মেইন ম্যেনু

‘প্রেমের সম্পর্কে’ টানাপোড়েনে জলির আত্মহত্যা

aktar_jahan_joli_atikur_tanvir_ru_rajshahi_29766_1478349124

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান জলির আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে।

এ মামলায় জলির সহকর্মী রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সাবেক সহকারী প্রক্টর মো. আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ। এত নতুন মোড় নেয় ঘটনাটি।

দুই দিন মহানগর ডিবি কার্যালয়ে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার বিকালে আতিকুরকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে আদালতে মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

বিবাহ বিচ্ছেদের পর জুনিয়র সহকর্মী আতিকুরের সঙ্গে জলির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর নতুন এই সম্পর্কের টানাপোড়েনে জলি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশের ধারণা।

নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে আতিকুরের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়েছে। জলির সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মোবাইলের কল রেকর্ডে এ বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।’

আতিকুরকে জিজ্ঞাসাবাদে যুক্ত ছিলেন রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) আল-আমিন। তিনি বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, জলি ও আতিকুরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।’

তার দাবি, সম্প্রতি তাদের প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এমনকি সম্পর্ক দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। এতে আকতার জাহান আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আমির জাফর বলেন, ৬/৭ বছর ধরে জলির সঙ্গে সহকর্মী আতিকুরের সম্পর্ক ছিল। তবে শেষের দিকে তাদের মনোমালিন্য চলছিল। এ বিষয়ে জলির মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি দাবি করেন, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে- জলির আত্মহত্যায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আতিকুরের প্ররোচনা রয়েছে। এজন্য তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আরএমপি’র এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তদন্তে জলির সাবেক স্বামী তানভীর আহমদের ভিন্ন চরিত্র বেরিয়ে এসেছে। তবে এই মামলায় তাকে জড়ানোর মত কোনো আলামত এখনও পায়নি পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা পুলিশের অপর একজন কর্মকর্তা জানান, শিক্ষিকা জলির সবশেষ মানসিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন আতিকুর। ইচ্ছে করলে জলিকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া থেকে রক্ষা করতে পারতেন তিনি। কিন্তু সব জেনে-শুনেও তিনি সেটা করেননি। ফলে জলির আত্মহত্যার ঘটনায় দায় এড়াতে পারেন না আতিকুর।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ড. প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বলেন, ‘আকতার জাহানের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যার ঘটনায় আমরা মর্মাহত। দুটি ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তারা যেন শাস্তি পায় সেই দাবি আমাদের। তবে নিরাপরাধ কেউ যেন মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি না হয়, সে ব্যাপারে পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে।’

গত ৯ সেপ্টেম্বর রাবির শিক্ষকদের আবাসিক জুবেরী ভবনের নিজ কক্ষ থেকে আকতার জাহান জলির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে তার নিজ হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়।

চিরকুটে নিজের সহকর্মী সাবেক স্বামী সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমদের বিরুদ্ধে সন্তানের গলায় ছুরি ধরার অভিযোগের কথা লিখে যান জলি।

তবে নিজের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয় জানিয়ে তিনি লিখেন, ‘শারীরিক ও মানসিক কারণে আমি আত্মহত্যা করলাম।’

পরদিন তার ছোট ভাই বাদী হয়ে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরদিন জলির সাবেক স্বামী তানভীর নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, তার সঙ্গে ২০১০ সালে জলির সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। ওই সময় বিভাগের একজন জুনিয়র সহকর্মীর সঙ্গে তার (জলি) প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে তিনি (তানভীর) আতিকুরের প্রতি ইঙ্গিত করেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আতিকুরকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।