মেইন ম্যেনু

প্যাকেজ ভ্যাট বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামবেন ব্যবসায়ীরা

প্যাকেজ ভ্যাট বহাল ও ট্যাক্স-ভ্যাট আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাঠ কর্মকর্তাদের নানা হয়রানির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামবেন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। এ লক্ষ্যে দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা মহানগরী দোকান মালিক সমিতি। সোমবার রাজধানীর মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটির নেতারা।

সভায় সংগঠনের সভাপতি তৌফিক আহসান বলেন, প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখতে এফবিসিসিআইর নেতৃত্বে এনবিআর ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন এ বছর পর্যন্ত প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখবেন। কিন্তু আমাদের দাবি এটি শুধু এ বছরের জন্য নয়, সব সময়ের জন্যই বহাল রাখুন। এছাড়া ট্যাক্স-ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের মাঠ কর্মকর্তাদের হয়রানির বিরুদ্ধে আমরা সবসময়ই বলে আসছি। এনবিআর আমাদেরকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা চেয়েছিল। আমরা তা দিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। তারা ভ্যাট আদায়ের নামে হয়রানি করছে। আমাদের দোকানের ফাইলপত্র জব্দ করছে। আবার কিছু টাকা দিয়ে দিলে তা ফেরত দিয়ে দিচ্ছে। আমরা আর এসব অনাচার সহ্য করবো না। অচিরেই এসব বিষয়ে আন্দোলনে নামবো।

তিনি বলেন, আমরা ভ্যাট দিতে চাই। কিন্তু জুলুম বা নির্যাতিত হয়ে নয়। নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও এফবিসিসআই পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন জানান, এনবিআর কর্মকর্তাদের আচরণে অতিষ্ঠ সাধারণ ব্যবসায়ীরা। আমরা এসবের বিরুদ্ধে আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলন ও রোববার (৩০ অক্টোবর) প্রতিবাদ সভা করবো। এছাড়া আগামী ২ নভেম্বর দোকানপাট বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করবেন ব্যবসায়ীরা। এরপর ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দেয়া হবে। এরমধ্যে ফয়সালা না হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপরও যদি ভ্যাট সমস্যার সুরাহা না হয় তাহলে সারাদেশের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হবে। প্রয়োজনে সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়া বন্ধ করে দেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত হয়েছিলেন এফবিসিসআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি নিজেও একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলাম। আমি আপনাদের সমস্যাগুলো বুঝি। আর বুঝি বলেই এসব বিষয় নিয়ে এনবিআর ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে করেছি। প্রয়োজনে এ বিষয়ে আরো বৈঠক করবো। তারপরও ভ্যাট সমস্যা নিয়ে একটি যৌক্তিক সমাধানে যেতে চাই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভ্যাট অনলাইন চালু হয়েছে ২০১২ সালে। এনবিআরের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের জন্য ভ্যাট অনলাইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এটি বাস্তবায়িত হলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমে আসবে, কিন্তু উপরি টাকা কামানো থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে ওইসব অসাধুরা তা হতে দিচ্ছেন না।

তিনি ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আপনারা সৎভাবে ব্যবসা করুন। তাদের রক্তচক্ষুকে ভয় পাবেন না। ঘুষ দেবেন না। প্রয়োজনে চ্যালেঞ্জ করুন। এফবিসিসআই আপনাদের পাশে থাকবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআই পরিচালক হাবিবুল্লাহ ডনসহ বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের শতাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।