মেইন ম্যেনু

পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে মশা! অবিশ্বাস্য হলেও কাজটি করে দেখিয়েছেন যিনি

1477317754

অবশেষে শেষ হতে চলেছে বিরক্তিকর প্রাণী মশার যুগ! শুনতে হবে না মশার বিরক্তিকর ‘গান’! পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে ক্ষুদ্র এ প্রাণীটি! অবিশ্বাস্য হলেও এমন কাজটি করে দেখিয়েছে মার্লোন ব্র্যান্ডোর প্রাইভেট দ্বীপ কর্তৃপক্ষ। বিশেষ পদ্ধতিতে মাত্র ছয় মাসেই দ্বীপটি থেকে সম্পূর্ণভাবে মশা নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

মশার কারণে প্রতি বছর বিশ্বে বহু রোগ ছড়ায়। প্রচুর মানুষ মারা যায়। মশা হয়ে উঠেছে একাধারে ছয়টি মারাত্মক রোগের বাহক। বিশ্বের কিছু দেশে বিচ্ছিন্নভাবে এসব রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলেও বাংলাদেশে ছয়টি রোগেরই ঝুঁকি রয়েছে মশার ব্যাপকতার কারণে। প্রধানত এডিস এজিপ্টি, কিউলেক্স ও অ্যানোফিলিস প্রজাতির মশার মাধ্যমেই ছড়ায় এসব রোগ। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ছয়টি রোগের ঝুঁকি থাকলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সূত্র অনুসারে এই তিন জাতের মশা অন্তত ৯টি রোগের বাহক।

মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে সারা বিশ্বে বছরে ১০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। গত বছর কেবল ম্যালেরিয়াতেই মারা গেছে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ। আর ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে ১০০টি দেশের প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

মশাবাহিত ছয় রোগের মধ্যে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও ফাইলেরিয়ার প্রাদুর্ভাব আগে থেকে রয়েছে। নতুন যুক্ত হয়েছে জাপানিজ এনসেফালাইটিস, চিকনগুনিয়া এবং সর্বশেষ জিকা। এর মধ্যে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া আর জিকা এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। অন্য রোগগুলো ছড়ানোর জন্য দায়ী অন্যান্য প্রজাতির মশা। ফলে মশাকে এখন আর কম গুরুত্ব দেওয়ার কোনো উপায় নেই। এ অবস্থায় মশা নির্মূলে সর্বাত্মক কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে। আর সেক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে মার্লোন ব্র্যান্ডোর প্রাইভেট দ্বীপে মশা নির্মূল করার পদ্ধতি।

যেভাবে নিশ্চিহ্ন হলো মশা
মার্লোন ব্র্যান্ডোর প্রাইভেট দ্বীপে মূলত মশাদের প্রজননের ওপর কৌশলে হস্তক্ষেপ করে মশা নির্মূল করা হয়েছে। এক্ষেত্রে গবেষকরা একটি নির্দিষ্ট কৌশল প্রণয়ন করে মশাদের প্রজনন থামিয়ে দিয়েছেন।
গবেষকরা দ্বীপটিতে গবেষণাগারে তৈরি অসংখ্য পুরুষ মশা অবমুক্ত করেছেন যেগুলো শুক্রাণু উৎপাদনে অক্ষম। এগুলো স্ত্রী মশাদের সঙ্গে মিলিত হলেও তারা ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারে না। আর এ কারণে মশাগুলোর ডিম থেকে নতুন মশা উৎপাদিত হয় না। ফলে দ্বীপটি ক্রমে মশামুক্ত হয়ে পড়ে।

গবেষকরা বলছেন, এখন সারা পৃথিবীতে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে মশাদের বংশবৃদ্ধি থামিয়ে দেওয়া সম্ভব। আর এতে তারা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আর এর ফলে বিলুপ্ত হবে মশাবাহিত রোগগুলোও।-বাংলাদেশ প্রতিদিন