতেই বাঁদর একেবারে গলে জল৷ কোলে করে বাড়ির বাইরে আসতেই গ্রামবাসীর চক্ষু ছানাবড়া৷ যে বাঁদরের লম্ফঝম্ফ দেখে কম্পমান গোটা এলাকা, তাকে কিনা সন্তানস্নেহে কোলে তুলে নিলেন! বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই ‘ধন্যি মেয়ে’র প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাড়ার সবাই৷ আর দীপালি বউদি নিজে বলছেন, আদরেই বাঁদর ‘বধ’।

নাটকের শেষ অঙ্কে বন দফতরের কর্মীদের প্রবেশ৷ দীপালি বউদি অবশ্য বাঁদরটিকে বাড়িতেই পোষ মানাতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু বন্যেরা বনে সুন্দর৷ তাই রাখা গেল না৷ নিয়ে গেল বন দফতর।

বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফের রেঞ্জ অফিসার জলধর রায় জানান, ধূপগুড়ি শহর লাগোয়া সোনাখালির জঙ্গল থেকেই সম্ভবত বাঁদরটি লোকালয়ে চলে আসে। -সংবাদ প্রতিদিন।