মেইন ম্যেনু

পাঁচটি মারাত্মক মিথ্যে, যা সত্যি বলে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে গেছে

1447348194-450x300

নেট-নির্ভরতা যে জায়গায় পৌঁছেছে গত এক দশকে, তাতে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে এমন ধারণা বদ্ধমূল হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, নেট-বিশ্বে ভ্রাম্যমান যাবতীয় তথ্য প্রায় বেদবাক্য। যে সময়ে ছাপাখানা আবিষ্কৃত হয়েছিল, সেই সময়েও এমন একটা ধারণা মানুষের মনে ছেয়ে গিয়েছিল, ছাপার অক্ষরে লিখিত সব কথাই সত্য। এই আধুনিক ‘দৈবকথন’-নির্ভরতার ব্যাপারটা নজর এড়ায়নি দার্শনিকদেরও। থিওডোর অ্যাডোর্নো নেটভুবনের জন্মের বহু আগেই এই ‘কিংবদন্তি’ বা ‘বেদবাক্য’-নির্ভরতার কথা বলে গিয়েছিলেন। সব জেনে-বুঝেও আমরা, নেট-ভোজীরা চোখ বুজে বিশ্বাস করে বসি সেই সব ভিত্তিহীন, আজগুবি বচনকে।

এর মধ্যে বেশ কিছু মিথ্যা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার হতে হতে এমন আকার নেয়, যাকে আর মিথ্যে বলে চেনা যায় না। এখানে তেমন পাঁচটির উদাহরণ রইল।

১. টুইটার শাট ডাউন করে যাচ্ছে ২০১৭ সালে— সাইবারবুলিইং-এর আখড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সোশ্যাল মিডিয়া। সে কারণেই একে আর বাঁচিয়ে রাখা যাচ্ছে না, এই মর্মে গুজব আজও ছড়ায়। টুইটার-কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।

২. ড্যুরেক্স এক বেগুনগন্ধী কনডোম বেজারে এনেছে— ডাঁহা গুজব। এটা একেবারেই একটা মার্কেটিং স্টান্ট ছিল। পাবলিককে সেফ সেক্স সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রাখতেই এটি রটানো হয়েছিল।

৩. বার্কলে-র চিকিৎসক জানিয়েছেন, ক্যান্সারে মানুষ মারা যান না, মারা যান কেমোথেরাপিতেই— ১৯৭৮-এ ডাক্তার হার্ডিন জোনস মারা গিয়েছেন। তার পরেও তাঁর এই ভুল বক্তব্য ইন্টারনেটে ক্রমান্বয়ে চলে আসছে। তাঁর এই দাবি আজও প্রমাণিত নয়। ক্যান্সার-চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে এই ভুল ধারণা কতটা ক্ষতিকারক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

৪. নকল বাঁধাকপি তৈরি হচ্ছে এশিয়ার কোনও দেশে— শুধু খবর নয়, সেই সঙ্গে বাঁধাকপি তৈরির ভিডিও-ও ভাইরাল হয়ে পড়ে ইন্টারনেটে। আসল ঘটনাটি ছিল এই, ‘নকল’ বাঁধাকপিগুলো নকলই। কোনও এগজিবিশনে সাজানোর জন্যই ওগুলো তৈরি হচ্ছিল।

৫. চিকেনের নামে রেড মিট চালাচ্ছে বেশ কিছু মার্কিন ফুড চেন— আমেরিকায় ভাইরাল হয় এই খবর। বলা হতে থাকে, মাংস সরবরাহকারী সংস্থাগুলো টন-টন রেড মিট সাপ্লাই করছে অকাতরে। গল্পটা নেহাতই বানানো। এটি কোনও একটি সাইটে আষাঢ়ে গল্প প্রতিযোগিতায় কেউ লিখছিলেন। তার পরে কেউ সিরিয়াসলি সেটাকে ম্যানিপুলেট করেন।