মেইন ম্যেনু

ফেসবুকের মিথ্যা খবর রহস্য: ট্রাম্পকে জেতাতে রোমানিয়ান তরুণের কাণ্ড!

193455drobota1

এ বছরের আগস্টেই ফেসবুকের জনপ্রিয় একটি খবর ছিল, ফক্স নিউজের অ্যাঙ্কর কেলিকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারিকে সমর্থন দেওয়ার কারণে তাকে বিশ্বাসঘাতক বিবেচনা করে এ কাজ করা হয়। এমন বেশ কিছু খবর ফেসবুকে দারুণ আলোড়ন তোলে যা ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। মার্কিন নির্বাচনের আগে এমন গোটা দশেক ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। পোপ ফ্রান্সিসের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দেওয়া, আইএসআইএস এর কাছে হিলারির অস্ত্র বিক্রি বা ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে এফবিআই পরিচালকের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার নেওয়া ইত্যাদি মিথ্যা খবরে সমালোচিত হয় ফেসবুক। এসব খবর পড়েছেন ২৯ লাখ ৫৩ হাজারেরও বেশি সংখ্যক মানুষ। আর লাইক পড়েছে সাড়ে ৩ লাখেরও বেশি।

ফেসবুক ফিডে এমন ভুয়া খবর ছড়ানোর পেছনে যে ব্যক্তি কলকাঠি নেড়েছেন, তিনি রোমানিয়ার ২৪ বছর বয়সী তরুণ অভিডিউ ড্রোবোটা। তার সঙ্গে সাংবাদিক যোগাযোগ করলে তিনি গর্বের সঙ্গে জানান, ট্রাম্পের পেছনে সমর্থন বাড়ানোর জন্যই এমন করেছেন তিনি।

এসব খবর ছড়ানোর মাধ্যমে তিনি ফিডে খবর প্রকাশের নীতিমালা খর্ব করেছেন ঠিকই। কিন্তু মূলধারার মিডিয়াগুলো এর চেয়ে কম কিছু করেননি বলেই মনে করেন। বরং তার এই খবরগুলো ভুয়া বলে ধরা পড়ার কারণে এখন ভালো লাগছে না। তবে পোপের খবরটা এখনো খুঁজে পাওয়া যায়। সরাসরি টুইটারের কনভারসেশনে এসব জানান তিনি।

ড্রোবোটা তার নামা পুরোপুরি জানাননি। তার বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে অনলাইনে। এগুলো একটির সঙ্গে অন্যটির সংযোগ রয়েছে। তিনি তার কয়েকটি ছবিও প্রদান করেছেন। তার ৬টি ফেবুক প্রোফাইল রয়েছে।

তিনি সাংবাদিককে অনুরোধ করেন তার নামের প্রথম অংশটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করতে। কারণ তিনি ইতিমধ্যে প্রাইভেট ফেসবুক মেসেজে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাকে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। হুমকি প্রদানকারীদের একজন অভিশাপ দিয়ে বলেছেন, তার যেন ক্যান্সার হয়।

ড্রোবোটা ফেসবুক ফিডকে রক্ষণশীল নিউড ওয়েবসাইট বলে মন্তব্য করেন। আমেরিকায় এতে প্রবেশ করেন ৩.৪ মিলিয়ন মানুষ। ফিডকে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ওয়েবসাইটের একটি বলে মনে করেন। তবে এসব মিথ্যা খবর প্রচার করে তিনি লাভবানও হয়েছেন। এখন তিনি ১০ হাজার ডলার কামাচ্ছেন প্রতিমাসে গুগল অ্যাডসেন্স থেকে।

ভুয়া খবর প্রচার করে এভাবেই পয়সা কামান পল হোমার। তবে তিনি ব্যাঙ্গাত্মক ঢংকে মিখ্যা খবর লেখেন। সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, হয়তো তার লেখা খবরের মিথ্যা শিরোনামগুলো ট্রাম্পকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। আসলে ক্যাম্পেইনের কাজে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে খবরগুলো বেশ কাজে লেগেছে ট্রাম্পের।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকার রাজনীতি বিষয়ে ১৪০টি ম্যাসাডোনিয়া-ভিত্তিক সাইট ভুয়া খবরগুলোর প্রচার ঘটাতে সহায়তা করে। এগুলো বেশিরভাগই চালান টিনএজাররা। তারা বুঝতে পারেন, এসব সাইটের ট্রাফিক বাড়াতে খবরগুলোকে ফেসবুকে প্রচার করতে হবে। এই ব্যবহারকারীরা বেশ ক্ষমতাবাদ। ফেসবুক বিভিন্নভাবে জানায়, আমেরিকার বাইরের যেকোনো ফেসবুক ব্যবহারকারীর চেয়ে আমেরিকান ব্যবহারকারীরা ৪ গুন বেশি মূল্যবান তাদের কাছে। আমেরিকায় এসব সাইটে যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তাকে একটি ক্লিকে এক পেনি দেওয়ার হিসাবটা এসব খবর প্রচারে অনেক সহায়তা করেছে।

ফেসবুক এবং গুগল উভয়ই তাদের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক পলিসি বদলে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে। ভুল খবর প্রচার রুখতে বিশেষ নীতিমালা হাতে নিচ্ছে দুই টেক জায়ান্ট।

ড্রোবোটা সাংবাদিককে জানান, ২০১৫ সালের অক্টোবরে আমি ট্রাম্প সম্পর্কে জানি। রাজনীতির বাইরের মানুষ হিসাবে তাকে ভালো লাগে আমার। তাকে পর্যবেক্ষণ করি। মনে হলো, তাকে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পেছনে যদি আমিও কিছু করতে পারি। এ কাজেই আমি বানিয়ে ফেললাম http://endingthefed.com সাইটটি। ভুয়া খবর প্রচারের জন্য আমি দুঃখিত। আমি এগুলো সরিয়ে ফেলেছি। কিন্তু যখন দিয়েছি, তখন কোনটা যে ঠিক আর কোনটা ভুল, তা মূলধারার মিডিয়ার খবর পড়ে বুঝতে পারিনি আমি।

ট্রাম্প ক্যাম্পেইনের সঙ্গে জড়িত নই আমি। আমি কেবলমাত্রা তার সমর্থক। আমি তার ভক্ত। মানুষের মাঝে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার ছিলো না। কারণ অনেক লিবারেল আমাকে বর্ণবাদী বলেছেন। কিন্তু আমি তা নই। আমার অনেক ফেসবুক মেসেজ আছে। সেখানে তারা আমাকে যথেষ্ট হয়রানি করেছেন। রাশিয়া বা উইকিলিসের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্কও নেই। আমি আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু হাফিংটন পোস্টের মতো আরো অনেক উদারনৈতিক খবর মাধ্যমগুলোও ভুয়া খবর প্রচার করে।

নিউজ ফিড এডিটিংয়ের জন্য ড্রোবোটা রোমানিয়ায় একটি ফেসবুক পেজ চালান। সেখানে তিনি নিজেকে ছয়টি ফেসবুক পেজের সিইও, প্রতিষ্ঠাতা এবং মালিক হিসাবে তুলে ধরেছেন।

তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন। কারণ গ্লোবালাইজেশন এবং ইউরোপে ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে তিনি ট্রাম্পকে ভালো বলে মনে করেছেন। তার কাছে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি গোটা বিশ্বের জন্য ভালো হবে।

তা ছাড়া এই খবরগুলো ছড়ানোর কাজটাকে খুবে বেশি অনৈতিক বলে মনে হয়নি তার কাছে। কারণ মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো এবং এর সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ডের ওপর তার কোনো ভরসা নেই। এদের বিশ্বাস করেন না ড্রোবোটা।

মূলধারার মিডিয়ার বাইরে তিনি একজন মানুষ, যিনি কারো অধীনস্ত নন। এমনটাই মনে করেন ড্রোবোটা। সূত্র: ইনক