মেইন ম্যেনু

ফুটবলারদের বিমানে যত দুর্ঘটনা

কলম্বিয়ার মেডেলিনে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ব্রাজিলের ক্লাব চাপেকোয়েন্সের ২০ ফুটবলারের জীবন। দলের ৩ খেলোয়াড় প্রাণে বেঁচে গেলেও এতোটা ভাগ্যবান ছিলেন না অন্যরা। বলিভিয়া থেকে যাত্রা করার পর সোমবার মধ্যরাতে কলম্বিয়ার মেডেলিনে ৮১ জন আরোহী নিয়ে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ক্লাবটির তরুণ ফুটবলারেরা একটি আঞ্চলিক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলতে ওই বিমানে করে যাচ্ছিলেন।

তবে ইতিহাসে বিমান বিধ্বস্তের ফলে উদীয়মান ফুটবলারদের প্রাণহানি নতুন নয়। সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছে এর আগে ঘটে যাওয়া একাধিক বিমান দুর্ঘটনার কথা।

মিউনিখ বিমান দুর্ঘটনা

ইতিহাসে বিমান দুর্ঘটনায় ফুটবলার নিহতের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারিতে। জার্মানির মিউনিখ-রিয়েম বিমানবন্দর থেকে যাত্রার পরমুহুর্তেই বিধ্বস্ত হয় ৪৪ আরোহীবাহী ব্রিটিশ-ইউরোপীয় এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ৬০৯। ওই দুর্ঘটনায় ২৩ আরোহী প্রাণ হারান। যাদের মধ্যে ছিলেন ইংলিশ ফুটবল ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রাও। সেদিন ৭ ফুটবলার ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত খেলোয়াড় ডানকান এডওয়ার্ডস দু’সপ্তাহ বাদে মারা যান। আর বিমানে থাকা আরও দু’জন খেলোয়াড় এই ঘটনার ফলে অবসর নিতে বাধ্য হন।

১৯৫৭/৫৮ মৌসুমের দলটি বেশ আলোচিত ছিল। দলের তৎকালীন ম্যানেজার ম্যাট বাজবির নাম অনুসারে এই দলটি পরিচিত ছিল বাজবি বেইবস নামে। ওই দুর্ঘটনায় ম্যাট বাজবিও মারাত্মক আহত হন। সেসময় ধারণা করা হচ্ছিল, ইংলিশ ক্লাবটি সম্ভবত বন্ধই হয়ে যাবে। যদিও ক্লাবটির কোচ জেমস মারফি ম্যানেজারের দায়িত্ব নিলে জীর্ণ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কোনোমতে সেই মৌসুমটি শেষ করে। সেই দুর্ঘটনায় ক্লাবের খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষক ছাড়াও ৮ সাংবাদিক প্রাণ হারান।

জাম্বিয়ার বিমান দুর্ঘটনা

১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল জাম্বিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক দুঃখময় দিন। ওইদিন মর্মান্তিক এক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল দেশটির জাতীয় দলের সব ফুটবলার। জাম্বিয়ার ডিএইচসি ফাইভডি বাফেলো বিমানটি সেদিন আতলান্তিক মহাসাগরে বিধ্বস্ত হলে ৩০ আরোহীর সবাই নিহত হন।

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে জাম্বিয়া পেয়েছিল একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার। ১৯৮৮ সালে অলিম্পিকের আসরে ইতালিকে ৪–০ গোলে হারিয়ে দেয় সেই দলটি। পরবর্তীসময়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও দেখিয়েছিল দারুণ পারফরম্যান্স। বলা হয়, দুর্ঘটনাটির আগে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখছিল আফ্রিকার এ দেশটি। কিন্তু মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা ধূলিস্যাৎ করে দেয় জাম্বিয়ার সেই স্বপ্ন।
বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলার জন্য বিশেষ এক বিমানে করে সেনেগালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন জাম্বিয়ার ফুটবলাররা। কিন্তু ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জাম্বিয়ার ১৮ ফুটবলার ও জাতীয় দলের কোচ গডফ্রে চিতালু।

এছাড়াও ১৯৫৬ সালে কানাডার একটি বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান সেদেশর পাঁচজন ফুটবলার। ১৯৬০ সালে আরেক দুর্ঘটনায় মারা যান ডেনমার্কের আট ফুটবলার। ১৯৬৯ সালে বলিভিয়ায় এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয় দলটির ১৬ ফুটবলারেরর সবাই। পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় কোচসহ নিহত হয় মার্কিন গোল্ডেন ঈগল অ্যাভিয়েশন টিমের ১৪ ফুটবলার। একই বছর গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মার্শাল বিশ্ববিদ্যালয় টিমের সব সদস্য নিহত হয়।