মেইন ম্যেনু

প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনা হবে : দুদক চেয়ারম্যান

দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে প্রভাবশালীসহ কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় দুদক মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অপরাধী যেই হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, প্রভাবশালীদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। শুধু প্রভাবশালীই নয়, যারা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে তাদের সবাইকে আইনের কাছে সোপর্দ হতে হবে।’

চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োজিত হওয়া পর দুর্নীতি দমন কমিশনকে কেউ প্রভাবিত করা চেষ্টা করেনি এবং কেউ অন্যায় আবদারের জন্য কমিশনে আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

দুর্নীতির মামলায় বুধবার কক্সবাজারের সাংসদ আব্দুর রহমান বদির তিন বছরের কারাদণ্ডের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আদালতের কোনো বিষয়ে আমার প্রতিক্রিয়া নেই। তবে আমরা প্রতিটি মামলায় সাজা চাই। কার সাজা হয়েছে এই বিষয়ে আমার মন্তব্য নেই।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুলিশের ব্যাপারে অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়, এটা দীর্ঘ দিনের অভিযোগ। এজন্য আমরা সরকারকে সুপারিশ করেছি, পুলিশের কার্যক্রম মনিটরিং করতে একটি স্বাধীন জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করতে। তা করতে পারলে পুলিশ আরো জনবান্ধব হবে এবং মানুষ অধিক সেবা পাবে।’

প্রত্যেক পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির একটি করে নথি থাকা দরকার বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি উপার্জনক্ষম ব্যক্তির কর দেওয়া উচিত। যদি কর ফাইল থাকে তাহলে সম্পদের হিসেবে সহজে নেওয়া সম্ভব। এতে দুর্নীতি দমন করাও সম্ভব হবে।’

দুদকের গ্রেপ্তারের বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা আতঙ্কে নেই। যারা ঋণ দেবেন এবং যারা নেবেন উভয় পক্ষকে আইন-কানুন মেনে কাজ করতে হবে।’

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘ইতিমধ্যে এই ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির কারণে ৫৬টি মামলা হয়েছে। আরো মামলা হবে। এসব মামলায় কারা আসামি হবে সেই বিষয়ে অগ্রিম কিছু বলা যাচ্ছে না। অনুসন্ধানে যারা আসবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে।’

গ্রেপ্তার মূল উদ্দেশ্যে নয়, জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা। ইতিমধ্যে দুর্নীতির মামলায় যারা আসামি তারা যেন দেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য দেশের সব বন্দরে আসামির পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সংবাদ সম্মেলনে দুদকের কমিশনার (তদন্ত) এ এফ এম আমিনুল ইসলাম, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. নাসির উদ্দিন ও সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।