মেইন ম্যেনু

পেশীর শক্তি বৃদ্ধি ও বয়স বৃদ্ধি ঠেকাতে সাহায্য করে ডালিম

pomegranate-juice-powder

ডালিম বা আনার পেশীর শক্তি বৃদ্ধিতে এবং বয়স বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কাজ করে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। এই গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, আমরা যখন ডালিমের জুস খাই তখন আমাদের শরীরে ইউরিলিথিন এ নামক অণু উৎপন্ন হয়। এই অণুগুলো যখন পাকস্থলীতে কীটাণুর দ্বারা পরিবর্তিত হয় তখন পেশীর কোষকে পক্কতার বিরুদ্ধে সুরক্ষিত হতে সাহায্য করে এবং পেশীর ভর বৃদ্ধি পায়। গবেষণাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই চলুন।

বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মাইটোকন্ড্রিয়ার রিসাইকেল (রাসায়নিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা জিনিসকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলার প্রক্রিয়াই হচ্ছে রিসাইকেল) করতে ক্রমাগত যুদ্ধ করতে থাকে আমাদের কোষগুলো। ফলে কোষের শক্তিঘর হিসেবে পরিচিত মাইটোকন্ড্রিয়া তার অত্যাবশ্যকীয় কাজগুলো করারই সামর্থ্য হারায় এবং কোষে জমা হতে থাকে।

এই ক্ষয় বা অধঃপতনের ফলে পেশীসহ অনেক টিস্যুর উপরই প্রভাব বিস্তার করে। যার ফলে শরীরের পেশীগুলো ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে এবং বয়স সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগে বাড়তে থাকে।

ইউরিলিথিন ত্রুটিপূর্ণ মাইটোকন্ড্রিয়ার রিসাইকেল করার ক্ষমতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।

সুইজারল্যান্ডের একটি রিসার্চ ইন্সটিটিউট – ইকোল পলিটেকনিক ফেডারেল ডি লসেন এর প্রেসিডেন্ট পেট্রিক অ্যাবিসচার বলেন, “এটিই একমাত্র জানা অণু যা মাইটোকন্ড্রিয়ার ক্লিন আপ প্রক্রিয়াকে আরম্ভ করতে পারে”। তিনি আরো বলেন, “এটি সম্পূর্ণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান, এর প্রভাব শক্তিশালী এবং পরিমাপযোগ্য”।

গবেষকদল তাদের হাইপোথিসিসটি পরীক্ষার জন্য ৮-১০ দিনেই পরিণত হয়ে যায় এমন কেঁচোক্রিমি C.elegans কে ব্যবহার করেন। ইউরিলিথিন এ এর প্রভাবে অন্য নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের তুলনায় ৪৫% বৃদ্ধি পায় কৃমির জীবনের দৈর্ঘ্য।

রোডেন্টদের নিয়ে করা এই গবেষণায় দেখা যায় যে, বয়স্ক ইদুর যাদের বয়স প্রায় দুই বছর তাদের দেহে ইউরিলিথিন এ এর প্রকাশে তাদের সহনশীলতা ৪২% বৃদ্ধি পায়।

গবেষকেরা বলেন, “যদিও ডালিমের মধ্যে এই অলৌকিক অণুটি থাকেনা, কিন্তু এর অগ্রদূত হিসেবে কাজ করে”।

প্রাণী প্রজাতি এবং অন্ত্রে উপস্থিত মাইক্রোবিয়ামের উপরই নির্ভর করে ইউরিলিথিন এ উৎপাদনের পরিমাণ। তারা আরো উল্লেখ করেন, অন্ত্রে যদি সঠিক কীটাণু না থাকে তাহলে ইউরিলিথিন এ উৎপন্ন হয়না। সুইজারল্যান্ডের লাইফ সাইন্স কোম্পানি অ্যামাজেন্টিসের সিইও ক্রিস রিঞ্চ বলেন-“আমাদের অন্ত্রে ইউরিলিথিন এ উৎপাদনের জন্য আমরা যা খাই তা ভাঙ্গার সামর্থ্য থাকতে হবে ব্যাকটেরিয়ার। পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে পদার্থগুলো উৎপন্ন হয় তা আমাদের জন্য উপকারী। প্রাকৃতিক নির্বাচন হোস্ট এবং জড়িত ব্যাকটেরিয়া এই উভয়ের জন্যই উপকারী”।

রিঞ্চ আরো বলেন, ইউরিলিথিন এ এর অগ্রদূত শুধু ডালিমেই পাওয়া যায় না, আরো অনেক বাদাম ও জাম জাতীয় ফলেও সামান্য পরিমাণে থাকে।