মেইন ম্যেনু

ফুলবাড়িয়া সংঘর্ষ : ১৪৪ ধারা জারি, পাঁচশ’ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটায় শিক্ষকসহ দু’জন নিহতের ঘটনায় চরম উত্তেজনা পরিস্থিতি সৃষ্টির পরিপ্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে ফুলবাড়িয়ার উপজেলা সদরে (ফুলবাড়িয়া পৌর এলাকার জোড়বাড়িয়া থেকে ভালুকজান পর্যন্ত) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লীরা তরফদার জানিয়েছেন।

তিনি জানান, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।

নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এর আগে রোববার ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংর্ঘষ হয়। এ সময় পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটায় কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম ও পথচারী ভ্যানচালক সফর আলী মারা যান। এছাড়া সংঘর্ষে ৭ পুলিশ সদস্য ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ শতাধিক আহত হন।

আন্দোলনকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এদিন দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে ছাত্র-শিক্ষকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাড়ে ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলি। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশ বৃষ্টির মতো গুলি ছোড়ে।

পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের ভাষ্য, পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ আত্মরক্ষায় লাঠিচার্জ করে এবং ১৫-২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। নিহত দু’জনই অসুস্থ ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে এ সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চারশ’ থেকে পাচশ’ জনের বিরুদ্ধে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা দায়ের করেছে।

অপর একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে নিহত পথচারী সফর আলীর ভাই হজরত আলী।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিফাত খান মামলা দুটির বিষয় নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ১৪৪ ধারা জারির কথা স্বীকার করেন তিনি।

অপরদিকে ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আবুল কালামের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে আজ ভোর রাতে পুলিশি প্রহরায় তার নিজ গ্রাম নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়েনের কাদিরপুর পশ্চিমপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সেখানে বেলা ১১টায় স্থানীয় ফুরকানিয়া মাদ্রাসা মাঠে জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।