মেইন ম্যেনু

পিএসসি পরীক্ষা শেষে সেই বৃদ্ধা বললেন আমার পরীক্ষা ফাইন হয়েছে

হাঁটতেও কষ্ট হয় তার। আর এই বয়সেই পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। ক্লাসে সবচেয়ে নিয়মিত ছাত্রী ছিলেন তিনি। মেহেরপুরের গাংনীর হোগলবাড়িয়া-মহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গতকাল পিইসির অঙ্ক পরীক্ষায় অংশ নেন বাসিরন।

৬৩ বছর বয়সী বাসিরন খাতুনের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষা গতকাল রবিবার শেষ হয়েছে। পরীক্ষা শেষে তিনি বলেন, ‘অঙ্ক পরীক্ষা ফাইন হয়েছে। বুঝেশুনে ১০০ নম্বরের উত্তর লিখেছি। এর মধ্যে যেটা ভুল মনে হয়েছে সেটা আবার ঠিক করেছি। তার পরও ভুল হইতে পারে। পরীক্ষা তো শেষ হলো, এখন অপেক্ষা করছি রেজাল্টের। আশা করছি, ভালোভাবেই পাস করব।’

তিনি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হোগলবাড়িয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। একই গ্রামের হোগলবাড়িয়া-মহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর কেন্দ্র ছিল। তিনি ওই গ্রামের মাঠপাড়ার রহিল উদ্দিনের (মৃত) স্ত্রী। এর আগেও তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

হোগলবাড়িয়া পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বাসিরনকে আমরা খুব মিস করব। ঝড়-বৃষ্টির দিনে কোনো ছাত্রছাত্রী না এলেও তিনি ঠিকই স্কুলে আসতেন। তাঁর পিইসি পরীক্ষা শেষ। তিনি তো আর আসবেন না। স্কুলে তাঁকে ঘিরে যে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল, এখন তা থাকবে না। তিনি ভালোভাবে পাস করবেন, এ বিশ্বাস আমার আছে।’

এখন কী করে সময় কাটাবেন? প্রশ্ন করলে বাসিরন বলেন, ‘পরীক্ষার কারণে কোরআন শরিফ পড়া একটু কম হয়েছিল। এখন সেটা পূরণ করতে হবে তো। এখন বেশি বেশি কোরআন শরিফ পড়ব। পাশাপাশি বৌমার সঙ্গে সংসারের কাজ করব।’ আর পড়াশোনা করবেন না? তাঁর জবাব, ‘বেঁচে থাকা পর্যন্ত ওপরের ক্লাসে লেখাপড়া করব।’